জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
স্পাইসিং কী?
- খ)(2)
রাইবোসোমকে কেন প্রোটিন ফ্যাক্টরী বলা হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'C' অণুটির ভৌত গঠন বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে 'C' থেকে 'D' তৈরির চূড়ান্ত পরিণতি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাক-mRNA (pre-mRNA) থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ বা ইন্ট্রনসমূহ কেটে বাদ দিয়ে প্রয়োজনীয় অংশ বা এক্সনগুলোকে পরস্পর যুক্ত করে কার্যকরী mRNA তৈরির প্রক্রিয়াকে স্প্লাইসিং (Splicing) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাইবোসোম হলো কোষের পর্দাবিহীন ক্ষুদ্রাঙ্গাণু, যার প্রধান কাজ হলো অ্যামিনো অ্যাসিডগুলোকে পেপটাইড বন্ধন দ্বারা যুক্ত করে পলিপেপটাইড বা প্রোটিন সংশ্লেষণ করা। মেসেঞ্জার আরএনএ (mRNA)-র সংকেত অনুযায়ী ট্রান্সলেশন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরির মূল কারখানা হিসেবে রাইবোসোম কাজ করে বলেই একে কোষের 'প্রোটিন ফ্যাক্টরি' বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'C' অণুটি হলো DNA (ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড)। ওয়াটসন ও ক্রিক প্রদত্ত মডেল অনুযায়ী DNA-এর ভৌত গঠন নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
১. দ্বিসূত্রক হেলিক্স: DNA অণু দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র নিয়ে গঠিত এবং সূত্র দুটি পেঁচানো সিঁড়ির মতো একটি কাল্পনিক অক্ষের চারদিকে ডানাবর্তে (রাইট-হ্যান্ডেড) কুণ্ডলিত থাকে।
২. বিপরীতমুখী সমান্তরাল: সূত্র দুটি পরস্পর বিপরীতমুখী (Antiparallel); অর্থাৎ একটি সূত্রক ৩' থেকে ৫' মুখী হলে অন্য সূত্রকটি ৫' থেকে ৩' মুখী হয়।
৩. মেরুদণ্ড গঠন: ডিঅক্সিরাইবোজ শ্যুগার এবং ফসফেট পর্যায়ক্রমিকভাবে যুক্ত হয়ে সূত্রকের মূল কাঠামো বা মেরুদণ্ড তৈরি করে।
৪. নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক ও হাইড্রোজেন বন্ধন: মেরুদণ্ডের ভেতরের দিকে নাইট্রোজেনাস ক্ষারকগুলো যুক্ত থাকে। ক্ষারকগুলো নির্দিষ্ট পরিপূরক নিয়মে যুক্ত হয়—অ্যাডেনিন (A) দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা থাইমিনের (T) সাথে (A=T) এবং গুয়ানিন (G) তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন দ্বারা সাইটোসিনের (C) সাথে (G≡C) যুক্ত থাকে।
৫. পরিমাপ: হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ প্যাঁচের দৈর্ঘ্য ৩৪ Å (৩.৪ nm) এবং এতে ১০ জোড়া মনোনিউক্লিওটাইড থাকে। ফলে প্রতিটি ধাপের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৩.৪ Å (০.৩৪ nm)। হেলিক্সের ব্যাস প্রায় ২০ Å (২.০ nm)। প্রতিটি পূর্ণ ঘূর্ণনে একটি গভীর খাঁজ (Major groove) এবং একটি অগভীর খাঁজ (Minor groove) সৃষ্টি হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'C' অণুটি হলো DNA এবং 'D' অণুটি হলো mRNA। DNA থেকে mRNA তৈরি হওয়ার প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন। সুতরাং, 'C' থেকে 'D' তৈরির চূড়ান্ত পরিণতি হলো 'ট্রান্সলেশন' (Translation) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষণ করা এবং এর মাধ্যমে জীবের বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পাওয়া। এর চূড়ান্ত পরিণতি নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. প্রোটিন সংশ্লেষণ (ট্রান্সলেশন): ট্রান্সক্রিপশনের মাধ্যমে উৎপন্ন mRNA নিউক্লিয়াস থেকে সাইটোপ্লাজমে আসে এবং রাইবোসোমের সাথে যুক্ত হয়। এরপর tRNA-এর সহায়তায় mRNA-তে উপস্থিত জেনেটিক কোড অনুযায়ী নির্দিষ্ট অ্যামিনো অ্যাসিড ক্রমানুসারে যুক্ত হয়ে পলিপেপটাইড শৃঙ্খল তথা কার্যকরী প্রোটিন তৈরি করে।
২. গাঠনিক উপাদান সৃষ্টি: উৎপাদিত প্রোটিন কোষের ঝিল্লি, সাইটোস্কেলিটন, চুল, ত্বক, অস্থিসহ বিভিন্ন অঙ্গের গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে কোষীয় কাঠামোর সুরক্ষা ও বিকাশ নিশ্চিত করে।
৩. শারীরবৃত্তীয় ও জৈব রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ: সংশ্লেষিত প্রোটিনের একটি বড় অংশ এনজাইম এবং হরমোন হিসেবে রূপান্তরিত হয়। এই এনজাইম ও হরমোনসমূহ জীবের যাবতীয় বিপাকীয় কার্য (যেমন—শ্বসন, সালোকসংশ্লেষণ, পরিপাক ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. বংশগত বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ (ফেনোটাইপিক বহিঃপ্রকাশ): DNA-তে ধারণকৃত জিনগত তথ্য mRNA হয়ে প্রোটিন তৈরির মাধ্যমে বাহ্যিক ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যে রূপ নেয়। এটিই মূলত সেন্ট্রাল ডগমার (Central Dogma) চূড়ান্ত পর্যায়।
অতএব, DNA ('C') থেকে mRNA ('D') তৈরির চূড়ান্ত পরিণতি হলো জীবের অস্তিত্ব রক্ষা, প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং সার্বিক জিনগত বৈশিষ্ট্যের সফল বহিঃপ্রকাশ ঘটানো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও