যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭

যুক্তিবিদ্যা ২য় পত্র প্রশ্ন

নিচের উদ্দীপকের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও: আসাদ বলল, 'আমি আম কিনে প্রায়ই ঠকি। তাই সেদিন আমি প্রত্যেকটি আমের স্বাদ পরীক্ষা করে কিনলাম।' মমিন একটি ভিন্ন প্রসঙ্গের অবতারণা করে বলল, 'যেহেতু একটি ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ। সুতরাং দুনিয়ার সকল ত্রিভুজের তিনকোণের সমষ্টি দুই সমকোণ।'

  1. ক)

    আরোহাত্মক লম্ফ কী?

    (1)
  2. খ)

    পূর্ণাঙ্গ আরোহকে কেন অপ্রকৃত আরোহ বলা হয়?

    (2)
  3. গ)

    মমিনের বক্তব্যে কোন আরোহের প্রকাশ ঘটেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    আসাদের বক্তব্যে যে আরোহের প্রকাশ ঘটেছে তার সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য দেখাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    জানা থেকে অজানায়, নিরীক্ষিত থেকে অনিরীক্ষিতে কিংবা বিশেষ সত্য থেকে সার্বিক সত্যে উত্তরণ বা পদার্পণ করার মানসিক প্রক্রিয়াকে আরোহাত্মক লম্ফ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    পূর্ণাঙ্গ আরোহে কোনো সার্বিক যুক্তিবাক্যের আওতাভুক্ত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ অভিজ্ঞতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত টানা হয়। ফলে এতে জানা থেকে অজানায় উত্তরণের যে প্রক্রিয়া— অর্থাৎ আরোহাত্মক লম্ফ— তা একেবারেই অনুপস্থিত থাকে। আরোহের এই মূল লক্ষণ বিদ্যমান না থাকার কারণে যুক্তিবিদরা পূর্ণাঙ্গ আরোহকে অপ্রকৃত আরোহ হিসেবে গণ্য করেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মমিনের বক্তব্যে অপ্রকৃত আরোহের প্রকারভেদ হিসেবে 'যুক্তিসাম্যমূলক আরোহের' (Induction by Parity of Reasoning) প্রকাশ ঘটেছে।

    যে অনুমানে কোনো একটি বিশেষ দৃষ্টান্তে কোনো সত্য প্রমাণিত হলে সেই একই যুক্তিবলে ওই জাতীয় সমরূপ সকল দৃষ্টান্তের ক্ষেত্রেই তা সত্য বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়, তাকে যুক্তিসাম্যমূলক আরোহ বলে।

    উদ্দীপকে মমিন বলেছে, 'যেহেতু একটি ত্রিভুজের তিন কোণের সমষ্টি দুই সমকোণ। সুতরাং দুনিয়ার সকল ত্রিভুজের তিনকোণের সমষ্টি দুই সমকোণ।' এটি জ্যামিতিক প্রমাণের মতো একটিমাত্র দৃষ্টান্তের সত্যতা প্রমাণের যুক্তিবলে সমজাতীয় সকল দৃষ্টান্তের জন্য সার্বিক সিদ্ধান্ত স্থাপন করেছে। এখানে কোনো আরোহাত্মক লম্ফ বা বাস্তব নিরীক্ষণ ছাড়াই কেবল যুক্তিসাম্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত টানা হয়েছে। তাই মমিনের বক্তব্যটি যুক্তিসাম্যমূলক আরোহকে নির্দেশ করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে আসাদের বক্তব্যে যে আরোহের প্রকাশ ঘটেছে তা হলো 'পূর্ণাঙ্গ আরোহ' (Perfect Induction), কারণ আসাদ আম কেনার সময় প্রতিটি আমের স্বাদ আলাদাভাবে পরীক্ষা করে সার্বিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিচে পূর্ণাঙ্গ আরোহের সাথে বৈজ্ঞানিক আরোহের পার্থক্য আলোচনা করা হলো:

    ১. দৃষ্টান্তের সংখ্যা নিরীক্ষণ: পূর্ণাঙ্গ আরোহে একটি সার্বিক শ্রেণির অন্তর্গত প্রতিটি বিশেষ দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষভাবে গণনা বা নিরীক্ষণ করা হয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক আরোহে কেবল কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত নিরীক্ষণ করে সিদ্ধান্ত টানা হয়।

    ২. আরোহমূলক লম্ফ: বৈজ্ঞানিক আরোহে আরোহমূলক লম্ফ বা জানা থেকে অজানায় পদার্পণ বিদ্যমান থাকে, যা আরোহের প্রাণ। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ আরোহে সব দৃষ্টান্ত জানা থাকে বলে কোনো আরোহমূলক লম্ফ থাকে না।

    ৩. নিয়মের ওপর নির্ভরতা: বৈজ্ঞানিক আরোহ প্রকৃতির একরূপতা নীতি ও কার্যকারণ নিয়মের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে, পূর্ণাঙ্গ আরোহ শুধুমাত্র প্রত্যক্ষ গণনা বা গণনামূলক অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল; কার্যকারণ নিয়মের সাথে এর সম্পর্ক নেই।

    ৪. সিদ্ধান্তের রূপ ও নিশ্চিতি: পূর্ণাঙ্গ আরোহের সিদ্ধান্ত নিশ্চিত সত্য, কারণ এখানে প্রতিটি দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করা হয়। তবে এতে নতুন জ্ঞানের সূচনা হয় না। অপরদিকে, বৈজ্ঞানিক আরোহের সিদ্ধান্ত সার্বিক সংশ্লেষক যুক্তিবাক্য এবং এতে মৌলিক নতুন জ্ঞান প্রকাশ পায়।

    সুতরাং, বৈজ্ঞানিক আরোহ একটি প্রকৃত আরোহ হলেও আসাদের বক্তব্য নির্দেশিত পূর্ণাঙ্গ আরোহ মূলত অপ্রকৃত আরোহের অন্তর্ভুক্ত।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন