পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
'৪'-এর রাষ্ট্রে ২০টি প্রদেশ আছে এবং এদের প্রতিটিতেই রয়েছে পৃথক পৃথক সরকার। কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই এ সরকারগুলো স্বাধীনভাবে প্রদেশের শাসন পরিচালনা করতে পারছে। অন্যদিকে, 'P'-এর রাষ্ট্রে শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত করা হয়েছে মন্ত্রীসভার হাতে যারা আইনসভার নিকট সবসময় জবাবদিহি করে থাকেন।
- ক)(1)
এককেন্দ্রিক সরকার কী?
- খ)(2)
নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
'A'-এর রাষ্ট্রে কোন ধরনের সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান? ব্যাখ্যা করো। ৩
- ঘ)(4)
'P'-এর রাষ্ট্রে বিদ্যমান সরকারব্যবস্থার সুবিধাসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সমস্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে এবং কেন্দ্র থেকেই সারা দেশের শাসন পরিচালিত হয়, তাকে এককেন্দ্রিক সরকার বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য নীতি (Checks and Balances) বলতে সরকারের তিনটি প্রধান অঙ্গের (আইন, শাসন ও বিচার বিভাগ) এমন পারস্পরিক সম্পর্ককে বোঝায়, যেখানে প্রতিটি বিভাগ অন্য বিভাগের ক্ষমতার ওপর নির্দিষ্ট নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে। এর ফলে কোনো একক বিভাগ স্বৈরাচারী বা সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী হতে পারে না এবং ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'A' (বা '৪')-এর রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
যে শাসনব্যবস্থায় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকার এবং কতগুলো প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারের মধ্যে বণ্টন করা হয় এবং উভয় সরকার নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করে, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে।
উদ্দীপকে উল্লেখিত রাষ্ট্রে ২০টি প্রদেশ রয়েছে এবং প্রতিটিতে পৃথক সরকার বিদ্যমান। এই সরকারগুলো কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বাধীনভাবে প্রাদেশিক শাসন পরিচালনা করে। সংবিধান কর্তৃক কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার এই বণ্টন ও প্রাদেশিক সরকারের স্বাধীনতা যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য। সুতরাং, উদ্দীপকের রাষ্ট্রে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'P'-এর রাষ্ট্রে সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকারব্যবস্থা বিদ্যমান। নিচে এ সরকারব্যবস্থার সুবিধাসমূহ বিশ্লেষণ করা হলো:
১. আইন ও শাসন বিভাগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক: এ শাসনব্যবস্থায় মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা আইনসভার সদস্য হওয়ায় উভয় বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক বজায় থাকে, ফলে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সহজ হয়।
২. দায়িত্বশীল শাসন: এ ব্যবস্থায় মন্ত্রিসভাকে তাদের যাবতীয় কাজের জন্য সার্বক্ষণিকভাবে আইনসভার কাছে জবাবদিহি করতে হয়। আইনসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের ভয় থাকায় সরকার স্বৈরাচারী হতে পারে না।
৩. নমনীয়তা ও পরিবর্তনশীলতা: যেকোনো সংকটময় মুহূর্তে বা জরুরি প্রয়োজনে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে রক্তপাতহীনভাবে বা সহজে সরকার পরিবর্তন করা যায়।
৪. বিরোধী দলের ভূমিকা ও সমালোচনা: এ ব্যবস্থায় আইনসভায় বিরোধী দল কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ পায়, যা সরকারের ভুলত্রুটি সংশোধনে এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় সাহায্য করে।
৫. জনমতের প্রাধান্য: সরকার সবসময় আইনসভার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতের প্রতি সতর্ক থাকে, কারণ জনমত বিরোধী হলে পরবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ঝুঁকি থাকে।
অতএব, 'P'-এর রাষ্ট্রের মন্ত্রিপরিষদ শাসিত ব্যবস্থা একটি গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল শাসন নিশ্চিত করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও