রসায়ন ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৩
রসায়ন ১ম পত্র প্রশ্ন
আখের রস →30∘C এ আর্দ্রবিশ্লেষণ?A→?B\xrightarrow[30^\circ\text{C এ আর্দ্রবিশ্লেষণ}]{?} \text{A} \xrightarrow{?} \text{B}→অ্যাসিটোব্যাকটর?C\xrightarrow[\text{অ্যাসিটোব্যাকটর}]{?} \text{C} (খাদ্য সংরক্ষক)
- ক)(1)
অবস্থান্তর মৌল কাকে বলে?
- খ)(2)
চিকিৎসা ক্ষেত্রে IR রশ্মি ব্যবহৃত হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে ‘C’ উৎপাদনের ধাপসমূহ বিক্রিয়ার সমীকরণসহ ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
খাদ্য সংরক্ষণে ‘C’ এর গুরূত্বসহ কৌশল বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যেসব d-ব্লক মৌলের অন্তত একটি সুস্থিত আয়নে d-অরবিটাল ইলেকট্রন দ্বারা অপূর্ণ (d¹ থেকে d⁹) থাকে, তাদেরকে অবস্থান্তর মৌল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিকিৎসা ক্ষেত্রে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি, পেশির ব্যথা ও প্রদাহ উপশম এবং টিস্যু পুনর্গঠনে অবলোহিত বা IR রশ্মি ব্যবহৃত হয়। IR রশ্মির তরঙ্গদৈর্ঘ্য বেশি হওয়ায় এটি ত্বকের অভ্যন্তরীণ কলা বা টিস্যুতে সহজে প্রবেশ করতে পারে এবং তাপীয় অনুভূতি সৃষ্টি করে। এই তাপীয় প্রভাবে রক্তনালী প্রসারিত হয়ে আক্রান্ত স্থানে রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ বাড়ে এবং দ্রুত নিরাময় সাধিত হয়। বিশেষ করে ফিজিওথেরাপিতে নিয়ার ও মিড-আইআর রশ্মি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের খাদ্য সংরক্ষক 'C' হলো ইথানয়িক এসিড বা ভিনেগার (CH₃COOH)। আখের রস (সুক্রোজ) থেকে ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় 'C' উৎপাদনের ধাপসমূহ নিম্নরূপ:
১ম ধাপ: আখের রসে থাকা সুক্রোজকে ইস্ট নিঃসৃত ইনভার্টেজ এনজাইমের উপস্থিতিতে প্রায় 30°C তাপমাত্রায় আর্দ্রবিশ্লেষিত করলে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মিশ্রণ 'A' তৈরি হয়:
C₁₂H₂₂O₁₁ + H₂O —(ইনভার্টেজ, 30°C)→ C₆H₁₂O₆ (গ্লুকোজ) + C₆H₁₂O₆ (ফ্রুক্টোজ)২য় ধাপ: উৎপন্ন গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ ইস্ট থেকে নিঃসৃত জাইমেজ এনজাইমের প্রভাবে সন্ধান প্রক্রিয়ায় ইথানল 'B' এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তরিত হয়:
C₆H₁₂O₆ —(জাইমেজ, 20-30°C)→ 2 CH₃CH₂OH (B) + 2 CO₂৩য় ধাপ: প্রস্তুতকৃত লঘু ইথানল দ্রবণকে অ্যাসিটোব্যাকটর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে এবং বাতাসের অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত করলে ইথানয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড 'C' উৎপন্ন হয়:
CH₃CH₂OH + O₂ —(অ্যাসিটোব্যাকটর)→ CH₃COOH (C) + H₂Oউৎপন্ন এ অ্যাসিটিক এসিডের 6-10% জলীয় দ্রবণই ভিনেগার হিসেবে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'C' যৌগটি হলো ইথানয়িক এসিড বা অ্যাসিটিক এসিড (CH₃COOH), যার 6-10% জলীয় দ্রবণ ভিনেগার নামে পরিচিত। খাদ্য সংরক্ষণে এর গুরুত্ব ও কার্যকৌশল নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. pH হ্রাসকরণ ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ:
ভিনেগার একটি মৃদু জৈব এসিড। এটি খাদ্যে যোগ করলে খাদ্যের pH হ্রাস পায় (সাধারণত pH 3.5 থেকে 4.0 এ নেমে আসে)। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও অণুজীবসমূহ সাধারণত নিরপেক্ষ বা মৃদু ক্ষারীয় মাধ্যমে (pH 6.5 - 7.5) সবচেয়ে ভালো বংশবৃদ্ধি করে। অম্লীয় পরিবেশে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ব্যাহত ও প্রতিহত হয়।২. ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর ভেদ ও প্রোটোপ্লাজম বিনষ্টকরণ:
CH₃COOH একটি দুর্বল এসিড হওয়ায় এর বিয়োজন আংশিক ঘটে। ফলে এর অবিয়োজিত অণুগুলো ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীর সহজে ভেদ করে কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এটি প্রোটন (H⁺) এবং অ্যাসিটেট আয়নে (CH₃COO⁻) বিয়োজিত হয়। ফলে অন্তঃকোষীয় pH দ্রুত হ্রাস পায়। এতে ব্যাকটেরিয়ার এনজাইম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, কোষের প্রোটিন বিকৃত হয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়।৩. আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ ও খাদ্যের স্বাদ বৃদ্ধি:
ভিনেগার খাদ্যকে জারণজনিত পচন থেকে রক্ষা করে এবং খাদ্যের পুষ্টিমান ও স্বাদ অটুট রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। আচার, সস, প্রক্রিয়াজাত মাংস ইত্যাদি সংরক্ষণে এটি নিরাপদ ও কার্যকর অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রিজারভেটিভ হিসেবে কাজ করে।সুতরাং, খাদ্যের স্থায়িত্ব বাড়ানো ও ক্ষতিকর অণুজীবের আক্রমণ প্রতিহত করতে ভিনেগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও