ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫

ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন

বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রা বাজারের অভিভাবক। এই ব্যাংকের একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে, যেখানে তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহের পারষ্পরিক দেনা পাওনার নিষ্পত্তি হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে ব্যাংকটির সুদের হার ৫% থেকে ৬% এ উন্নীত করে। তবু মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক CRR বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।

  1. ক)

    তারল্য কী?

    (1)
  2. খ)

    'খোলাবাজার নীতি কীভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে'? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন বিশেষ কক্ষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত ২য় ব্যবস্থা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    কোনো সম্পদকে মূল্যের ক্ষতি বা লোকসান ছাড়া কত দ্রুত ও সহজে নগদ অর্থে রূপান্তর করা যায়, সেই সক্ষমতাকে তারল্য বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    খোলাবাজার নীতি হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক অর্থবাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ, ঋণপত্র, ট্রেজারি বিল বা বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণদান ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল।

    অর্থবাজারে অতিরিক্ত ঋণপ্রবাহ বা মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক খোলাবাজারে সরকারি সিকিউরিটিজ বিক্রি করে। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও জনসাধারণের অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চলে আসে, যার ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের নগদ তহবিল ও ঋণদান ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিপরীতভাবে, বাজারে অর্থের সংকট থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিকিউরিটিজ ক্রয় করে তারল্য বৃদ্ধি করে। এভাবে খোলাবাজার নীতি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ ঘর (Clearing House)-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

    যে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার তালিকাভুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যকার পারস্পরিক দেনা-পাওনা চেক ও অন্যান্য দলিলের মাধ্যমে আন্তঃব্যাংকিং সমন্বয়ের দ্বারা নিষ্পত্তি করে, তাকে নিকাশ ঘর বলা হয়।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ কক্ষ রয়েছে, যেখানে তালিকাভুক্ত ব্যাংকসমূহের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তি হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার প্রধান কার্যালয় বা শাখা কার্যালয়ের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে নির্দিষ্ট সময়ে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের একত্রিত করে তাদের মধ্যে জমাকৃত চেক ইত্যাদির আদান-প্রদান ঘটিয়ে পারস্পরিক দেনা-পাওনার হিসাব নিকাশ করে দেয়। অতএব, উদ্দীপকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ ঘর বা ক্লিয়ারিং হাউজের কাজের কথাই নির্দেশ করা হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের গৃহীত দ্বিতীয় ব্যবস্থা, অর্থাৎ সিআরআর (CRR - Cash Reserve Ratio) বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।

    বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহকে তাদের মোট আমানতের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ আকারে জমা রাখতে হয়, যাকে নগদ জমার অনুপাত বা CRR বলে। এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণের একটি অত্যন্ত কার্যকরী প্রত্যক্ষ পরিমাণগত পদ্ধতি।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, দেশে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথমে ব্যাংক হারের মতো সুদের হার ৫% থেকে বাড়িয়ে ৬% করে। কিন্তু এতে বাজারে অর্থের সরবরাহ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না কমায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে CRR বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়।

    CRR বৃদ্ধি করা হলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের আমানতের অধিক পরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নগদ হিসেবে জমা রাখতে বাধ্য হতে হয়। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের হাতে অতিরিক্ত বা উদ্বৃত্ত তারল্য হ্রাস পায়। তাদের ঋণ প্রদানের সক্ষমতা সরাসরি সংকুচিত হয়ে পড়ে। ব্যাংকগুলোর ঋণ প্রদানের ক্ষমতা কমলে বাজারে অর্থের সরবরাহ দ্রুত হ্রাস পায়, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে এবং সামগ্রিক চাহিদা হ্রাসের মাধ্যমে পণ্যের মূল্যস্তর নেমে আসে। সুদের হার বাড়িয়ে যখন পরোক্ষভাবে ঋণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি, তখন সিআরআর বৃদ্ধির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ সৃষ্টির সক্ষমতাকে সরাসরি ও কঠোরভাবে সংকুচিত করা একটি অত্যন্ত কার্যকর কৌশল। অতএব, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তটি সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন