জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Rajshahi Board • রাজশাহী বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

  1. ক)

    অভিস্রবণ কী?

    (1)
  2. খ)

    TCA-চক্র বলতে কী বোঝায়?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে যেটি শিল্পে অবদান রাখে- তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের প্রক্রিয়া দুটির মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই বিদ্যমান -বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একই বায়ুমণ্ডলীয় চাপ ও তাপমাত্রায় দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবণ একটি অর্ধভেদ্য পর্দা দ্বারা পৃথক থাকলে কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে দ্রাবকের অণুগুলো বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে ব্যাপিত হওয়ার প্রক্রিয়াকে অভিস্রবণ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    TCA-চক্র বা ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র (Tricarboxylic Acid Cycle) হলো সবাত শ্বসনের তৃতীয় পর্যায়, যা ক্রেবস চক্র নামেও পরিচিত। ব্রিটিশ প্রাণরসায়নবিদ স্যার হ্যান্স ক্রেবস ১৯৩৭ সালে এটি আবিষ্কার করেন। এই চক্রে উৎপন্ন প্রথম যৌগটি হলো সাইট্রিক অ্যাসিড, যার অণুতে তিনটি কার্বক্সিলিক গ্রুপ (-COOH) থাকে। এজন্য এই চক্রকে ট্রাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড চক্র বা TCA চক্র বলা হয়। এটি মাইটোকন্ড্রিয়ার ম্যাট্রিক্সে সম্পন্ন হয় এবং এখানে অ্যাসিটাইল কো-এ জারিত হয়ে CO₂, NADH+H⁺, FADH₂ ও GTP উৎপন্ন করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রক্রিয়া (I) হলো সবাত শ্বসন এবং প্রক্রিয়া (II) হলো অবাত শ্বসন বা গাঁজন (ফার্মেন্টেশন)। এদের মধ্যে প্রক্রিয়া (II) তথা অবাত শ্বসন/ফার্মেন্টেশন শিল্পে ব্যাপক অবদান রাখে। নিচে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

    ১. অ্যালকোহল ও মদ্যশিল্প: অবাত শ্বসনে ইস্টের এনজাইম কার্যকারিতার মাধ্যমে শর্করা ভেঙে ইথাইল অ্যালকোহল ও কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। এটি বিয়ার, ওয়াইন ও নানা প্রকার বাণিজ্যিক অ্যালকোহল উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।
    ২. বেকারি শিল্প: পাউরুটি ও কেক তৈরিতে ইস্ট ব্যবহার করা হয়। অবাত শ্বসনের ফলে নির্গত CO₂ গ্যাসের চাপে রুটি ফাঁপা ও নরম হয়।
    ৩. দুগ্ধ শিল্প: ল্যাকটিক অ্যাসিড ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে স্ট্রেপ্টোকক্কাস ল্যাকটিস ও ল্যাকটোব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া দুধের ল্যাকটোজকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে রূপান্তরিত করে দই, ছানা, পনির ইত্যাদি তৈরি করে।
    ৪. ভিনেগার ও জৈব অ্যাসিড উৎপাদন: বিভিন্ন ফল বা শর্করার দ্রবণ থেকে ফার্মেন্টেশনের মাধ্যমে ভিনেগার (অ্যাসিটিক অ্যাসিড), সাইট্রিক অ্যাসিড ইত্যাদি তৈরি করা হয়।
    ৫. চা, কফি ও তামাক প্রক্রিয়াজাতকরণ: বিশেষ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া দ্বারা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় চা ও কফির স্বাদ এবং তামাকের বিশেষ সুগন্ধ তৈরি করা হয়।

    সুতরাং, উদ্দীপকের প্রক্রিয়া (II) বিভিন্ন খাদ্য, পানীয় ও রাসায়নিক শিল্পে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে প্রক্রিয়া (I) নির্দেশ করছে সবাত শ্বসন এবং প্রক্রিয়া (II) নির্দেশ করছে অবাত শ্বসন। এ দুটি প্রক্রিয়ার মধ্যে সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য উভয়ই বিদ্যমান। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:

    সাদৃশ্যসমূহ:
    ১. প্রারম্ভিক পদার্থ: উভয় প্রক্রিয়াই গ্লুকোজ বা শর্করা জাতীয় উপাদান থেকে শুরু হয়।
    ২. গ্লাইকোলাইসিস ধাপ: উভয় প্রক্রিয়ারই প্রথম ধাপ হলো গ্লাইকোলাইসিস, যেখানে গ্লুকোজ জারিত হয়ে পাইরুভিক অ্যাসিডে পরিণত হয় এবং উভয় ক্ষেত্রেই এই ধাপটি সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত হয়।
    ৩. শক্তি উৎপাদন: উভয় প্রক্রিয়াই শক্তির উৎস হিসেবে ATP উৎপন্ন করে।
    ৪. উপজাত হিসেবে CO₂: সবাত শ্বসনে এবং অবাত শ্বসনের অ্যালকোহলীয় গাঁজনে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) নির্গত হয়।
    ৫. উৎসেচকের ভূমিকা: উভয় প্রকার শ্বসনই নির্দিষ্ট কতগুলো এনজাইম বা উৎসেচকের উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রিত হয়।

    বৈসাদৃশ্যসমূহ:
    ১. অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তা: সবাত শ্বসনের জন্য মুক্ত অক্সিজেনের উপস্থিতি অপরিহার্য; কিন্তু অবাত শ্বসন অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
    ২. স্থান: সবাত শ্বসনের প্রথম অংশ সাইটোপ্লাজমে এবং পরবর্তী অংশ মাইটোকন্ড্রিয়ায় সম্পন্ন হয়; কিন্তু অবাত শ্বসনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই সাইটোপ্লাজমে ঘটে।
    ৩. উৎপাদিত পদার্থ: সবাত শ্বসনে গ্লুকোজ সম্পূর্ণ জারিত হয়ে CO₂, H₂O ও বিপুল শক্তি উৎপন্ন করে। পক্ষান্তরে, অবাত শ্বসনে গ্লুকোজ আংশিক জারিত হয়ে ইথাইল অ্যালকোহল অথবা ল্যাকটিক অ্যাসিড, CO₂ এবং সামান্য শক্তি উৎপন্ন করে।
    ৪. শক্তির পরিমাণ: সবাত শ্বসনে এক অণু গ্লুকোজ থেকে ৩৮টি (বা ৩৬টি) ATP উৎপন্ন হয়, যার শক্তির পরিমাণ প্রায় ৬৮৬ কিলোক্যালরি। অপরদিকে অবাত শ্বসনে মাত্র ২টি ATP উৎপন্ন হয়, যার শক্তি প্রায় ৫০ কিলোক্যালরি।
    ৫. সংঘটন ক্ষেত্র: সবাত শ্বসন প্রায় সকল উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদ ও প্রাণীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; কিন্তু অবাত শ্বসন প্রধানত নিম্নশ্রেণির জীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ইত্যাদিতে এবং কখনো কখনো উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের বিশেষ অঙ্গ বা পেশিকলায় ঘটে।

    উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় যে, সবাত ও অবাত শ্বসনের মূল জৈব রাসায়নিক নীতি এক হলেও তাদের কার্যপদ্ধতি, স্থান ও উৎপাদনে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন