অর্থনীতি ২য় পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বিশ্বায়ন হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা অধিক জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াকে বোঝায়। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যবসা সম্প্রসারণ ও বাজার গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। তবে এর প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
- ক)(1)
বৈদেশিক সাহায্য কি?
- খ)(2)
আমদানি বৃদ্ধি কিভাবে বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি সৃষ্টি করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে বিশ্বায়নের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
বিশ্বায়নের ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন খাত কিভাবে প্রভাবিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো উন্নত দেশ বা আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রদত্ত অনুদান, সহজ শর্তের ঋণ বা কারিগরি সহায়তাকে বৈদেশিক সাহায্য বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশ যখন প্রচুর পরিমাণে পণ্য ও সেবা আমদানি করে, তখন তার মূল্য পরিশোধের জন্য বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য মুদ্রা বা বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। যদি দেশের রপ্তানি আয় এবং রেমিট্যান্সের যোগফল আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম হয়, তবে বহির্বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রক্ষিত বৈদেশিক মুদ্রার মজুত বা রিজার্ভ দ্রুত কমে যায় এবং দেশে তীব্র বৈদেশিক মুদ্রার সংকট সৃষ্টি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিশ্বায়ন হলো এমন একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামাজিক প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করে। বিশ্বায়নের গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো:
১. বাজার সম্প্রসারণ: বিশ্বায়নের ফলে স্থানীয় পণ্যের বাজার বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত হয়, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতা বাড়ায়।
২. প্রযুক্তি ও মূলধনের অবাধ প্রবাহ: উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত দেশসমূহ থেকে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত কলাকৌশল ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) লাভ করতে পারে।
৩. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি: বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
৪. সুলভ মূল্যে পণ্য প্রাপ্তি: প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক বাজারের ফলে ভোক্তারা সুলভ মূল্যে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা ভোগ করার সুযোগ পায়।সুতরাং, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আন্তঃনির্ভরশীলতা ও উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশ্বায়নের ভূমিকা অপরিসীম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বায়নের প্রভাবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উৎপাদন খাতে ইতিবাচক ও নেতিবাচক—উভয় ধরনের গভীর প্রভাব পড়ছে। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. ইতিবাচক প্রভাব:
- কাঁচামাল ও প্রযুক্তির সহজলভ্যতা: বিশ্বায়নের ফলে উন্নত দেশসমূহ থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি সহজ হয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বাড়িয়েছে।
- রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রসার: তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত শিল্পের মতো উৎপাদনমুখী খাতগুলোর বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারিত হয়েছে।
- বৈদেশিক বিনিয়োগ: বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে (SEZ) বিদেশি বিনিয়োগ আসায় নতুন নতুন উৎপাদন শিল্প গড়ে উঠছে।
২. নেতিবাচক প্রভাব:
- অসম প্রতিযোগিতা: উন্নত দেশের বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক স্থানীয় কুটির ও ক্ষুদ্র শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
- আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক দামের অভিঘাত: আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেলে দেশীয় উৎপাদন খাত সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়ে।
- স্থানীয় দেশীয় শিল্পের ক্ষতি: অবাধ বাণিজ্যের সুযোগে সস্তা ও উন্নত বিদেশি পণ্য দেশীয় বাজারে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় উৎপাদকদের বাজার সংকুচিত হয়।
অতএব, বিশ্বায়নের ফলে যেমন নতুন নতুন শিল্প সম্ভাবনা উন্মোচিত হচ্ছে, তেমনি যথাযথ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থার অভাবে উন্নয়নশীল দেশের সনাতন ও অপ্রস্তুত উৎপাদন খাত বড় ধরনের ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও