বাংলা ১ম পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২২
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
১৯৭১ সাল। পাক বাহিনীর অত্যাচারে দিশেহারা, পর্যুদস্ত দেশ। মাঠ-ঘাট পেরিয়ে মিলিটারি-রাজাকারের চোখ এড়িয়ে ভারতের আশ্রয় শিবিরের উদ্দেশ্যে ছুটে চলার প্রাণান্তকর চেষ্টা বৃদ্ধা আদুরির। হঠাৎ ক্ষেতের মধ্যে গুলিবিদ্ধ মায়ের লাশের পাশে কান্নারত এক শিশুকে দেখে থমকে যায় আদুরি। নিঃস্ব কোলে তুলে নেয় অসহায় শিশুটিকে। আবারও ছুটতে থাকে আদুরি। শিশুটিকে যে বাঁচাতেই হবে-ভাবতে ভাবতে সুদৃঢ় হয় বৃদ্ধার পদক্ষেপ।।
- ক)(1)
‘মাসি-পিসি’ গল্পে উল্লিখিত বাবুর নাম কী?
- খ)(2)
“মোরা নয় মরব।”-পিসির এ উক্তি কিসের ইঙ্গিত বহনকারী?-বুঝিয়ে দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে বর্ণিত শিশুটির সাথে ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদির মিল কোন দিক থেকে?-বুঝিয়ে দাও।
- ঘ)(4)
“ভাবতে ভাবতে সুদৃঢ় হয় বৃদ্ধার পদক্ষেপ।”-এ উক্তিটি দ্বারা ‘মাসি-পিসি’ গল্পের মাসি-পিসির চারিত্রিক দৃঢ়তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
‘মাসি-পিসি’ গল্পে উল্লিখিত বাবুর নাম গোকুল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
“মোরা নয় মরব।”—পিসির এই উক্তিটি দ্বারা নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও আহ্লাদিকে সমাজের লোলুপ ও অত্যাচারী শক্তির হাত থেকে রক্ষা করার আমৃত্যু সংকল্পের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
জগুর মতো নির্যাতনকারী স্বামী এবং গোকুল বাবুর মতো লালসাপূর্ণ দুর্বৃত্তদের হাত থেকে পিতৃহীন, মাতৃহীন আহ্লাদির সম্ভ্রম ও নিরাপত্তা রক্ষায় মাসি ও পিসি ছিল সম্পূর্ণ নিবেদিতপ্রাণ। পিসির এই কথায় স্পষ্ট হয় যে, তারা আহ্লাদিকে রক্ষা করতে শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে প্রয়োজনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করবে, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই আহ্লাদির ওপর অন্যায় মেনে নেবে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত শিশুটির সাথে ‘মাসি-পিসি’ গল্পের আহ্লাদির চরম অসহায়ত্ব, অভিভাবকহীনতা এবং অন্যের আশ্রয় ও স্নেহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকার দিক থেকে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নারকীয় তাণ্ডবে এক মা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং তার পাশে পড়ে থাকা নিষ্পাপ শিশুটি একেবারেই অভিভাবকহীন ও বিপন্ন হয়ে পড়ে। একমাত্র সহায়হীন অবস্থায় বৃদ্ধা আদুরি তাকে বুকে তুলে নেয়।
‘মাসি-পিসি’ গল্পে আহ্লাদিও কলেরা ও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে বাবা, মা ও ভাইকে হারিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়েছিল। উপরন্তু তার স্বামী জগু ছিল এক নির্মম ও অত্যাচারী ব্যক্তি। চরম অভিভাবকহীন ও নিরাপত্তাহীন সেই আহ্লাদির একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে বিধবা মাসি ও পিসি। উদ্দীপকের গুলিবিদ্ধ মায়ের ক্রন্দনরত শিশুটি যেভাবে নিজের অস্তিত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ অক্ষম, ঠিক তেমনি বাস্তব জীবনের কঠিন প্রতিকূলতায় আহ্লাদিও ছিল অত্যন্ত অসহায় ও আত্মরক্ষায় অপরাগ। এই অসহায় ও পরনির্ভরশীলতার দিক থেকেই উদ্দীপকের শিশুটির সাথে আহ্লাদির সাদৃশ্য রয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের “ভাবতে ভাবতে সুদৃঢ় হয় বৃদ্ধার পদক্ষেপ।” উক্তিটি দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা এবং জীবনরক্ষার তাড়নায় সৃষ্ট যে অদম্য শক্তির প্রকাশ ঘটায়, তা ‘মাসি-পিসি’ গল্পের মাসি ও পিসির চারিত্রিক দৃঢ়তার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে বৃদ্ধা আদুরি নিজে যুদ্ধের শিকার ও ক্লান্ত হওয়া সত্ত্বেও একটি অনাথ শিশুর প্রাণ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে পিছু হটেনি; বরং শিশুর মুখে বেঁচে থাকার আলো জ্বালাতে তার সংকল্প ও পদক্ষেপ সুদৃঢ় হয়েছে।
‘মাসি-পিসি’ গল্পেও দেখা যায়, মাসি ও পিসি দুই বিধবা নারী সমাজের চরম প্রতিকূলতার মাঝে বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। পরিবারের একমাত্র অবশিষ্টাংশ আহ্লাদিকে তারা নিজেদের সন্তানের মতো ভালোবেসে আগলে রেখেছে। সমাজের লম্পট দারোগা, গুন্ডা কানাই ও গোকুল বাবুর কুদৃষ্টি এবং পাষণ্ড স্বামী জগুর হাত থেকে আহ্লাদিকে বাঁচাতে তারা কখনো ভীরুতা দেখায়নি। বরং তারা আত্মরক্ষার জন্য বঁটি শান দেয়, সজাগ পাহারা বসায় এবং যে কোনো আক্রমণ প্রতিহত করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তারা দুর্বল নারী হওয়া সত্ত্বেও আহ্লাদির নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন ও ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে।
সুতরাং, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্নেহ ও দায়িত্বের তাগিদে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়ানোর যে নৈতিক ও মানসিক দৃঢ়তা আদুরির পদক্ষেপে দেখা যায়, তা মাসি-পিসির চরিত্রকে স্বার্থহীন প্রতিবাদী ও সাহসী নারী হিসেবে উজ্জ্বল করে তুলেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও