অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সরকার ইচ্ছা করলে দেশ ও দেশের বাহির থেকে ঋণ নিতে পারে। দেশের বাহির থেকে ঋণ নিতে হলে বিভিন্ন শর্ত, সময়কাল, ঋণ পরিশোধ প্রভৃতি বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতে হয়। তবে সরকার বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারলেও জামিল সাহেব কেবল দেশেই ঋণ নিতে পারে।
- ক)(1)
সরকারি আয় কী?
- খ)(2)
ফি বাধ্যতামূলক দেয় নয় কেন?
- গ)(3)
বৈদেশিক ঋণের ক্ষেত্রে সরকার যে অসুবিধার সম্মুখীন হয় উদ্দীপকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
জামিল সাহেব যে উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করে তার সাথে সরকারি ঋণের পার্থক্য উদ্দীপকের ভিত্তিতে লেখ।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
রাষ্ট্র বা সরকার তার কার্যাবলি পরিচালনা ও দেশের সার্বিক উন্নয়নের ব্যয় নির্বাহের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করে, তাকে সরকারি আয় (Public Revenue) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ফি (Fee) হলো সরকারের বিশেষ সেবা গ্রহণের বিনিময়ে নাগরিক কর্তৃক প্রদত্ত অর্থ। করের মতো ফি সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়; কারণ কোনো ব্যক্তি যদি সরকারের বিশেষ সেবা গ্রহণ না করে, তবে তাকে এই অর্থ প্রদান করতে হয় না। কেবল সেবাগ্রহীতাই এর প্রত্যক্ষ সুবিধা পাওয়ার প্রেক্ষিতে ফি পরিশোধ করতে বাধ্য থাকে। তাই ফি কোনো সার্বজনীন বা বাধ্যতামূলক দেয় নয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সরকার দেশের বাহির থেকে ঋণ নিতে গেলে বিভিন্ন শর্ত, সময়কাল, ঋণ পরিশোধ প্রভৃতি বিষয় বিবেচনা করতে হয়, যা বৈদেশিক ঋণের মূল অসুবিধাকে নির্দেশ করে।
বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারকে আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বিদেশি রাষ্ট্রের নানাবিধ কঠিন শর্তের মুখোমুখি হতে হয়। এতে অনেক সময় দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ ছাড়া বৈদেশিক ঋণের সুদ ও আসল সাধারণত নির্দিষ্ট বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হয়। মুদ্রার বিনিময় হারের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে ঋণ পরিশোধের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। উদ্দীপকের আলোকে দেখা যায়, সরকার চাইলেই সহজে বৈদেশিক ঋণ নিতে পারে না; বরং কঠিন শর্তাবলি, দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের চাপ এবং রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক প্রভাবের ঝুঁকির মতো নানামুখী অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের জামিল সাহেব কেবল দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নেন, যা ব্যক্তিগত বা বেসরকারি ঋণ। অন্যদিকে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে ঋণ গ্রহণ করতে পারে, যা সরকারি ঋণ।
উদ্দীপক ও অর্থনীতির তত্ত্বের আলোকে সরকারি ঋণ ও জামিল সাহেবের ব্যক্তিগত ঋণের প্রধান পার্থক্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. ঋণের উৎস: জামিল সাহেব কেবল দেশীয় উৎস (যেমন—নিকটাত্মীয়, স্থানীয় ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান) থেকে ঋণ নিতে পারেন। কিন্তু সরকার দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থা (যেমন—বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) এবং বিদেশি রাষ্ট্র থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে পারে।
২. উদ্দেশ্য: জামিল সাহেব ব্যক্তিগত বা পারিবারিক প্রয়োজন এবং ব্যবসায়িক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে ঋণ নেন। অপরদিকে সরকার জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় সংকট মোকাবিলার উদ্দেশ্যে ঋণ গ্রহণ করে।
৩. ঋণের শর্ত ও বাধ্যবাধকতা: ব্যক্তি হিসেবে জামিল সাহেবের ঋণে ব্যক্তিগত জামানত লাগে এবং না দিলে আইনগত ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়। কিন্তু সরকারের ক্ষেত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার কারণে বাধ্যতামূলক অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণের ক্ষমতা থাকে এবং বৈদেশিক ঋণে থাকে নানা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক শর্ত।
৪. ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য: সরকার প্রয়োজনে মুদ্রা ছাপিয়ে বা নতুন কর ধার্য করে ঋণ পরিশোধ করতে পারে, যা জামিল সাহেবের মতো ব্যক্তির পক্ষে অসম্ভব।অতএব, ঋণের উৎস, গ্রহণের উদ্দেশ্য, শর্তের প্রকৃতি এবং পরিশোধ পদ্ধতির দিক দিয়ে জামিল সাহেবের ঋণের সাথে সরকারি ঋণের মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও