সমাজকর্ম ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮
সমাজকর্ম ২য় পত্র প্রশ্ন
বিয়ের পর অনেক আশা করে রিমি শ্বশুরবাড়ি এসেছিল। তার স্বামী গাঁজা আর ফেনসিডিল ব্যবসার সাথে জড়িত। প্রায়ই সে নেশাগ্রস্ত হয়ে রাতে এসে রিমির উপর ভীষণ অত্যাচার নির্যাতন চালায়।
- ক)(1)
আইনানুযায়ী এ দেশের মেয়েদের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স কত?
- খ)(2)
সামাজিক আইন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
স্বামীর অত্যাচার নির্যাতনের জন্য সুবিচার পেতে যে আইনের সাহায্য রিমি গ্রহণ করতে পারে তার প্রধান ধারা বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
রিমির অত্যাচারী স্বামীর ব্যবসার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রযোজ্য আইনের কার্যকারিতা বাংলাদেশের সাপেক্ষে। মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
আইনানুযায়ী এ দেশে মেয়েদের বিবাহের সর্বনিম্ন বয়স ১৮ বছর।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সামাজিক আইন হলো সমাজকল্যাণ ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত রাষ্ট্রীয় আইনের একটি সমষ্টি, যা সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত আচার-আচরণ দূরীকরণ, সামাজিক শোষণ-বঞ্চনা নিরসন এবং দুর্বল ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কাজ করে। এটি সমাজসংস্কার ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্বামীর অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সুবিচার পেতে রিমি 'পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০' অথবা 'নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)'-এর আশ্রয় গ্রহণ করতে পারে। পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর প্রধান ধারাগুলো নিচে বর্ণনা করা হলো:
১. পারিবারিক সহিংসতার সংজ্ঞা: শারীরিক, মানসিক, যৌন কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষতি বা নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২. সুরক্ষার আবেদন ও আদেশ: ভুক্তভোগী নারী নিজের বা তাঁর পক্ষে কোনো কর্মকর্তা সুরক্ষা আদেশ (Protection Order), বাসস্থান আদেশ এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ পাওয়ার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে পারেন।
৩. নিরাপদ আশ্রয় ও চিকিৎসা সহায়তা: ভুক্তভোগী নারীকে সুরক্ষা প্রদানকারী কর্মকর্তা বা সেবাপ্রদানকারী সংস্থার মাধ্যমে চিকিৎসা এবং নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৪. শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ: সুরক্ষা আদেশ লঙ্ঘন করলে অপরাধীর জেল, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রিমির অত্যাচারী স্বামীর মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রযোজ্য আইন হলো 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০' (বা হালনাগাদ 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮')। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই আইনের কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও এর প্রয়োগে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে:
১. কঠোর শাস্তির বিধান: এ আইনে গাঁজা, ফেনসিডিলসহ যে কোনো অবৈধ মাদকদ্রব্য উৎপাদন, বিক্রয়, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। ফলে আইনটির মাধ্যমে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
২. সামাজিক সুরক্ষা: এ আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধ করা গেলে পারিবারিক অশান্তি, নির্যাতন ও ভাঙন অনেকাংশেই কমে আসে।
৩. প্রয়োগগত সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শিথিলতা, মাদক সিন্ডিকেটের প্রভাবশালী যোগাযোগ, পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব এবং দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার কারণে আইনের সম্পূর্ণ সুফল পাওয়া অনেক সময় বাধাগ্রস্ত হয়।পরিশেষে বলা যায়, আইনের কঠোর ধারা থাকা সত্ত্বেও সমন্বিত নজরদারি, সামাজিক সচেতনতা এবং আইনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত প্রয়োগের মাধ্যমেই এর প্রকৃত কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও