জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • Dinajpur Board • দিনাজপুর বোর্ড ২০২৫
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
উদ্দীপকটি লক্ষ্য কর:

- ক)(1)
পরিপাক কী?
- খ)(2)
জিহ্বা কীভাবে খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'O' অংশের সঞ্চয়ী ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের M ও N অংশে সংঘটিত পরিপাক কাজে স্নায়ু ও হরমোনের কার্যক্রম বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জটিল, অদ্রবণীয় ও শোষণ-অনুপযোগী খাদ্য উপাদান বিভিন্ন হরমোনের প্রভাবে এবং এনজাইমের সহায়তায় ভেঙে দেহের কোষের গ্রহণোপযোগী সরল, দ্রবণীয় ও তরল উপাদানে পরিণত হয়, তাকে পরিপাক বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জিহ্বার মিউকোসা স্তরে উপস্থিত টেস্ট বাড বা স্বাদ কোরকের মাধ্যমে জিহ্বা খাবারের স্বাদ গ্রহণ করে।
খাদ্যবস্তু মুখের লালা রসের সাথে দ্রবীভূত হয়ে স্বাদ কোরকের সূক্ষ্ম লোম বা টেস্ট হেয়ারের সংস্পর্শে আসে। এর ফলে স্বাদ কোরকের সংবেদী কোষগুলো উদ্দীপিত হয় এবং এই উদ্দীপনা সংবেদী স্নায়ুর মাধ্যমে মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট স্বাদ কেন্দ্রে পৌঁছায়। ফলে আমরা মিষ্টি, টক, নোনতা বা তিতকুটে স্বাদ অনুভব করতে পারি।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'O' চিহ্নিত অঙ্গটি হলো যকৃৎ (Liver)। যকৃৎ মানবদেহের প্রধান সঞ্চয়ী অঙ্গ বা 'জৈব রসায়নাগার' হিসেবে কাজ করে। এর প্রধান সঞ্চয়ী ভূমিকাগুলো নিম্নরূপ:
১. গ্লাইকোজেন সঞ্চয়: রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ইনসুলিন হরমোনের প্রভাবে গ্লাইকোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় গ্লাইকোজেনে রূপান্তরিত হয়ে যকৃতে সঞ্চিত থাকে। প্রয়োজনে গ্লুকাগন হরমোনের প্রভাবে এটি পুনরায় গ্লুকোজে পরিণত হয়।
২. চর্বি সঞ্চয়: যকৃৎ অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটকে লিপোজেনেসিস প্রক্রিয়ায় ট্রাইগ্লিসারাইড ও ফ্যাটে রূপান্তর করে জমা রাখে।
৩. ভিটামিন সঞ্চয়: যকৃতে চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (A, D, E, K) এবং পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (B12, ফলিক এসিড ইত্যাদি) সঞ্চিত থাকে।
৪. পিত্তরস সঞ্চয়: যকৃতের হেপাটোসাইট কোষে তৈরি পিত্তরস সাময়িকভাবে যকৃতে ও পিত্তথলিতে সঞ্চিত হয়।
৫. খনিজ লবণ ও রক্ত সঞ্চয়: যকৃৎ দেহে আয়রন (ফেরিটিন হিসেবে), কপার, জিঙ্ক, পটাসিয়াম প্রভৃতি খনিজ সঞ্চয় করে। এছাড়া যকৃৎ প্রায় ১.৫ লিটার রক্ত ধারণ করে দেহের রক্তভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'M' চিহ্নিত অংশটি হলো পাকস্থলী (Stomach) এবং 'N' চিহ্নিত অংশটি হলো অগ্ন্যাশয় (Pancreas)। এদের পরিপাক কাজে স্নায়ু ও হরমোনের কার্যক্রম নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. পাকস্থলীতে (M) স্নায়ু ও হরমোনের কার্যক্রম:
- স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ: খাদ্যের দর্শন, গন্ধ বা স্বাদের কারণে ভেগাস স্নায়ু (Vagus nerve) উদ্দীপিত হয়। ভেগাস স্নায়ু পাকস্থলীর প্রাচীরকে উদ্দীপিত করে গ্যাস্ট্রিক জুস ক্ষরণে প্রাথমিক সহায়তা করে। এটি একটি প্রতিবর্ত ক্রিয়া।
- হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ: খাদ্য পাকস্থলীতে প্রবেশের পর গ্যাস্ট্রিক মিউকোসার জি-কোষ থেকে 'গ্যাস্ট্রিন' হরমোন ক্ষরিত হয়। গ্যাস্ট্রিন রক্তসংবহনের মাধ্যমে পুনরায় পাকস্থলীতে এসে গ্যাস্ট্রিক গ্রন্থিকে প্রচুর পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক জুস (প্রধানত হাইড্রোক্লোরিক এসিড ও পেপসিনোজেন) ক্ষরণে উদ্দীপনা যোগায়। এছাড়া খাদ্য পাকস্থলী ত্যাগ করলে 'এন্টারোগ্যাস্ট্রোন' হরমোন গ্যাস্ট্রিক রস ক্ষরণ কমিয়ে দেয়।
২. অগ্ন্যাশয়ে (N) স্নায়ু ও হরমোনের কার্যক্রম:
- স্নায়বিক নিয়ন্ত্রণ: খাদ্য যখন পাকস্থলী থেকে ডিওডেনামে প্রবেশ করে, তখন ভেগাস স্নায়ুর পরা-অনুকম্পী শাখা অগ্ন্যাশয়কে উদ্দীপিত করে অগ্ন্যাশয় রস ও এনজাইম ক্ষরণ বৃদ্ধি করে।
- হরমোনাল নিয়ন্ত্রণ: অম্লীয় কাইম (খাদ্যমণ্ড) ডিওডেনামে পৌঁছালে সেখানকার মিউকোসা থেকে দুটি প্রধান হরমোন ক্ষরিত হয়—
(ক) সিক্রেটিন: এটি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে অগ্ন্যাশয়ে পৌঁছে অগ্ন্যাশয় থেকে ক্ষারীয় ও প্রচুর পরিমাণ বাইকার্বনেটযুক্ত তরল ক্ষরণ ঘটায়, যা অম্লতাকে প্রশমিত করে।
(খ) কোলেসিস্টোকাইনিন (CCK): এটি অগ্ন্যাশয়ের অ্যাসিনার কোষগুলোকে উদ্দীপিত করে বিভিন্ন পরিপাককারী এনজাইম (যেমন: ট্রিপসিনোজেন, অ্যামাইলেজ, লাইপেজ ইত্যাদি) সমৃদ্ধ অগ্ন্যাশয় রস ক্ষরণ করায়।
অতএব, স্নায়ু উদ্দীপনা দ্রুত ক্ষরণ শুরু করে এবং হরমোনগুলো সুনির্দিষ্ট রাসায়নিক বার্তা প্রেরণের মাধ্যমে পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের সমন্বিত পরিপাক ক্রিয়া অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও