বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০২৩
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বৃত্তাকারে দাঁড়ানো মিলিটারির মাঝখানে হাত-পা বাঁধা কালামকে টানতে টানতে এনে দাঁড় করানো হলো। কালামের নাক-মুখ থেকে রক্ত ঝরছে। তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, মুক্তিবাহিনী কোথায় পালিয়ে গেছে? তিনি ঠিক করলেন, কিছুই বলবেন না। বন্দুকের নলটা কপালের ঠিক মাঝখানটায় ধরা হলো। তিনি বললেন, 'আমার মতো সাধারণ কালামের মৃত্যুতে কিছু এসে যায় না। কিন্তু মুক্তিফৌজদের জীবনের দাম আছে। মুক্তিফৌজ না বাঁচলে তোমাদের মারবে কে?' গুলিটা কপাল ভেদ করে বেরিয়ে যায়।
- ক)(1)
'রেইনকোট' গল্পে ইসহাক কে?
- খ)(2)
'রাশিয়ায় ছিল জেনারেল উইনটার, আমাদের জেনারেল মনসুন।'- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত মিলিটারির নিপীড়নের দৃশ্যটি 'রেইনকোট' গল্পের সঙ্গে তুলনা করো।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের কালাম ও 'রেইনকোট' গল্পের নূরুল হুদার মতো সাধারণ ব্যক্তিরাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণা।"- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'রেইনকোট' গল্পে ইসহাক হলেন ঢাকা কলেজের পিয়ন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটির মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের বর্ষাকাল বা বৃষ্টি কীভাবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের একটি বড় সহায়ক শক্তিতে পরিণত হয়েছিল, তা বোঝানো হয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার প্রচণ্ড শীত ('জেনারেল উইনটার') যেমন আক্রমণকারী হিটলারের নাৎসি বাহিনীকে কাবু করে তাদের পরাজয় ত্বরান্বিত করেছিল, তেমনি বাংলাদেশের বর্ষাকাল বা মনসুন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এদেশের নদ-নদী, খাল-বিল বর্ষায় প্লাবিত হয়ে পড়ায় পাকিস্তানি সেনারা চলাচল ও অভিযানে চরম বিপাকে পড়ত। অথচ গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা এই বর্ষাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহজেই পর্যুদস্ত করতে পারত। এ কারণেই বর্ষাকে মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম মিত্র বা 'জেনারেল মনসুন' বলা হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত মিলিটারির নিপীড়নের দৃশ্যটি 'রেইনকোট' গল্পে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পৈশাচিক নির্যাতন ও জেরা করার বাস্তব চিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'রেইনকোট' গল্পে দেখা যায়, কলেজের আলমারি চুরির ঘটনায় মিসক্রিয়েন্ট বা মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যোগসাজশের সন্দেহে নিরীহ প্রভাষক নূরুল হুদাকে মিলিটারি ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিয়ে নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। তাঁকে দড়িতে ঝুলিয়ে চাবুক মারা হয় এবং মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আস্তানা ও তাদের পরিচয় প্রকাশ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
উদ্দীপকেও একইভাবে দেখা যায়, পাকিস্তানি সেনারা হাত-পা বেঁধে সাধারণ কালামের ওপর পৈশাচিক অত্যাচার চালায়, যাতে তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। তাকেও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান চেয়ে জেরা করা হয় এবং কপালে বন্দুকের নল ঠেকিয়ে চূড়ান্ত নিপীড়ন করা হয়। উভয় ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি বাহিনীর সাধারণ মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতন এবং মুক্তিবাহিনী সম্পর্কে তথ্য আদায়ের নির্মম প্রচেষ্টা সমান্তরালভাবে ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"উদ্দীপকের কালাম ও 'রেইনকোট' গল্পের নূরুল হুদার মতো সাধারণ ব্যক্তিরাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রেরণা"—মন্তব্যটি অত্যন্ত যথার্থ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কেবল সশস্ত্র মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখসমরে লড়াই করেননি, বরং এদেশের আপামর সাধারণ জনতা নিজ নিজ অবস্থান থেকে বীরত্ব ও আত্মত্যাগের পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। 'রেইনকোট' গল্পের সাধারণ ও ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক নূরুল হুদা শ্যালক মিন্টুর ফেলে যাওয়া রেইনকোট গায়ে দিয়ে অদ্ভুত এক আত্মিক সাহস ও দেশপ্রেমের সঞ্চার অনুভব করেন। পাকিস্তানি মিলিটারি তাঁকে নির্মম নির্যাতন করে ঝুলিয়ে পেটালেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য প্রকাশ করেননি, বরং চাবুকের প্রতিটি আঘাতকে তাঁর কাছে বৃষ্টির মতো নমনীয় মনে হয় এবং তিনি নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধার মতোই গর্বিত অনুভব করেন।
উদ্দীপকের কালামও একজন নিতান্ত সাধারণ মানুষ। পাকিস্তানি হানাদাররা যখন বন্দুকের নল তার কপালে ঠেকিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান জানতে চায়, তখন সে নিজের জীবনের মায়াকে তুচ্ছ করে নির্ভীক চিত্তে বলে—'আমার মতো সাধারণ কালামের মৃত্যুতে কিছু এসে যায় না। কিন্তু মুক্তিফৌজদের জীবনের দাম আছে।' সে নিজের জীবন উৎসর্গ করে মুক্তিযোদ্ধাদের রক্ষা করে।
নূরুল হুদা এবং কালাম উভয়েই কোনো প্রশিক্ষিত যোদ্ধা নন, কিন্তু চরম সংকটের মুখে মৃত্যুভয়কে জয় করে তাঁরা অসীম দেশপ্রেমের পরিচয় দিয়েছেন। এই ধরনের সাধারণ মানুষের অপরিসীম ত্যাগ ও নীরব আত্মোৎসর্গই মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ের শক্তি ও সাহস জুগিয়েছিল। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, কালাম ও নূরুল হুদার মতো সাধারণ ব্যক্তিরাই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান প্রেরণা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও