সাহিত্য পাঠ • রেইনকোট • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৩

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

শওকত ওসমানের 'জাহান্নাম হইতে বিদায়' উপন্যাসে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী এ দেশকে বিভীষিকাময় নরককুণ্ডে পরিণত করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তৎপরতার কথাও আছে। প্রবীণ স্কুলশিক্ষক গাজী রহমান স্বীয় প্রাণ সংশয়াপন্ন দেখে আত্মগোপনে চলে যান। কিন্তু এ পলাতক জীবন নিয়ে তিনি বিব্রত। তিনি যেন তাঁর নিজের কাছেই অপরিচিত জন। দেড় মাসের পলাতক জীবনে তাঁর সঙ্গে পরিচয় ঘটে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার। অসীম সাহসী এ সকল মানুষের সাথে মিশে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্ভীকচিত্তে তিনি পা রাখেন বাস্তবের কঠিন কর্তব্যভূমিতে।

  1. ক)

    ‘রেইনকোট' গল্পে উল্লিখিত ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপালের নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    “যেন বৃষ্টি পড়ছে মিন্টুর রেইনকোটের ওপর।”—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপরেক গাজী রহমানের সাথে ‘রেইনকোর্ট’ গল্পের নুরুল হুদার সাদৃশ্যেপূর্ণ দিকটি আলোচনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ‘রেইনকোর্ট’ গল্পের বিষয়বস্তু কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে ? তোমার উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও ।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    ‘রেইনকোট’ গল্পে উল্লিখিত ঢাকা কলেজের প্রিন্সিপালের নাম ডক্টর আফাজ আহমদ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উক্তিটি দ্বারা পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম প্রহারের মুখেও নুরুল হুদার দেশপ্রেম ও বীরত্বপূর্ণ মানসিকতার প্রকাশ বোঝানো হয়েছে।

    পাকিস্তানি সেনারা আলমারি ভাঙার দড়ি দিয়ে নুরুল হুদাকে উল্টো করে ঝুলিয়ে চাবুক ও রড দিয়ে প্রচণ্ড আঘাত করছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর রেইনকোট গায়ে থাকায় তাঁর মনে হচ্ছিল যেন কোনো যন্ত্রণাদায়ক চাবুক নয়, বরং মিন্টুর রেইনকোটের ওপর বৃষ্টির পানি টুপটুপ করে ঝরে পড়ছে। রেইনকোটটি তাঁর ভেতর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতা ও উষ্ণ দেশপ্রেম সঞ্চার করেছিল বলেই তিনি শারীরিক যন্ত্রণাকে তুচ্ছ জ্ঞান করতে পেরেছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের গাজী রহমানের সাথে ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদার দ্বিধাদ্বন্দ্বগ্রস্ত সাধারণ অবস্থা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সাহচর্যে এসে নির্ভীক ও সাহসী হয়ে ওঠার দিকটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘রেইনকোট’ গল্পের নুরুল হুদা ছিলেন একজন সাধারণ, ভীতু প্রকৃতির কলেজ শিক্ষক। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদারদের হাত থেকে নিজের প্রাণ বাঁচাতে তিনি ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতেন এবং আনুগত্য প্রকাশের ভান করতেন। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা শ্যালক মিন্টুর রেখে যাওয়া রেইনকোটটি গায়ে দেওয়ার পর তাঁর মধ্যে এক অভাবনীয় দেশপ্রেম ও নৈতিক শক্তির জন্ম হয়; ফলে মিলিটারি টর্চার সেলে চরম নির্যাতনের মুখেও তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন তথ্য দেননি, বরং আত্মবিশ্বাসী আচরণ করেছেন।

    উদ্দীপকের গাজী রহমানও প্রাণভয়ে আত্মগোপন করেছিলেন এবং নিজ বিবেক ও অস্তিত্ব নিয়ে বিব্রত ছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের সান্নিধ্যে এসে তাঁদের দেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি তাঁর কাপুরুষোচিত ভীতি কাটিয়ে বাস্তব কর্তব্যের পথে নামেন। উভয় চরিত্রের সাধারণ ভীতিগ্রস্ত অবস্থা থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সঞ্জীবিত হয়ে সাহসী ব্যক্তিতে রূপান্তরিত হওয়ার এই প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে ‘রেইনকোট’ গল্পের সামগ্রিক বিষয়বস্তু নয়, বরং গল্পের মূল রূপান্তর ও চেতনার দিকটি আংশিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

    সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘রেইনকোট’ গল্পে ১৯৭১ সালের অবরুদ্ধ ঢাকার অবরুদ্ধ পরিবেশ, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নিষ্ঠুরতা ও হত্যাযজ্ঞ, কলেজের তাঁবেদার প্রিন্সিপাল ড. আফাজ আহমদ ও তোষামোদকারী কর্মচারীদের কার্যকলাপ এবং সাধারণ মানুষের অন্তহীন ভীতি অত্যন্ত নিপুণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। গল্পে মুক্তিযোদ্ধা মিন্টুর ‘রেইনকোট’ একটি প্রতীকের ভূমিকা পালন করেছে, যা একজন সাধারণ ও শঙ্কিত নাগরিকের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের তেজ ও স্বাধীনতা অর্জনের অদম্য স্পৃহা সঞ্চারিত করে।

    উদ্দীপকে শওকত ওসমানের উপন্যাসের মাধ্যমে একাত্তরের নরককুণ্ড ও সাধারণ এক প্রবীণ শিক্ষকের মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণায় সাহস ফিরে পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এটি ‘রেইনকোট’ গল্পের শিক্ষক নুরুল হুদার মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তনের সাথে মিলে যায়। তবে গল্পে পাকিস্তানি দোসরদের ভণ্ডামি, গেরিলা অপারেশনের বিস্তার, অবরুদ্ধ মহানগরের মানসিক সংকট এবং প্রতীকের জাদুকরী প্রভাবের যে বিস্তৃত বিষয়বস্তু রয়েছে, উদ্দীপকে তা সংক্ষেপিত রূপ ছাড়া সামগ্রিকভাবে উঠে আসেনি।

    সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে ‘রেইনকোট’ গল্পের অবরুদ্ধ মানুষের মানসিক রূপান্তর ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মূল সুরটি চমৎকারভাবে ধরা পড়লেও গল্পের পটভূমি ও সামগ্রিক উপাদানের বিস্তার উদ্দীপকে আংশিকভাবেই প্রতিফলিত হয়েছে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন