যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩

যুক্তিবিদ্যা ১ম পত্র প্রশ্ন

দৃশ্যপট-১: এক চিমটি লবণ + এক মুঠো গুড় আধাকেজি পানি = হাতে তৈরি খাবার স্যালাইন।দৃশ্যপট-২:

  1. ক)

    আরোহের ভিত্তি কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    "প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি আরোহের আকারগত ভিত্তি"- বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    দৃশ্য-১-এ কোন ধরনের কার্যসংমিশ্রণের প্রকাশ ঘটেছে?

    (3)
  4. ঘ)

    দৃশ্যপট-২-এ উল্লিখিত মতবাদটির গ্রহণযোগ্যতা তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব প্রক্রিয়া বা ভিত্তির ওপর নির্ভর করে আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাকে আরোহের ভিত্তি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    যেসব নিয়ম আরোহ অনুমানের সিদ্ধান্তকে আকারগতভাবে সত্য হতে সাহায্য করে, সেগুলোকে আরোহের আকারগত ভিত্তি বলা হয়। প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতি অনুসারে প্রকৃতি সবসময় একই অবস্থায় একই রকম আচরণ করে। এই নিয়মের ওপর নির্ভর করেই আমরা কয়েকটি বিশেষ দৃষ্টান্ত পর্যবেক্ষণ করে সমগ্র শ্রেণি সম্পর্কে একটি সার্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। এটি আরোহের চিন্তার নিয়ম বা রূপ নির্ধারণ করে বলে প্রকৃতির নিয়মানুবর্তিতা নীতিকে আরোহের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-১-এ 'সমজাতীয় কার্যসংমিশ্রণ'-এর প্রকাশ ঘটেছে।

    যখন একাধিক কারণ একসাথে মিলিতভাবে কাজ করে একটি মিশ্রিত কার্য উৎপন্ন করে এবং উৎপন্ন কার্যের প্রকৃতি কারণগুলোর স্বতন্ত্র কার্যের সমষ্টির সমান হয়, তখন তাকে সমজাতীয় কার্যসংমিশ্রণ বলে। এতে উপাদানগুলোর বৈশিষ্ট্য বিলুপ্ত হয় না, বরং যান্ত্রিকভাবে সংযুক্ত থাকে।

    উদ্দীপকে এক চিমটি লবণ, এক মুঠো গুড় ও আধা কেজি পানি মিশিয়ে হাতে তৈরি খাবার স্যালাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে লবণ, গুড় ও পানির নিজস্ব গুণাগুণ কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে পুরোপুরি লোপ পেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী নতুন কোনো যৌগ তৈরি করেনি; বরং এদের পৃথক ধর্ম বিদ্যমান রেখেই একটি মিশ্র কার্য (স্যালাইন) তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ কার্যটি উপাদানগুলোর স্বতন্ত্র কার্যের সমষ্টির ফল। যুক্তিবিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সমজাতীয় কার্যসংমিশ্রণ বা যান্ত্রিক কার্যসংমিশ্রণের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    দৃশ্যপট-২-এ যুক্তিবিদ্যার 'বহুকারণবাদ' (Plurality of Causes) মতবাদটি নির্দেশ করা হয়েছে।

    বহুকারণবাদ অনুযায়ী, একই কার্য ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন কারণ দ্বারা উৎপন্ন হতে পারে। দৃশ্যপট-২-এ দেখানো হয়েছে যে 'মৃত্যু' নামক একই কার্যটি বার্ধক্যজনিত কারণে, দুর্ঘটনায়, পানিতে ডুবে, সাপে কেটে, অগ্নিকাণ্ডে, মারাত্মক অসুখে কিংবা বিষপানের মতো ভিন্ন ভিন্ন কারণের মাধ্যমে ঘটতে পারে। সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকোণ বা লৌকিক অর্থে এই মতবাদটি গ্রহণযোগ্য মনে হলেও যুক্তিবিদ্যায় এটি সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়।

    যুক্তিবিজ্ঞানীদের মতে, বহুকারণবাদ একটি ভ্রান্ত ও আপাতদৃষ্টিতে সত্য মতবাদ। এর গ্রহণযোগ্যতা নিম্নরূপ পর্যালোচনার মাধ্যমে খণ্ডন করা যায়:

    ১. কারণকে সাধারণ বা শিথিল অর্থে গ্রহণ: বহুকারণবাদে কার্যকে সাধারণ অর্থে (যেমন: সাধারণ মৃত্যু) এবং কারণকে বিশেষ অর্থে (যেমন: বিষপান, পানিতে ডোবা) গ্রহণ করা হয়। কিন্তু কারণ ও কার্য উভয়কেই যদি নির্দিষ্ট বা বিশেষ অর্থে বিবেচনা করা হয় (যেমন: বিষপানে মৃত্যু), তবে দেখা যাবে বিষপানের কারণেই বিষপানে মৃত্যু হয়েছে, পানিতে ডুবে নয়।

    ২. কারণকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে বিচার: বৈজ্ঞানিক বা প্রকৃত অর্থে বিচার করলে দেখা যায়, মৃত্যুর প্রতিটি ভিন্ন ঘটনার পেছনে একটি মৌলিক সাধারণ কারণ রয়েছে, যা হলো হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হওয়া বা শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হওয়া। অতএব, প্রকৃত কারণ মূলত একটাই।

    ৩. কার্যকারণ নিয়মের পরিপন্থী: কার্যকারণ নিয়ম অনুযায়ী একই কারণ থেকে সবসময় একই কার্য উৎপন্ন হয় এবং একই কার্য সবসময় একই কারণ থেকে সৃষ্টি হয়। বহুকারণবাদ গ্রহণ করলে কার্যকারণ নিয়মের সার্বিকতা ক্ষুণ্ণ হয়।

    অতএব, পাঠ্যবইয়ের আলোকে বলা যায়, দৃশ্যপট-২-এর বহুকারণবাদ ব্যবহারিক বা লৌকিক ক্ষেত্রে দৃশ্যত সত্য বলে মনে হলেও বৈজ্ঞানিক ও কঠোর যুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন