অর্থনীতি ২য় পত্র • Combined Board • ঢাকা, যশোর, সিলেট, দিনাজপুর বোর্ড ২০১৮

অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন

বর্তমানে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারকে প্রচুর ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হওয়ায় সরকারকে বিভিন্ন উৎস যেমন- নতুন মুদ্রা সৃষ্টি, অতিরিক্ত করারোপ, সরকারি তহবিল গঠন ইত্যাদি হতে অর্থসংস্থান করতে হয়। তবে অর্থসংস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হচ্ছে ঋণ গ্রহণ। গৃহীত ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।

  1. ক)

    পরোক্ষ কর কী?

    (1)
  2. খ)

    দিনদিন সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারি অর্থসংস্থানের পদ্ধতিগুলো সংক্ষেপে বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    সরকারি ঋণের সঠিক ব্যবহার না হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে- তুমি কি এই ধারণার সাথে একমত? উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে করের প্রাথমিক ভার বা তাৎক্ষণিক আর্থিক বোঝা এবং চূড়ান্ত ভার ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ওপর বর্তায়, অর্থাৎ করদাতা যার ওপর আরোপিত করের বোঝা কৌশলে অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে, তাকে পরোক্ষ কর বলে। যেমন— মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট), আবগারি শুল্ক ইত্যাদি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    বর্তমান যুগে রাষ্ট্র কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রতিরক্ষামূলক কাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎসহ বিশাল অবকাঠামোগত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরকারকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। এছাড়া জনসংখ্যা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার মতো বহুমুখী দায়িত্ব পালনের কারণে দিনদিন সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ঘাটতি বাজেট পূরণে সরকারি অর্থসংস্থানের কয়েকটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা নিম্নরূপ:

    ১. নতুন মুদ্রা সৃষ্টি (Deficit Financing through Printing Money): সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে অতিরিক্ত নতুন কাগজি মুদ্রা বা নোট ছাপিয়ে ব্যয়ের অর্থ সংস্থান করতে পারে। তবে এটি অতিরিক্ত মাত্রায় করলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেয়।

    ২. অতিরিক্ত করারোপ (Imposition of Additional Taxes): সরকার জনগণের ওপর নতুন কর ধার্য করে অথবা বিদ্যমান করের হার (যেমন—আয়কর, ভ্যাট ইত্যাদি) বৃদ্ধি করে রাজস্ব আয় বাড়াতে পারে।

    ৩. সরকারি তহবিল গঠন ও সঞ্চয় (Creation of Public Funds): বিভিন্ন বিশেষ তহবিল গঠন, রাষ্ট্রীয় আয়ের উদ্বৃত্ত সঞ্চয় বা বিশেষ বন্ড বিক্রির মাধ্যমে সরকার অভ্যন্তরীণ তহবিল সংগ্রহ করে অর্থায়ন করতে পারে।

    ৪. সরকারি ঋণ গ্রহণ (Public Borrowing): উদ্দীপকে উল্লেখিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বহির্বিশ্ব (বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিদেশি সরকার) থেকে ঋণ গ্রহণ করে ব্যয়ের সংস্থান করা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    হ্যাঁ, "সরকারি ঋণের সঠিক ব্যবহার না হলে তা দেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে"—আমি এই ধারণার সাথে সম্পূর্ণ একমত।

    উদ্দীপকে যথার্থই বলা হয়েছে যে, ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে তা দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। সরকারি ঋণের প্রভাব নির্ভর করে মূলত তা কোন খাতে এবং কীভাবে ব্যয় করা হচ্ছে তার ওপর।

    ঋণের অর্থ যদি রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প কারখানা বা মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে জাতীয় উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধি করে এবং সেই বর্ধিত আয় থেকে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ করা সহজ হয়। কিন্তু ঋণ নিয়ে যদি অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা হয়, যেমন—অতিরিক্ত প্রশাসনিক খরচ, অপচয়, দুর্নীতি বা বিলাসিতামূলক কর্মকাণ্ডে, তবে তা দেশে কোনো নতুন উৎপাদন সৃষ্টি করে না।

    ফলে নির্ধারিত সময়ে অর্থনীতিতে উৎপাদন না বাড়লেও সরকারকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে বিপুল অঙ্কের আসল ও সুদের বোঝা বহন করতে হয়। এর ফলে সরকার পুনরায় ঋণগ্রস্ত হয়ে 'ঋণের ফাঁদে' (Debt Trap) পড়ে যায় এবং পরবর্তী বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের বরাদ্দ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ মূল্যস্ফীতি ঘটায় এবং বৈদেশিক ঋণের শর্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে হুমকির মুখে ফেলে। অতএব, গৃহীত ঋণের প্রতিটি টাকার সুনির্দিষ্ট ও উৎপাদনশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে তা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন