যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৪

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

উদ্দীপক-১: মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী।উদ্দীপক-২: ড. জি. সি. দেব ১৯০৭ খ্রিঃ ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন দয়ালু, দানবীর ও পরোপকারী।

  1. ক)

    বিধেয়ক কত প্রকার?

    (1)
  2. খ)

    বিধেয় ও বিধেয়ক এক নয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপক-১ এ 'বুদ্ধিবৃত্তি' দ্বারা যে বিধেয়কের নির্দেশ করে তার ব্যাখ্যা দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপক-২ এ নির্দেশিত বিধেয়কদ্বয় পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দার্শনিক পোরফিরির মতে বিধেয়ক ৫ (পাঁচ) প্রকার। যথা: জাতি, উপজাতি, বিভেদক লক্ষণ, উপলক্ষণ এবং অবান্তর লক্ষণ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বিধেয় এবং বিধেয়ক এক নয় কারণ তাদের প্রকৃতি ভিন্ন। যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য পদ সম্পর্কে যা কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, তাকে 'বিধেয়' বলে; এটি একটি পদ। অন্যদিকে, একটি সদর্থক যুক্তিবাক্যে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদের মধ্যকার যে সম্বন্ধ বা সম্পর্ক বিরাজ করে, তাকে 'বিধেয়ক' বলে। বিধেয় একটি বাস্তব শব্দ বা পদ যা একাকী ব্যবহৃত হতে পারে, কিন্তু বিধেয়ক হলো উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের মধ্যকার একটি বিমূর্ত যৌক্তিক সম্পর্ক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক-১ এ 'বুদ্ধিবৃত্তি' দ্বারা 'বিভেদক লক্ষণ' (Differentia) নামক বিধেয়ককে নির্দেশ করে।

    যে গুণ বা গুণাবলি একই জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতিকে অন্যান্য সমকক্ষ উপজাতি থেকে পৃথক করে, তাকে বিভেদক লক্ষণ বা লক্ষণ বলে।

    উদ্দীপক-১ এর বাক্যটি হলো: 'মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন প্রাণী।' এখানে 'মানুষ' হলো উদ্দেশ্য (উপজাতি) এবং 'প্রাণী' হলো জাতি। 'প্রাণী' জাতির অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য উপজাতি (যেমন: গরু, ঘোড়া, বাঘ ইত্যাদি) থেকে মানুষকে পৃথক করেছে 'বুদ্ধিবৃত্তি' নামক গুণটি। বুদ্ধিবৃত্তি হলো মানুষের এমন একটি মৌলিক আবশ্যিক গুণ (যাত্যর্থের অংশ), যা মানুষকে অপরাপর প্রাণী শ্রেণি থেকে আলাদা একটি স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করে। অতএব, উদ্দীপকে 'বুদ্ধিবৃত্তি' গুণটি মানুষ পদের বিভেদক লক্ষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপক-২ এ নির্দেশিত বিধেয়কদ্বয় হলো: 'ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ' এবং 'ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ'।

    যে গুণ কোনো পদের যাত্যর্থ বা যাত্যর্থজাত নয়, অথচ কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে যুক্ত থাকে, তাকে অবান্তর লক্ষণ বলে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে এটি দুই প্রকার হতে পারে:

    ১. ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অবান্তর লক্ষণ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে কখনোই পৃথক বা পরিবর্তিত করা যায় না, তাকে ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে বর্ণিত 'ড. জি. সি. দেব ১৯০৭ খ্রিঃ ১ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন'—এই জন্মতারিখ ও জন্মসাল তাঁর একটি ব্যক্তিগত অবিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ। কারণ একজন ব্যক্তির জন্মতারিখ কখনোই পরিবর্তনযোগ্য বা বিচ্ছেদ্য নয়।

    ২. ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ: যে অবান্তর লক্ষণ কোনো ব্যক্তির সাথে সবসময় স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকে না এবং ইচ্ছা বা পরিবেশভেদে পরিবর্তিত বা বিচ্ছিন্ন হতে পারে, তাকে ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ বলে। উদ্দীপকে ড. দেবের 'দয়ালু, দানবীর ও পরোপকারী' গুণাবলি উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো মানুষের যাত্যর্থও নয় এবং ব্যক্তির ক্ষেত্রে চিরস্থায়ী বা অবিচ্ছেদ্য নাও হতে পারে। কোনো কারণে বা পরিস্থিতিতে এ মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটতে পারে। ফলে এগুলো ব্যক্তিগত বিচ্ছেদ্য অবান্তর লক্ষণ।

    অতএব, উদ্দীপক-২ এ ব্যক্তিগত অবান্তর লক্ষণের উভয় রূপ (অবিচ্ছেদ্য ও বিচ্ছেদ্য) যথাযথভাবে নির্দেশিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন