উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২১

উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ২য় পত্র প্রশ্ন

'ক' কোম্পানি পাঁচ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ করে তাদের ব্যবসায় কার্যক্রম শুরু করেন। উক্ত কোম্পানি মোট ব্যয়ের ২০% মুনাফা অর্জন করতে চায়। তাদের উৎপাদিত পণ্যের এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় ৪০ টাকা, মোট স্থায়ী ব্যয় ১ কোটি টাকা এবং প্রত্যাশিত বিক্রয়ের পরিমাণ ২,০০,০০০ একক

  1. ক)

    অযাচিত পণ্য কী?

    (1)
  2. খ)

    ভ্যানুভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য থেকে 'ক' কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের একক প্রতি উৎপাদন যায় নির্ণয় কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য থেকে 'ক' কোম্পানির ভারসাম্য বিন্দু নির্ণয়পূর্বক কোম্পানির লাভজনকতা বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব পণ্য সম্পর্কে ক্রেতা অবগত নয় অথবা অবগত থাকলেও স্বাভাবিকভাবে ক্রয়ের চিন্তা বা আগ্রহ প্রকাশ করে না, সেগুলোকে অযাচিত পণ্য (Unsought Goods) বলে। যেমন: জীবন বীমা পলিসি, এনসাইক্লোপিডিয়া ইত্যাদি।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ভ্যালুভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ (Value-based Pricing) হলো এমন একটি মূল্য নির্ধারণ কৌশল, যেখানে বিক্রেতার উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে পণ্যের মাধ্যমে ক্রেতা যে উপযোগ বা ভ্যালু অনুধাবন করে তার ওপর ভিত্তি করে মূল্য ধার্য করা হয়।

    উদাহরণস্বরূপ: একটি সাধারণ কাপ কফির উৎপাদন ব্যয় ৩০ টাকা হলেও একটি বিলাসবহুল পাঁচতারকা রেস্তোরাঁয় পরিবেশন ও আভিজাত্যের কারণে তার মূল্য ৪০০ টাকা ধার্য করা হয়। এখানে ক্রেতা পণ্যের অনুভূত উপযোগ ও অভিজ্ঞতার কারণে বেশি মূল্য পরিশোধে আগ্রহী হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রদত্ত তথ্য:
    এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় = ৪০ টাকা
    মোট স্থায়ী ব্যয় = ১,০০,০০,০০০ (এক কোটি) টাকা
    প্রত্যাশিত বিক্রয়ের পরিমাণ = ২,০০,০০০ একক

    সুতরাং, এককপ্রতি স্থায়ী ব্যয় = মোট স্থায়ী ব্যয় ÷ মোট বিক্রয়ের পরিমাণ
    = ১,০০,০০,০০০ ÷ ২,০০,০০০ টাকা
    = ৫০ টাকা

    অতএব, 'ক' কোম্পানির উৎপাদিত পণ্যের একক প্রতি উৎপাদন ব্যয় = এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয় + এককপ্রতি স্থায়ী ব্যয়
    = ৪০ টাকা + ৫০ টাকা
    = ৯০ টাকা।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'ক' কোম্পানির ভারসাম্য বিন্দু বা সমচ্ছেদ বিন্দু (Break-Even Point) নির্ণয় এবং লাভজনকতা বিশ্লেষণ নিম্নে দেওয়া হলো:

    ১. বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ:
    উদ্দীপক অনুযায়ী, কোম্পানি মোট ব্যয়ের ২০% মুনাফা অর্জন করতে চায়।
    'গ' থেকে প্রাপ্ত এককপ্রতি মোট উৎপাদন ব্যয় = ৯০ টাকা।
    এককপ্রতি মুনাফা = ৯০ টাকার ২০% = ১৮ টাকা।
    অতএব, এককপ্রতি বিক্রয়মূল্য = ৯০ + ১৮ = ১০৮ টাকা।

    ২. ভারসাম্য বিন্দু (Break-Even Point) নির্ণয়:
    এককপ্রতি দত্তাংশ বা অনুদান (Contribution Margin) = এককপ্রতি বিক্রয়মূল্য - এককপ্রতি পরিবর্তনশীল ব্যয়
    = ১০৮ টাকা - ৪০ টাকা
    = ৬৮ টাকা।

    ভারসাম্য বিন্দু (এককে) = মোট স্থায়ী ব্যয় ÷ এককপ্রতি দত্তাংশ
    = ১,০০,০০,০০০ ÷ ৬৮
    ≈ ১,৪৭,০৫৮.৮২ একক বা প্রায় ১,৪৭,০৫৯ একক।

    ৩. লাভজনকতা বিশ্লেষণ:
    'ক' কোম্পানির সমচ্ছেদ বিক্রয়ের পরিমাণ ১,৪৭,০৫৯ একক, যেখানে তাদের প্রত্যাশিত বা সম্ভাব্য বিক্রয়ের পরিমাণ ২,০০,০০০ একক। প্রত্যাশিত বিক্রয় সমচ্ছেদ বিন্দুর বিক্রয়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা প্রান্ত (Margin of Safety) ইতিবাচক (২,০০,০০০ - ১,৪৭,০৫৯ = ৫২,৯৪১ একক)।
    যদি কোম্পানিটি প্রত্যাশিত ২,০০,০০০ একক পণ্য বিক্রয় করতে পারে, তবে তাদের মুনাফা হবে:
    মোট মুনাফা = (২,০০,০০০ × ১০৮) - [(২,০০,০০০ × ৪০) + ১,০০,০০,০০০]
    = ২,১৬,০০,০০০ - ১,৮০,০০,০০০ = ৩৬,০০,০০০ টাকা।

    সুতরাং, যেহেতু প্রত্যাশিত বিক্রয় সমচ্ছেদ বিন্দু অতিক্রম করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উদ্বৃত্ত ও মুনাফা তৈরি করে, তাই সামগ্রিকভাবে 'ক' কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমটি অত্যন্ত লাভজনক হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন