ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০২২
ফিন্যান্স ব্যাংকিং ও বিমা ২য় পত্র প্রশ্ন
মানুন সাহেব তার জীবনের ওপর একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন। বিদ্যালয়ে তিনি 8 মারা গেলে তার স্ত্রীকে বিষাদাবি পরিশোধ করার কথা বলা হয়। তার মৃত্যুর পর তার সাবালক ছেলে বিমাদাবি উপস্থাপন করলে বিমা কোম্পানি তা প্রত্যাখ্যান করে।
- ক)(1)
সমকিস্তি বিমাপত্র কী?
- খ)(2)
কোন বিমায় স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি প্রযোজ্য নয়? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
মারুফ সাহেব তার নিজের জন্য কোন ধরনের জীবন বিমা করেছেন - ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের বিমা কোং কর্তৃক মি. মারুফ সাহেবের ছেলের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে বিমাপত্রে সম্পূর্ণ মেয়াদে কিস্তির পরিমাণ বা প্রিমিয়ামের হার সবসময় সমান বা অপরিবর্তিত থাকে, তাকে সমকিস্তি বিমাপত্র বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জীবন বিমায় স্থলাভিষিক্তকরণের নীতি (Principle of Subrogation) প্রযোজ্য নয়।
স্থলাভিষিক্তকরণ নীতি মূলত ক্ষতিপূরণের বিমা (যেমন: নৌ ও অগ্নি বিমা)-র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেখানে ক্ষতির সম্পূর্ণ অর্থ পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তির ওপর বিমাগ্রহীতার যাবতীয় অধিকার বিমাকারীর অনুকূলে ন্যস্ত হয়। কিন্তু মানুষের জীবনের কোনো আর্থিক মূল্য নির্ধারণ সম্ভব নয় বলে জীবন বিমা কোনো ক্ষতিপূরণের চুক্তি নয়, বরং এটি একটি প্রতিশ্রুতির চুক্তি। তাই মৃত্যুর ক্ষেত্রে বিমাকারক তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষতিপূরণের দাবি করতে পারে না বা বিমাগ্রহীতার অধিকার গ্রহণ করতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে মারুফ সাহেব (মানুন সাহেব) তার নিজের জন্য 'মনোনীতকসহ সাধারণ জীবন বিমাপত্র' বা 'একক জীবন বিমাপত্র' গ্রহণ করেছেন।
জীবন বিমা চুক্তিতে বিমাগ্রহীতা নিজের মৃত্যুর পর বিমাকৃত অর্থ কে গ্রহণ করবে তা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য কাউকে ‘মনোনীতক’ বা ‘নমিনি’ (Nominee) হিসেবে নিযুক্ত করতে পারেন। এটি সাধারণ জীবন বিমার একটি আবশ্যকীয় ও প্রচলিত রূপ।
উদ্দীপকে মারুফ সাহেব নিজের জীবনের ওপর একটি বিমা পলিসি গ্রহণ করেন এবং তিনি মারা গেলে বিমাকৃত অর্থ তাঁর স্ত্রীকে পরিশোধ করার নির্দেশ দেন। অর্থাৎ, তিনি তাঁর স্ত্রীকে এই বিমাপত্রের নমিনি বা মনোনীতক করেছিলেন। অতএব, এটি মনোনীতক সম্বলিত একটি সাধারণ একক জীবন বিমাপত্র।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের বিমা কোম্পানি কর্তৃক মারুফ সাহেবের ছেলের বিমা দাবি প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও যৌক্তিক।
বিমা আইন অনুযায়ী, বিমাগ্রহীতা জীবিত অবস্থায় পলিসিতে যাকে 'নমিনি' বা 'মনোনীতক' হিসেবে নির্ধারণ করে যান, বিমাগ্রহীতার মৃত্যুর পর বিমা দাবি উত্থাপন ও গ্রহণ করার একক বৈধ অধিকার কেবল সেই মনোনীতকেরই থাকে। মনোনীতক জীবিত থাকা অবস্থায় বিমাগ্রহীতার অন্য কোনো বৈধ উত্তরাধিকারী বিমাদাবি সরাসরি বিমা কোম্পানির নিকট উত্থাপন বা গ্রহণ করতে পারে না।
উদ্দীপকে মারুফ সাহেব পলিসি গ্রহণকালে শর্ত উল্লেখ করেছিলেন যে, তিনি মারা গেলে তাঁর স্ত্রীকে বিমাদাবি পরিশোধ করা হবে। অর্থাৎ তাঁর স্ত্রী ছিলেন বৈধ মনোনীতক। মারুফ সাহেবের মৃত্যুর পর মনোনীতক (স্ত্রী) জীবিত থাকা সত্ত্বেও তাঁর সাবালক ছেলে বিমাদাবি দাবি করেন। বিমা চুক্তির শর্ত ও বিমা আইন অনুসারে বিমা কোম্পানি মনোনীতক ছাড়া অন্য কারো দাবি গ্রহণ করতে বাধ্য নয়।
অতএব, মনোনীতকের উপস্থিতি সত্ত্বেও ছেলের এককভাবে বিমাদাবি উত্থাপন আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয় বিধায় বিমা কোম্পানি কর্তৃক তা প্রত্যাখ্যান করা যথাযথ ও যৌক্তিক হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও