পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
'ক' রাষ্ট্র স্বাধীন হওয়ার পর থেকে শাসকগোষ্ঠীর নির্যাতন শুরু হয়। সাধারণ জনগণ এর প্রতিবাদ শুরু থেকেই ঐক্যবদ্ধ হয় । স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পরে শাসকগোষ্ঠী প্রথম ও শেষ সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করে। নির্বাচনের জনগণ তাদের পছন্দের দলকে বিপুল ভোটে জয়ী করে। কিন্তু শাসকগোষ্ঠী বিজয় দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করে,যার পরিপ্রেক্ষিতে বিজয়ী দলের নেতা স্বাধীনতার ডাক দেন।
- ক)(1)
মজলুম জননেতা কে ছিলেন?
- খ)(2)
যুক্তফ্রন্ট কেন গঠিত হয়েছিল? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের সাথে তোমার পঠিত কোন নির্বাচনের সাদৃশ আছে? ব্যাখ্যা কর
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের উক্ত নেতার অবদান মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
মজলুম জননেতা ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ফ্যাসিবাদী শাসন, শোষণ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল—এই চারটি দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের সাথে আমার পঠিত ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের সাদৃশ্য রয়েছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টির পর প্রায় দুই যুগ পেরিয়ে গেলে ১৯৭০ সালে পাকিস্তান সরকার প্রথম সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। উদ্দীপকে 'ক' রাষ্ট্রে স্বাধীনতার প্রায় দুই যুগ পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের যে চিত্র দেখা যায়, তা সত্তরের নির্বাচনের অনুরূপ।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বাচিত প্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্রের আশ্রয় নেয়। উদ্দীপকেও বিজয়ী দলকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র করার বিষয়টি ১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনের পরবর্তী পরিস্থিতির সাথে হুবহু মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত নেতা হলেন স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাঁর অবদান অবিসংবাদিত ও অনন্য।
১. রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও স্বাধিকার আন্দোলন: বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন এবং ছেষট্টির ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবির মাধ্যমে তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার দিকে উদ্বুদ্ধ করেন। ছয় দফাকে বলা হয় বাঙালির 'ম্যাগনাকার্টা'।
২. গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭০-এর নির্বাচন: ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুক্ত হয়ে তিনি বাঙালির অবিসংবাদিত নেতায় পরিণত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় পায়, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার আইনি ভিত্তি এনে দেয়।
৩. ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও স্বাধীনতার ঘোষণা: পাকিস্তানি জান্তার ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ তিনি ঐতিহাসিক ভাষণে ঘোষণা করেন, 'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।' ২৫শে মার্চ কালরাতে গণহত্যার পর ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।
সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্ব, ত্যাগ ও দিকনির্দেশনাতেই দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও