জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০১৭
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
শ্রেণি শিক্ষক বললেন, ক্ষুদ্র বহু কোষী প্রাণীটির এপিডার্মিসের কিছু বিশেষ কোষ শিকার ধরা, আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে।
- ক)(1)
মেসোগ্লিয়া কী?
- খ)(2)
সিলেন্টেরন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাণীটির বিশেষ কোষ কর্তৃক শিকার ধরার কৌশল ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ কোষটি "আত্মরক্ষা ও চলনে সহায়তা করে" উক্তিটির সপক্ষে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
হাইড্রা বা নিডারিয়া পর্বের প্রাণীদের দ্বিস্তরী দেহের বহিঃত্বক (এপিডার্মিস) ও অন্তঃত্বকের (গ্যাস্ট্রোডার্মিস) মধ্যবর্তী জেলির মতো অকোষীয়, স্থিতিস্থাপক ও স্বচ্ছ স্তরকে মেসোগ্লিয়া বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিডারিয়া পর্বভুক্ত প্রাণীদের (যেমন- হাইড্রা) দেহের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পরিপাক ও সংবহনে অংশ নেওয়া একমাত্র ফাঁপা গহ্বরকে সিলেন্টেরন বলে।
এটি পরিপাক নালী এবং দেহগহ্বর উভয় হিসেবেই কাজ করে বলে একে গ্যাস্ট্রোভাস্কুলার গহ্বরও বলা হয়। সিলেন্টেরনের ভেতরের প্রাচীর গ্যাস্ট্রোডার্মিস দিয়ে আবৃত থাকে। এখানে শিকারকৃত খাদ্যের বহিঃকোষীয় বা আন্তঃকোষীয় পরিপাক ঘটে এবং পরিপাককৃত পুষ্টি উপাদান সারা দেহে পরিবাহিত হয়। এই গহ্বরটি একটিমাত্র ছিদ্রের (মুখছিদ্র) মাধ্যমে বাইরে উন্মুক্ত থাকে, যা মুখ ও পায়ু উভয় হিসেবে কাজ করে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত প্রাণীটি হলো হাইড্রা (Hydra) এবং এর বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট। নিডোসাইট কোষের অভ্যন্তরে থাকা নেমাটোসিস্টের সাহায্যে হাইড্রা শিকার ধরে। নিম্নে শিকার ধরার কৌশলটি ব্যাখ্যা করা হলো:
১. উদ্দীপনা গ্রহণ: যখন কোনো শিকার (যেমন- ডাফনিয়া বা সাইক্লপস) হাইড্রার কর্ষিকার কাছাকাছি আসে, তখন তার সংস্পর্শে কর্ষিকার নিডোসাইটের বহির্মুখী সংবেদনশীল রোম বা নিডোসিল উত্তেজিত হয়।
২. নেমাটোসিস্ট নিক্ষেপ: উত্তেজনার ফলে অপারকুলাম উন্মুক্ত হয় এবং ক্ষিপ্রগতিতে বিভিন্ন ধরনের নেমাটোসিস্ট শিকারের দেহে নিক্ষিপ্ত হয়।
৩. শিকার অবশ ও আবদ্ধকরণ:- পেনিট্র্যান্ট বা স্টিলিনোটেল নেমাটোসিস্ট শিকারের ত্বক ভেদ করে 'হিপনোটক্সিন' নামক বিষাক্ত তরল প্রবেশ করিয়ে শিকারকে অবশ করে ফেলে।
- ভলভেন্ট বা ড্যাকটাইলয়েড নেমাটোসিস্ট শিকারের রোম বা উপাঙ্গকে জড়িয়ে ধরে তাকে আটকে ফেলে।
- গ্লুটিন্যান্ট (স্ট্রেপ্টোলিন ও স্টেরিওলিন) নেমাটোসিস্ট আঠালো রস ক্ষরণ করে শিকারকে কর্ষিকায় শক্তভাবে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
৪. মুখে প্রবেশ করানো: শিকার নিষ্ক্রিয় ও বন্দি হয়ে পড়লে কর্ষিকাগুলো সংকুচিত হয়ে শিকারটিকে মুখছিদ্রের নিকটে নিয়ে যায় এবং তা গলধঃকরণ করে সিলেন্টেরনে প্রবেশ করায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশেষ কোষটি হলো নিডোসাইট। নিচে আত্মরক্ষা ও চলনে নিডোসাইটের ভূমিকার সপক্ষে যুক্তি দেওয়া হলো:
আত্মরক্ষায় ভূমিকা:
১. প্রতিকূল পরিস্থিতি বা কোনো শত্রু আক্রমণ করলে হাইড্রা কর্ষিকায় অবস্থিত নিডোসাইট থেকে পেনিট্র্যান্ট নেমাটোসিস্ট ছুড়ে দেয়। এর বিষাক্ত হিপনোটক্সিন শত্রুকে অবশ বা বিতাড়িত করে।
২. ভলভেন্ট নেমাটোসিস্ট শত্রুকে পেঁচিয়ে ধরে প্রতিহত করে এবং গ্লুটিন্যান্ট আঠালো রস ক্ষরণ করে শত্রুর গতি রোধ করে। এর ফলে হাইড্রা সহজে নিজেকে রক্ষা করতে পারে।চলনে ভূমিকা:
১. লুপিং বা হামাগুড়ি চলন: এ চলনে হাইড্রা বাঁকা হয়ে কর্ষিকার আঠালো গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টের সাহায্যে তলদেশে আটকে থাকে এবং পাদচাকতি মুক্ত করে কর্ষিকার কাছে এনে স্থাপন করে।
২. সমারসল্টিং বা ডিগবাজি চলন: এটি হাইড্রার সাধারণ ও দ্রুত চলন প্রক্রিয়া। এখানে গ্লুটিন্যান্ট নেমাটোসিস্টযুক্ত কর্ষিকাগুলো দিয়ে মাটিকে স্পর্শ করে পুরো দেহকে উল্টে দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে নিডোসাইট মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
৩. আরোহণ বা অবরোহণ: জলজ উদ্ভিদের সাথে আটকে থাকা ও স্থানান্তরে কর্ষিকার নিডোসাইটের আঠালো রস সাহায্য করে।সুতরাং, উপযুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে নিডোসাইট কোষ আত্মরক্ষা এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলন সম্পন্ন করার মাধ্যমে হাইড্রাকে টিকিয়ে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও