বাংলা ২য় পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৬
বাংলা ২য় পত্র প্রশ্ন
10.
(ক) সাফ গেমস ফুটবলের ব্যর্থতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ রচনা কর।অথবা,(খ) বিপদে বন্ধুর পরিচয়- এই শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
(ক) সাফ গেমস ফুটবলের ব্যর্থতা নিয়ে দুই বন্ধুর সংলাপ:
স্থান: বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ
চরিত্র: সাকিব ও তামিম
সাকিব: কেমন আছিস তামিম? কালকের সাফ গেমসের ফুটবল ম্যাচটা দেখেছিলি?
তামিম: ভালো নেই রে সাকিব। হ্যাঁ, ম্যাচটা দেখেছি এবং সত্যি বলতে খুব হতাশ হয়েছি। আমাদের দলের এমন ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায় না।
সাকিব: একদম ঠিক বলেছিস। একসময় ফুটবলে আমাদের কত সুনাম ছিল, অথচ এখন দক্ষিণ এশিয়ার দলগুলোর বিরুদ্ধেও আমরা সুবিধা করতে পারছি না।
তামিম: এই ব্যর্থতার মূল কারণ কী বলে তোর মনে হয়?
সাকিব: আমার মতে, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে না আনা। এছাড়া ঘরোয়া লিগের মানও দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে।
তামিম: তুই ঠিকই ধরেছিস। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, স্কিল ও আধুনিক ট্যাকটিক্যাল জ্ঞানের অনেক ঘাটতি চোখে পড়েছে। ম্যাচ চলাকালীন তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবও স্পষ্ট ছিল।
সাকিব: তাছাড়া পর্যাপ্ত আর্থিক প্রণোদনা ও উন্নত প্রশিক্ষণের অভাবও একটা বড় সমস্যা। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা না পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো ফল আশা করা যায় না।
তামিম: ফুটবল ফেডারেশনকে এখন আত্মতুষ্টি ভুলে কঠোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। পেশাদার কোচ এবং একাডেমিভিত্তিক প্রশিক্ষণ ছাড়া এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব নয়।
সাকিব: একদম সত্য। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুত এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল আবার তার সোনালি অতীতে ফিরে যাবে।
তামিম: আশা করি তাই হবে। চল, ক্লাসের সময় হয়ে গেছে।
অথবা,
(খ) বিপদে বন্ধুর পরিচয়
রাহাত ও সজল ছোটবেলা থেকেই অভিন্নহৃদয় বন্ধু। একই স্কুলে পড়াশোনা, বিকেলে একসাথে খেলাধুলা—সবকিছুতেই তাদের অটুট বন্ধুত্ব দেখা যেত। সজলের পরিবার ছিল অত্যন্ত সচ্ছল, আর রাহাতের পরিবার ছিল মধ্যবিত্ত। তবে আর্থিক বৈষম্য তাদের সম্পর্কে কখনো প্রভাব ফেলেনি।
হঠাৎ একদিন রাহাতের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। তার বাবার হঠাৎ ব্রেন স্ট্রোক হয় এবং জরুরিভিত্তিতে একটি জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দুই লাখ টাকার প্রয়োজন হয়, যা রাহাতের পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা তখন অসম্ভব ছিল। আত্মীয়-স্বজনদের অনেকের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো লাভ হলো না। নিরুপায় ও দিশাহারা হয়ে রাহাত হাসপাতালের বারান্দায় বসে কাঁদছিল।
খবর পেয়ে সজল দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসে। বন্ধুর চোখের পানি দেখে সজল এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের জমানো টাকা এবং পরিবারের সহায়তায় অস্ত্রোপচারের পুরো অর্থের ব্যবস্থা করে দেয়। সজলের এমন দ্রুত ও আন্তরিক পদক্ষেপে রাহাতের বাবার সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয় এবং তিনি বিপদমুক্ত হন।
কয়েক দিন পর সুস্থ বাবাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় রাহাত কান্নাভেজা চোখে সজলের হাত ধরে বলে, "তুই সেদিন পাশে না দাঁড়ালে হয়তো বাবাকে বাঁচাতে পারতাম না।" সজল হেসে উত্তর দেয়, "বন্ধু তো বিপদের সময়ের জন্যই!"
রাহাত সেদিন উপলব্ধি করল—সুসময়ে অনেকেই পাশে থাকে, কিন্তু ঘোর বিপদে যে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসে, সেই প্রকৃত বন্ধু।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও