পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর থেকেই শাসকগোষ্ঠীর রাষ্ট্রের একটি অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। শাসকগোষ্ঠীর নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয় এবং এক পর্যায়ে জনগণের প্রিয় নেতা শাসকগোষ্ঠীর কাছে কিছু দাবি উত্থাপন করেন।
- ক)(1)
ছয়দফার প্রথম দফা উল্লেখ কর।
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট কেন গঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন প্রাদেশিক নির্বাচনের সাদৃশ্য আছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনের বিজয় ছিল মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদের বিজয় - বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ছয়দফার প্রথম দফা হলো— ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেল বা যুক্তরাষ্ট্ররূপে গড়ে তুলতে হবে এবং শাসনতান্ত্রিক কাঠামো হবে সংসদীয় পদ্ধতির, যেখানে সার্বভৌমত্ব থাকবে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচিত আইনসভার হাতে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পূর্ব বাংলায় পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তথা মুসলিম লীগের অপশাসন, শোষণ ও দমন-পীড়ন থেকে জনগণকে মুক্ত করতে এবং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য হিসেবে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বাঙালি জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও স্বায়ত্তশাসনের ওপর চরম আঘাত হানে। ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম লীগ সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মওলানা ভাসানী, এ কে ফজলুল হক এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে প্রধান প্রধান বিরোধী দল একত্র হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটের সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'ক' রাষ্ট্রে শাসকগোষ্ঠীর একটি অঞ্চলের জনগণের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ এবং শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চিত্র দেখা যায়। একইভাবে, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) বাঙালি জনগণের ওপর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে বিমাতাসুলভ আচরণ শুরু করে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা, চরম অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং মৌলিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদে পূর্ব বাংলার জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়।
এই গণঅসন্তোষের ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে এবং ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ২১ দফা দাবির ভিত্তিতে এক ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। তাই উদ্দীপকের ঘটনাটি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক নির্বাচনের সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নির্বাচনটি হলো ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের প্রাদেশিক নির্বাচন। এ নির্বাচনের বিজয় ছিল মূলত বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক ও সুসংহত রাজনৈতিক বিজয়—উক্তিটি যথার্থ।
১. মুসলিম লীগের পরাজয়: পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মূল কাণ্ডারি দল মুসলিম লীগ ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু বাঙালি জনগণ ২১ দফার পক্ষে রায় দিয়ে মুসলিম লীগকে বিপুল ভোটে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে। এটি প্রমাণ করে যে ধর্মের ভিত্তিতে নয়, ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে বাঙালিরা নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছে।
২. স্বাধিকার চেতনার বিকাশ: যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো '২১ দফা' ছিল মূলত বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধিকারের সনদ। এর মধ্যে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি দাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল। নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিপুল বিজয় বাঙালির নিজস্ব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্ব রক্ষার দাবিকে সুদৃঢ় করে।
৩. পরবর্তী আন্দোলনের ভিত্তি: ১৯৫৪ সালের এই বিজয় বাঙালি জাতির মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগ্রত করে, যা পরবর্তীকালে ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬-র ছয়দফা, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
অতএব, ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনী বিজয় মূলত ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদেরই বিজয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও