জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
উপযোজন কী?
- খ)(2)
পিটুইটারি গ্রন্থিকে প্রভুগ্রন্থি বলা হয় কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটির গঠন বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্রটি কিভাবে শ্রবণে ভূমিকা পালন করে- বিশ্লেষ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
স্থান পরিবর্তন না করে চোখের লেন্সের বক্রতা ও ফোকাস দূরত্বের পরিবর্তনের মাধ্যমে যেকোনো দূরত্বে অবস্থিত বস্তুর স্পষ্ট প্রতিবিম্ব রেটিনায় গঠিত হওয়ার স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়াকে উপযোজন (Accommodation) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে এমন অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ হরমোন (যেমন- TSH, ACTH, FSH, LH ইত্যাদি বা ট্রপিক হরমোন) নিঃসৃত হয়, যা মানবদেহের অন্যান্য প্রধান অনাল বা অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির (যেমন- থাইরয়েড, অ্যাড্রেনাল, জননগ্রন্থি) ক্ষরণ ও সার্বিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির উপর এই সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণমূলক ভূমিকার কারণেই পিটুইটারি গ্রন্থিকে 'প্রভুগ্রন্থি' বা 'মাস্টার গ্ল্যান্ড' (Master gland) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' অংশটি হলো অন্তঃকর্ণের ইউট্রিকুলাস অংশের সাথে যুক্ত 'অর্ধবৃত্তাকার নালি' (Semicircular canal)। এর গঠন নিম্নরূপ:
১. সংখ্যা ও বিন্যাস: মানুষের প্রতিটি অন্তঃকর্ণে তিনটি অর্ধবৃত্তাকার নালি থাকে। এগুলো পরস্পরের সাথে সমকোণে অবস্থান করে; দুটি নালি উল্লম্ব বা খাড়াভাবে এবং একটি অনুভূমিকভাবে সজ্জিত থাকে।
২. অ্যাম্পুলা: প্রতিটি নালির এক প্রান্ত কিছুটা স্ফীত হয়ে থলির মতো আকার ধারণ করে, যাকে অ্যাম্পুলা (Ampulla) বলে।
৩. ক্রিস্টা: অ্যাম্পুলার অভ্যন্তরে সংবেদী রোমযুক্ত কোষ ও সহায়ক কোষ নিয়ে গঠিত সংবেদী অঙ্গ থাকে, একে ক্রিস্টা (Crista ampullaris) বলে। এই রোম কোষগুলো কিউপোলা (Cupula) নামক একটি জেলাটিনাস স্তরে প্রোথিত থাকে।
৪. তরল পদার্থ: অর্ধবৃত্তাকার নালিগুলো মেমব্রেনাস ল্যাবিরিন্থের অংশ হওয়ায় এদের ভেতরে এন্ডোলিম্ফ (Endolymph) নামক তরল পদার্থ পূর্ণ থাকে এবং এদের বাইরে পেরিলিম্ফ নামক তরল থাকে।
এই নালিগুলো মূলত দেহের চলন ও ঘূর্ণনজনিত ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রটি হলো মানবদেহের অন্তঃকর্ণ (Internal Ear), যা শ্রবণে কেন্দ্রীয় ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে এর শ্রবণ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করা হলো:
১. শব্দতরঙ্গ গ্রহণ ও প্রেরণ: পরিবেশ থেকে শব্দতরঙ্গ বহিঃকর্ণের পিনা দ্বারা সংগৃহীত হয়ে বহিঃকর্ণকুহর দিয়ে কর্ণপটহে (টিমপেনিক পর্দা) আঘাত হানে। ফলে পর্দায় কম্পন সৃষ্টি হয়।
২. মধ্যকর্ণে বিবর্ধন: এ কম্পন মধ্যকর্ণের তিনটি ক্ষুদ্র অস্থি—ম্যালিয়াস, ইনকাস ও স্টেপিসের মাধ্যমে বিবর্ধিত হয়ে অন্তঃকর্ণের ফেনেস্ট্রা ওভালিসে পৌঁছায়।
৩. অন্তঃকর্ণে স্নায়ু উদ্দীপনা সৃষ্টি:- ফেনেস্ট্রা ওভালিসের কম্পন অন্তঃকর্ণের ককলিয়া (Cochlea)-র স্কালা ভেস্টিবুলির পেরিলিম্ফে তরল তরঙ্গ তৈরি করে।
- এই তরল তরঙ্গ রেইসনার্স পর্দাকে আন্দোলিত করে স্কালা মিডিয়ার এন্ডোলিম্ফে প্রবাহিত হয় এবং ব্যাসিলার পর্দাকে কাঁপিয়ে তোলে।
- ব্যাসিলার পর্দায় অবস্থিত সংবেদনশীল 'অর্গান অব কর্টি' (Organ of Corti)-র চুল বা সংবেদী রোমগুলো টেকটোরিয়াল পর্দার সাথে ঘষা খায়।
- এর ফলে সংবেদী কোষে উদ্দীপনা বা অ্যাকশন পটেনশিয়াল সৃষ্টি হয়।
৪. মস্তিষ্কে অনুভূতি গ্রহণ: উৎপন্ন স্নায়ু উদ্দীপনা অডিটরি স্নায়ুর (৮ম করোটিক স্নায়ু) মাধ্যমে মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের শ্রবণ কেন্দ্রে প্রেরিত হয় এবং মস্তিষ্ক তা বিশ্লেষণ করে শব্দ হিসেবে শ্রবণ অনুভূতি তৈরি করে। অতিরিক্ত কম্পন ফেনেস্ট্রা রোটান্ডা দিয়ে প্রশমিত হয়।
সুতরাং, উদ্দীপকের চিত্রটি (প্রধানত ককলিয়া ও অর্গান অব কর্টি) শব্দতরঙ্গকে স্নায়বিক উদ্দীপনায় রূপান্তর করে শ্রবণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও