পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
একটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা লাভের পর 'ক' নির্বাচনে সরকারি দল বিরোধী দলের একটি জোটের নিকট ব্যাপকভাবে পরাজিত হয়। এ নির্বাচনটি ছিল একটি প্রদেশের নির্বাচন। ষোলো বছর পরের 'খ' নির্বাচনে ঐ জোটের একটি দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভ করে। জাতীয় পর্যায়ের এ নির্বাচনে জয়লাভ করলেও দলটির নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি।
- ক)(1)
কোন গণপরিষদ পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান রচনা করে?
- খ)(2)
১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন জারির কারণ ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' নির্বাচনে বিরোধী জোটের জয়লাভের কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইজিাতকৃত 'খ' নির্বাচনের ফলাফলের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। ৪
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পাকিস্তানের দ্বিতীয় গণপরিষদ দেশটির প্রথম সংবিধান (১৯৫৬ সালের সংবিধান) রচনা করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারির প্রধান কারণ ছিল রাজনীতিবিদদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, তীব্র রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দলীয় কোন্দল। ১৯৫৬ সালের সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ক্ষমতায় যেতে পারে—এই আশঙ্কায় আমলা ও সামরিক চক্র ভীত হয়ে পড়ে। ফলে প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মির্জা সংবিধান বাতিল করে সেনাপ্রধান আইয়ুব খানের সহায়তায় সামরিক শাসন জারি করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'ক' নির্বাচনটি হলো ১৯৫৪ সালের পূর্ব বাংলা প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে যুক্তফ্রন্ট জোটের বিজয়ের প্রধান কারণগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. একুশ দফা কর্মসূচি: যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহার 'একুশ দফা' ছিল পূর্ব বাংলার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এতে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা, জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, পূর্ব বাংলার পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন ইত্যাদি গণদাবি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২. ঐক্যবদ্ধ বিরোধী শক্তি: আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হওয়ায় বিরোধী ভোট ঐক্যবদ্ধ হয়।
৩. মুসলিম লীগের অপশাসন ও বৈষম্য: পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক নিপীড়ন, অর্থনৈতিক শোষণ এবং খাদ্য সংকটের কারণে জনগণ ক্ষুব্ধ ছিল। এসব কারণে যুক্তফ্রন্ট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত 'খ' নির্বাচনটি হলো ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যার ফলাফলের তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী ও যুগান্তকারী।
এ নির্বাচনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (১৬৭টি আসন) লাভ করে। এর তাৎপর্য নিম্নরূপ:
১. বাঙালির স্বাধিকারের ম্যান্ডেট: এই জয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর ৬ দফার ভিত্তিতে পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন চায় এবং ৬ দফা ছিল বাঙালির বাঁচার একমাত্র দাবি।
২. দ্বিজাতিতত্ত্বের স্থায়ী অবসান: নির্বাচনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ধারণাকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করে এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদে আস্থা স্থাপন করে।
৩. মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি: নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়। এই অন্যায় তালবাহানা ও বিশ্বাসঘাতকতার ফলে বাঙালি জাতি সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিকে ধাবিত হয় এবং অবশেষে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও