সাহিত্য পাঠ • আঠারো বছর বয়স • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৫

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

১৯৭১ সালে অসংখ্য মানুষ জীবন-মরণের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধ চলাকালীন তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ শাহাদতবরণ করেন। আবার কেউ কেউ চিরকালের জন্য পঙ্গুত্বের শিকার হন। তারপরও তাঁরা পিছপা হননি। তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং আত্মদানের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে।

  1. ক)

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    'আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা'-সপ্রসঙ্গ পঙ্ক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    'এ বয়স জানে রক্তদানের পূণ্য'-পঙ্ক্তিটি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের সাথে কীভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? বিশ্লেষণ কর।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের কর্মকাণ্ড 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার 'এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে'-এই পঙ্ক্তির প্রত্যাশারই প্রতিফলন।”মন্তব্যটি যাচাই কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা'—পঙ্ক্তিটি দিয়ে কৈশোর পেরিয়ে যৌবনে পদার্পণকারী তরুণদের নির্ভীক মানসিকতা ও দুঃখ-কষ্টে ভেঙে না পড়ার দৃঢ়তাকে বোঝানো হয়েছে।

    এ বয়সের তরুণরা আঘাত, বেদনা কিংবা প্রতিকূলতায় বিমর্ষ হয়ে চোখের জল ফেলে সময় নষ্ট করে না। কান্নার মতো দুর্বলতাকে অতিক্রম করে তারা বুক ফুলিয়ে সংকট মোকাবেলা করতে শেখে। পৌরুষ ও সাহসিকতার কারণে তারা যেকোনো বিপর্যয়কে জয় করার প্রত্যয় রাখে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    'এ বয়স জানে রক্তদানের পূণ্য'—পঙ্ক্তিটিতে দেশের ও দশের মঙ্গলে আত্মোৎসর্গের যে মহিমা প্রকাশ পেয়েছে, তা ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের সাথে সরাসরি সাদৃশ্যপূর্ণ।

    'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য তারুণ্যের আত্মত্যাগ ও নিঃস্বার্থ আত্মাহুতির জয়গান গেয়েছেন। এ বয়স কোনো ক্ষুদ্র স্বার্থের কথা ভাবে না; বরং সত্য, সুন্দর ও ন্যায়ের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের তাজা রক্ত বিলিয়ে দিতেও পিছপা হয় না।

    উদ্দীপকে দেখা যায়, ১৯৭১ সালে অসংখ্য মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে তাঁরা হাসিমুখে শাহাদতবরণ করেন এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন। কবির বর্ণিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে আত্মবিসর্জনের এই নিঃস্বার্থ মহিমান্বিত রূপটিই মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে প্রস্ফুটিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    “উদ্দীপকের কর্মকাণ্ড 'আঠারো বছর বয়স' কবিতার 'এ দেশের বুকে আঠারো আসুক নেমে'-এই পঙ্ক্তির প্রত্যাশারই প্রতিফলন”—মন্তব্যটি সর্বাংশে সত্য ও তাৎপর্যপূর্ণ।

    কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য 'আঠারো বছর বয়স' কবিতায় তারুণ্যের অদম্য প্রাণশক্তি, অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং দেশমাতৃকার কল্যাণে আত্মত্যাগের আকাঙ্ক্ষাকে মূর্ত করেছেন। কবি কামনা করেছিলেন, দেশের যেকোনো জাতীয় সংকট ও স্থবিরতা দূর করতে আঠারোর নির্ভীক চেতনা যেন সমগ্র জাতির চেতনায় ছড়িয়ে পড়ে।

    উদ্দীপকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আপামর জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণ, মরণপণ যুদ্ধ ও আত্মত্যাগের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদারদের অন্যায় শোষণ-পীড়ন থেকে দেশকে রক্ষা করতে মুক্তিযোদ্ধারা কোনো বাধা বা মৃত্যুর ভয়কে পরোয়া করেননি। তাঁরা নিজের জীবন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উৎসর্গ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছেন। এই অপরাজেয় দেশপ্রেম এবং অকুতোভয় আত্মদানই হলো আঠারো বছর বয়সের মৌল শক্তি।

    জাতির প্রয়োজনে আত্মবিসর্জন দিয়ে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার যে উদ্দীপনা কবিতায় প্রত্যাশা করা হয়েছিল, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা ঠিক সেই চেতনাকে বাস্তবায়িত করেছিলেন। সুতরাং, উদ্দীপকের মুক্তিসংগ্রাম ও আত্মদান কবির প্রত্যাশিত আঠারোর চেতনারই উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন