অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

“A” দেশের একটি মেগা প্রকল্পে প্রাক্কলিত ব্যয়ের প্রায় ৪০% অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে JICA, ADB ও বিশ্ব ব্যাংক। অবশিষ্ট ব্যয় নির্বাহের জন্য বাজেট উদ্বৃত্ত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, সরকারি বন্ড বিক্রয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি দাতারা বিভিন্ন শর্ত আরোপ করায় প্রকল্পটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

  1. ক)

    পরোক্ষ কর কি?

    (1)
  2. খ)

    কর কিভাবে জনকল্যাণ বাড়ায়?

    (2)
  3. গ)

    উল্লিখিত উদ্দীপক থেকে প্রকল্প ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস গুলো পৃথক কর এবং ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দুটি উৎসের মধ্যে কোনটি বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল জনক? ব্যাখ্যা কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে করের ভার করদাতা অন্য কোনো ব্যক্তির ওপর স্থানান্তর করতে পারে, তাকে পরোক্ষ কর বলে (যেমন—ভ্যাট, বিক্রয় কর, শুল্ক ইত্যাদি)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    সরকার করের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্ব দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করে। এর ফলে জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং সার্বিক জনকল্যাণ বৃদ্ধি পায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বর্ণিত মেগা প্রকল্পের অর্থায়নে দুই ধরণের উৎস ব্যবহার করা হয়েছে: বৈদেশিক উৎস এবং অভ্যন্তরীণ উৎস।

    ১. বৈদেশিক উৎস: উদ্দীপকে উল্লিখিত JICA (জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা), ADB (এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক) ও বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ৪০% অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি হলো প্রকল্প ব্যয়ের বৈদেশিক উৎস। এটি মূলত বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার অংশ।

    ২. অভ্যন্তরীণ উৎস: প্রকল্পের অবশিষ্ট ৬০% ব্যয় নির্বাহের জন্য বাজেট উদ্বৃত্ত, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার এবং সরকারি বন্ড বিক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রকল্প ব্যয়ের অভ্যন্তরীণ উৎস। এর মধ্যে বাজেট উদ্বৃত্ত হলো সরকারি রাজস্বের অভ্যন্তরীণ উৎস এবং সঞ্চয়পত্র ও বন্ড বিক্রয় হলো সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ বা মূলধন সংগ্রহের মাধ্যম।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎসের মধ্যে সামগ্রিক বিবেচনায় 'অভ্যন্তরীণ উৎস' বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অধিক মঙ্গলজনক ও টেকসই।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, বিদেশি দাতারা বিভিন্ন শর্ত আরোপ করায় প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সাধারণত বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক শর্ত যুক্ত থাকে, যা দেশের নীতি নির্ধারণের স্বাধীনতাকে সীমিত করে। এছাড়া বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের ঝুঁকি, সুদের বোঝা ও দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বহির্গমনের ঝুঁকি থাকে।

    পক্ষান্তরে, অভ্যন্তরীণ উৎসের (যেমন—বাজেট উদ্বৃত্ত, সরকারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র ইত্যাদি) মাধ্যমে অর্থায়ন করলে কোনো বৈদেশিক শর্তের অধীন হতে হয় না। নিজস্ব সক্ষমতায় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন (যেমন বাংলাদেশের পদ্মা সেতু) জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলে। এতে দেশের অর্থ দেশেই থাকে এবং মুদ্রার অবমূল্যায়নের ঝুঁকি থাকে না।

    যদিও বড় মেগা প্রকল্পে তাৎক্ষণিক বিপুল অর্থের জন্য কিছু ক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তার প্রয়োজন পড়ে, তথাপি পরনির্ভরশীলতা মুক্ত হয়ে দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত বজায় রেখে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ উৎসই অধিক কল্যাণকর।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন