সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম সম্পর্কিত প্রত্যয়সমূহ • Combined Board • ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, বরিশাল, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২১
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
ফাতেমা জেসমিন একজন সম্পদশালী ধার্মিক মহিলা। তিনি প্রতিবছর রমজান মাসের প্রথম ভাগে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী তার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র অভাবগ্রস্ত ও ঋণগ্রস্ত মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন এর মাধ্যমে সমাজের সম্পদ ও সুযোগ সুবিধার সুষম বন্টনের পরিবেশ সৃষ্টি হবে।
- ক)(1)
দানশীলতা কি?
- খ)(2)
এতিমখানার কার্যক্রম ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকে ফাতেমা জেসমিনের কর্মকাণ্ডে কোন ঐতিহ্যগত সমাজ কল্যাণ প্রতিষ্ঠানের ইঙ্গিত রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উক্ত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিভাবে সমাজে সুষম বন্টনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে? আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো প্রতিদান বা পার্থিব স্বার্থের আশা না করে নিঃস্বার্থভাবে অভাবগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে অর্থ, সম্পদ বা সাহায্য প্রদান করাকে দানশীলতা বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
এতিমখানা হলো পিতৃহীন বা অভিভাবকহীন দুস্থ ও অসহায় শিশুদের লালন-পালন, ভরণপোষণ, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান। এতিমখানায় শিশুদের মৌলিক মানবিক চাহিদা যেমন— খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা এবং নৈতিক ও কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়, যাতে তারা সমাজে স্বাবলম্বী ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ফাতেমা জেসমিনের কর্মকাণ্ডে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান 'যাকাত'-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিমের জন্য প্রতি বছর তার সঞ্চিত বা উদ্বৃত্ত সম্পদের শতকরা আড়াই ভাগ (২.৫%) নির্ধারিত আটটি খাতের অভাবী ও দুস্থ ব্যক্তিদের মাঝে বণ্টন করা বাধ্যতামূলক। একে যাকাত বলা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সম্পদশালী ও ধার্মিক মহিলা ফাতেমা জেসমিন প্রতি বছর রমজান মাসে ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী তাঁর সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র, অভাবগ্রস্ত ও ঋণগ্রস্ত মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। এই বৈশিষ্ট্যগুলো যাকাত ব্যবস্থার সাথে হুবহু মিলে যায়। অতএব, ফাতেমা জেসমিনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঐতিহ্যগত সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাকাত ব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যাকাত ব্যবস্থার যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজে সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টনের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
যাকাত কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং এটি একটি কার্যকর অর্থনৈতিক ও সমাজকল্যাণমূলক ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে ধনীদের পুঞ্জীভূত সম্পদ দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির নিকট হস্তান্তরিত হয়, যার ফলে সম্পদের কেন্দ্রীভবন রোধ হয়।
যাকাতের অর্থ দ্বারা দরিদ্র মানুষের তাৎক্ষণিক মৌলিক চাহিদা পূরণ ছাড়াও তাদের ক্ষুদ্র ব্যবসা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত করা সম্ভব। এর ফলে নিম্নবিত্ত শ্রেণির ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস পায়। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিরা যাকাতের সাহায্যে ঋণমুক্ত হয়ে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। সামগ্রিকভাবে, যাকাত সমাজের ধনী-দরিদ্রের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে এবং সম্পদ ও সুযোগের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও