সাহিত্য পাঠ • আত্মচরিত • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সোনার চামচ মুখে দিয়ে জন্মায় আর কটি লোক। শতকরা প্রায় নিরানব্বই জন মানুষকেই চেষ্টা করতে হয়, জয় করে নিতে হয় জগৎকে। বাঁচে সে লড়াই করে প্রতিকূলতার সঙ্গে। পলাতকের স্থান এই জগতে নেই। চেষ্টা ছাড়া আত্মপ্রতিষ্ঠা অসম্ভব। সুখ চেষ্টারই ফল—দেবতার দান নয়। কথায় আছে, ঈশ্বর তাকেই সাহায্য করেন যে নিজেকে সাহায্য করে। নির্ভীক সত্য সাধক, দৃঢ় আত্মবিশ্বাসী এবং পরমতসহিষ্ণু ব্যক্তিমাত্রই চেষ্টার মাধ্যমে তৈরি করে নিতে পারে নিজের পথ ।
- ক)(1)
‘কর্ণধার' শব্দটির অর্থ কী?
- খ)(2)
প্রবন্ধকার পরাবলম্বনকে সবচেয়ে বড় দাসত্ব বলেছেন কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের যে বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকটি ‘আমার পথ' প্রবন্ধের সমগ্র ভাবটিকে ধারণ করতে পেরেছে কি? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি দাও ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘কর্ণধার’ শব্দটির অর্থ হলো—নেতা বা যিনি হাল ধরে পথ প্রদর্শন করেন (নাবিক)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রাবন্ধিক কাজী নজরুল ইসলামের মতে, যারা নিজের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে পরকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকে, তারা মূলত নিজেদের দাস করে ফেলে; তাই তিনি পরাবলম্বনকে সবচেয়ে বড় দাসত্ব বলেছেন।
পরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা মানুষের আত্মবিশ্বাস ও নিজস্ব সত্তাকে ধ্বংস করে দেয়। যে জাতি বা ব্যক্তি অন্য কারও পদলেহন করে পথ চলতে চায়, সে কখনো নিজের শক্তিতে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না। নিজের শক্তিকে অবজ্ঞা করে অন্যের ওপর ভরসা করার এই মানসিকতাই মানুষের অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা হরণ করে তাকে পরাধীন করে রাখে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'আমার পথ' প্রবন্ধের আত্মবিশ্বাস, স্বাবলম্বন ও প্রতিকূলতা জয়ের মানসিকতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর ‘আমার পথ’ প্রবন্ধে স্পষ্ট করেছেন যে, জীবনে উন্নতি ও মুক্তির একমাত্র উপায় হলো স্বাবলম্বন এবং আত্মনির্ভরশীলতা। অন্য কারও অনুগ্রহের ওপর নির্ভর না করে নিজের সত্যকে উপলব্ধি করা এবং সত্যের শক্তিতে অটুট থেকে পথ চলাই মানুষের প্রকৃত পরিচয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, সমাজে জন্মসূত্রে সুবিধাভোগী মানুষের সংখ্যা সামান্য; শতকরা নিরানব্বই জন মানুষকেই লড়াই করে প্রতিকূলতার মাঝে পথ তৈরি করে নিতে হয়। চেষ্টা, আত্মবিশ্বাস ও সত্যসাধনার মাধ্যমেই মানুষ স্বপ্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে। উদ্দীপকের এই বক্তব্য ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের নিজের শক্তির ওপর আস্থা রাখা এবং ভণ্ডামি ও পরনির্ভরশীলতা ত্যাগ করে আত্মনির্ভরশীল মানুষ হয়ে ওঠার বার্তার সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকটি ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের সমগ্র ভাবটিকে ধারণ করতে পারেনি; বরং এটি প্রবন্ধের আংশিক ভাবকে প্রকাশ করেছে।
‘আমার পথ’ প্রবন্ধে প্রাবন্ধিক কেবল ব্যক্তিগত চেষ্টা ও আত্মবিশ্বাসের কথাই বলেননি, বরং সত্যের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা, মেকি বিনয় বর্জন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, ধর্মের নামে ভণ্ডামি প্রতিরোধ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক দাসত্ব থেকে সার্বিক মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন। সেখানে তাঁর পথপ্রদর্শক স্বয়ং তাঁর ‘সত্য’ এবং ‘আমি’ হলো স্বাবলম্বী মুক্ত মানবসত্তা।
অপরদিকে, উদ্দীপকে কেবল মানুষের পার্থিব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই, ব্যক্তিগত চেষ্টা, আত্মপ্রতিষ্ঠা ও পরমতসহিষ্ণুতার দিকটি আলোচিত হয়েছে। এটি প্রবন্ধের স্বাবলম্বন ও আত্মবিশ্বাসের অংশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও প্রবন্ধে আলোচিত অহিংস অথচ আপসহীন সত্যের তেজ, ভণ্ডামির মুখোশ উন্মোচন এবং হিন্দু-মুসলমান মিলনের মধ্য দিয়ে সম্মিলিত জাতীয় জাগরণের বৃহত্তর বিষয়গুলো উদ্দীপকে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
অতএব, বলা যায় উদ্দীপকটিতে ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আত্মনির্ভরশীলতা ও চেষ্টার দিকটি প্রতিফলিত হলেও এর ধর্মীয় গোঁড়ামিবিরোধী চেতনা, জাতীয় ঐক্যের বার্তা ও সার্বিক দার্শনিক ভাব পরিস্ফুট না হওয়ায় তা প্রবন্ধের সমগ্র ভাব ধারণ করতে পারেনি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও