যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃষ্টান্ত-১: অক্সিজেন + হাইড্রোজেন = পানি।

  1. ক)

    আরোহের বস্তুগত ভিত্তিগুলো কী কী?

    (1)
  2. খ)

    নঞর্থক শর্ত বলতে কী বোঝ?

    (2)
  3. গ)

    দৃষ্টান্ত-১ এ যে সংমিশ্রণের উল্লেখ রয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    দৃষ্টান্ত-২ এ উল্লিখিত বিষয়টিকে কীভাবে খণ্ডন করা সম্ভব? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    আরোহের বস্তুগত ভিত্তিগুলো হলো নিরীক্ষণ (Observation) এবং পরীক্ষণ (Experimentation)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যে শর্তের অনুপস্থিতি বা না-থাকা কোনো কার্য উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য, তাকে নঞর্থক বা নেতিবাচক শর্ত (Negative Condition) বলে।

    কোনো ঘটনা ঘটার জন্য সদর্থক শর্তগুলোর উপস্থিতি যেমন প্রয়োজন, তেমনি কোনো কোনো প্রতিকূল বা বাধা সৃষ্টিকারী বিষয়ের অনুপস্থিতিও প্রয়োজন। যেমন—দিয়াশলাই কাঠি জ্বালানোর ক্ষেত্রে ভিজে না থাকা বা বাতাসের প্রচণ্ড ঝাপটা না থাকা একটি নঞর্থক শর্ত। এ ধরনের শর্ত উপস্থিত থাকলে কার্যটি বিঘ্নিত হয়, তাই এদের অনুপস্থিতি কার্যের জন্য আবশ্যক।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-১ এ কার্যসংমিশ্রণের অন্তর্গত 'বিষদৃশ বা রাসায়নিক সংমিশ্রণ' (Heterogeneous or Chemical Intermixture of Effects)-এর উল্লেখ রয়েছে।

    যুক্তিশাস্ত্রে যখন একাধিক কারণ একসাথে মিলিত হয়ে একটি কার্য সৃষ্টি করে এবং উৎপন্ন কার্যের গুণাবলি কারণসমূহের গুণাবলি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা বা নতুন রূপ ধারণ করে, তখন তাকে বিষদৃশ বা রাসায়নিক কার্যসংমিশ্রণ বলে।

    উদ্দীপকের দৃষ্টান্ত-১ এ অক্সিজেন এবং হাইড্রোজেন মিলিত হয়ে 'পানি' উৎপন্ন করেছে। এখানে হাইড্রোজেন নিজে জ্বলে এবং অক্সিজেন অন্যকে জ্বলতে সাহায্য করে; অথচ তাদের সংমিশ্রণে উৎপন্ন পানি আগুন নেভাতে সাহায্য করে। উৎপন্ন কার্যটিতে (পানি) তার মূল উপাদানসমূহের (অক্সিজেন ও হাইড্রোজেন) বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ থাকেনি, বরং নতুন ধর্মের উদ্ভব ঘটেছে। এটি পাঠ্যবইয়ে আলোচিত রাসায়নিক বা বিষদৃশ কার্যসংমিশ্রণের আদর্শ উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃষ্টান্ত-২ এ একটি কার্য (সফলতা) বিভিন্ন ভিন্ন ভিন্ন কারণ (যেমন: চাকরি, ব্যবসা, অভিনয়, খেলাধুলা) দ্বারা সংঘটিত হতে পারে—এমন একটি বিষয় দেখানো হয়েছে, যা যুক্তিশাস্ত্রে 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) হিসেবে পরিচিত। বহুকারণবাদকে বৈজ্ঞানিক বা যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে সহজেই খণ্ডন করা সম্ভব।

    যুক্তিবিদদের (বিশেষ করে কার্ভেথ রিড ও অন্যান্য আধুনিক যুক্তিবিদ) মতে, কার্যকারণ নিয়মানুসারে একই কারণ থেকে একই কার্য এবং একই কার্য সর্বদা একই কারণ থেকে উৎপন্ন হয়। আপাতদৃষ্টিতে বহুকারণবাদকে সত্য বলে মনে হলেও সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে একে খণ্ডন করা যায়:

    ১. কার্যকে সার্বিক বা সাধারণভাবে গ্রহণ না করে বিশেষভাবে গ্রহণ করা: উদ্দীপকে 'সফলতা'কে অত্যন্ত সাধারণ বা অস্পষ্ট অর্থে বিবেচনা করা হয়েছে। কিন্তু চাকরির সফলতা, ব্যবসার সফলতা, অভিনয়ে সফলতা বা খেলাধুলার সফলতা এক নয়; তাদের প্রকৃতি ও রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। কার্যকে যদি সামগ্রিক অর্থে না দেখে নির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত অর্থে গ্রহণ করা হয়, তবে দেখা যাবে নির্দিষ্ট ধরনের সফলতার পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কারণই রয়েছে।

    ২. কারণকে বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা: আপাতদৃষ্টিতে দৃশ্যমান ভিন্ন ভিন্ন কারণগুলোকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে তাদের মাঝে অন্তর্নিহিত একটি সাধারণ বা মূল কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন—চাকরি, ব্যবসা, অভিনয় কিংবা খেলাধুলা—সব ক্ষেত্রেই সফলতার পেছনের মূল অভিন্ন কারণ হলো 'অধ্যবসায়, দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রম'।

    অতএব, কার্য ও কারণ উভয়কেই সুনির্দিষ্ট ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিশ্লেষণ করলে বহুকারণবাদের আপাত সত্যতা দূর হয় এবং প্রমাণ হয় যে একটি নির্দিষ্ট কার্যের পেছনে একটিই নির্দিষ্ট কারণ বিদ্যমান থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন