জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
A → আম, ধান, গম, জবাB → আখ, মুখাঘাস, ভূট্টা
- ক)(1)
লিমিটিং ফ্যাক্টর কাকে বলে?
- খ)(2)
পত্ররন্ধ বন্ধ ও খোলার পেছনে আলোর ভূমিকা কি?
- গ)(3)
উদ্দীপকের 'B' উদ্ভিদের ক্ষেত্রে শর্করা তৈরির কৌশল বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উদ্ভিদ গুলোর পাতার অন্তরগঠনগত পার্থক্য রয়েছে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়, তার হার সবচেয়ে কম মাত্রায় থাকা প্রভাবকটির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বা সীমিত হওয়াকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (Limiting factor) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পত্ররন্ধ্র খোলা ও বন্ধ হওয়ার পেছনে আলোর প্রধান ভূমিকা রয়েছে। দিনের বেলায় আলোর উপস্থিতিতে রক্ষীকোষে প্রোটন (H+) পাম্প সক্রিয় হয়, যার ফলে রক্ষীকোষ থেকে প্রোটন বাইরে বের হয়ে যায় এবং পটাশিয়াম আয়ন (K+) রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। এর ফলে রক্ষীকোষের অভিস্রবণিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং পার্শ্ববর্তী কোষ থেকে অন্তঃঅভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় পানি রক্ষীকোষে প্রবেশ করে। রক্ষীকোষ স্ফীত হয়ে পত্ররন্ধ্র খুলে যায়। অন্ধকারে বা আলোর অনুপস্থিতিতে এই প্রক্রিয়ার বিপরীত ঘটনা ঘটে, যার ফলে রক্ষীকোষ শিথিল হয়ে রন্ধ্রটি বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া নীল আলো পত্ররন্ধ্র উন্মুক্তকরণে সরাসরি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'B' গ্রুপের উদ্ভিদগুলো (আখ, মুথাঘাস, ভুট্টা) হলো C4 উদ্ভিদ। C4 উদ্ভিদে শর্করা তৈরির কৌশলটি হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র (Hatch-Slack pathway) বা C4 গতিপথ নামে পরিচিত। এর কৌশল নিচে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো:
১. CO2 গ্রহণ ও অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড তৈরি: মেসোফিল কোষে বায়ুমণ্ডলীয় CO2-কে ফসফোইনল পাইরুভেট (PEP) গ্রহণ করে ফসফোইনল পাইরুভেট কার্বোক্সিলেজ (PEP-carboxylase) এনজাইমের সহায়তায় ৪-কার্বন বিশিষ্ট অক্সালোঅ্যাসিটিক অ্যাসিড (OAA) তৈরি করে।
২. ম্যালিক অ্যাসিড বা অ্যাসপার্টিক অ্যাসিডে রূপান্তর: OAA বিজারিত হয়ে ৪-কার্বন বিশিষ্ট ম্যালিক অ্যাসিড (বা অ্যাসপার্টিক অ্যাসিড)-এ পরিণত হয়।
৩. বান্ডল সিথ কোষে স্থানান্তর ও ডিকার্বক্সিলেশন: ম্যালিক অ্যাসিড প্লাজমোডেসমাটার মাধ্যমে মেসোফিল থেকে বান্ডল সিথ কোষে প্রবেশ করে এবং ডিকার্বক্সিলেটেড হয়ে CO2 এবং ৩-কার্বন বিশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড তৈরি করে।
৪. ক্যালভিন চক্র ও শর্করা তৈরি: নির্গত CO2 বান্ডল সিথ কোষে রুবিস্কো (RuBisCO) এনজাইমের মাধ্যমে ক্যালভিন চক্রে (C3 চক্র) প্রবেশ করে শর্করা (গ্লুকোজ) সংশ্লেষণ করে।
৫. PEP পুনরুৎপাদন: অবশিষ্ট পাইরুভিক অ্যাসিড পুনরায় মেসোফিল কোষে ফিরে গিয়ে এটিপি ব্যবহারের মাধ্যমে পুনরায় ফসফোইনল পাইরুভেটে রূপান্তরিত হয় এবং চক্রটি চলমান থাকে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের 'A' গ্রুপ হলো C3 উদ্ভিদ (আম, ধান, গম, জবা) এবং 'B' গ্রুপ হলো C4 উদ্ভিদ (আখ, মুথাঘাস, ভুট্টা)। এদের পাতার অভ্যন্তরীণ গঠনে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য বিদ্যমান, যা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি (Kranz Anatomy): C4 উদ্ভিদের পাতার পরিবহন কলাগুচ্ছকে (Vascular bundle) ঘিরে অরীয়ভাবে সজ্জিত সুস্পষ্ট ও ঘন ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত বান্ডল সিথ কোষ থাকে, যাকে রিং বা পুষ্পমাল্যের মতো দেখায় (ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি)। C3 উদ্ভিদে এ ধরনের সুস্পষ্ট ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি অনুপস্থিত।
২. ক্লোরোপ্লাস্টের ভিন্নতা (Dimorphic chloroplast): C4 উদ্ভিদের পাতায় দুই ধরনের ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে— মেসোফিল কোষে সুগঠিত গ্রানাযুক্ত ক্ষুদ্র ক্লোরোপ্লাস্ট এবং বান্ডল সিথ কোষে গ্রানাবিহীন বা কম গ্রানাযুক্ত বৃহৎ ক্লোরোপ্লাস্ট। পক্ষান্তরে, C3 উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে কেবল এক ধরনের (মনোমর্ফিক) ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে।
৩. মেসোফিল কলার বিন্যাস: C3 উদ্ভিদের পাতায় মেসোফিল কলা সাধারণত প্যালিলেড প্যারেনকাইমা এবং স্পঞ্জি প্যারেনকাইমাতে বিভক্ত থাকে। কিন্তু C4 উদ্ভিদের পাতায় মেসোফিল কলা এভাবে স্পষ্ট দুই স্তরে বিভক্ত থাকে না, এটি বান্ডল সিথের চারপাশে সমভাবে বিন্যস্ত থাকে।
৪. পরিবহন কলার ব্যবধান: C4 উদ্ভিদের পাতায় শিরা-উপশিরার ঘনত্ব অনেক বেশি এবং বান্ডলগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব খুব কম থাকে, যা C3 উদ্ভিদে তুলনামূলকভাবে দূরে দূরে অবস্থিত।
সুতরাং, অভ্যন্তরীণ গঠনের দিক থেকে C4 উদ্ভিদের পাতার ক্রাঞ্জ অ্যানাটমি ও ডাইমর্ফিক ক্লোরোপ্লাস্টের উপস্থিতি C3 উদ্ভিদ থেকে সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র ও উন্নত অভিযোজন নির্দেশ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও