অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২৩
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
নিচের টেবিলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে “ক” দেশের সরকারের বিভিন্ন ধরনের কর রাজস্বের পরিমাণ দেখানো হলো :

- ক)(1)
কর কাকে বলে?
- খ)(2)
সরকারকে কেন আগে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী আয়ের উৎস খুঁজে বের করতে হয়?
- গ)(3)
উদ্দীপক থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরে “ক” দেশে সরকারের মোট পণ্য করের পরিমাণ নির্ণয় কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত কর গুলোর মধ্যে কোনটি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আয় বৈষম্য হ্রাসে অধিক অবদান রাখে? বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রের সামগ্রিক ব্যয় নির্বাহের জন্য জনগণ কোনো প্রত্যক্ষ সুবিধার প্রত্যাশা না করে সরকারকে বাধ্যতামূলকভাবে যে অর্থ প্রদান করে, তাকে কর (Tax) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সরকার জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকারের প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়, বরং সামাজিক কল্যাণ ও দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করা। দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রতিরক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সরকারকে বিপুল পরিমাণ ব্যয় করতে হয়। এই ব্যয়গুলো পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্য ও বাজেট অনুযায়ী করতে হয় বলেই সরকারকে প্রথমে আবশ্যক ব্যয়ের মোট পরিমাণ বা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হয় এবং পরবর্তীতে সেই ব্যয়ের অর্থ সংস্থানের জন্য বিভিন্ন কর ও কর-বহির্ভূত আয়ের উৎস খুঁজে বের করে রাজস্ব সংগ্রহ করতে হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
পণ্য কর বলতে পণ্য উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, আমদানি বা রপ্তানির ওপর সরকার কর্তৃক আরোপিত করকে বোঝায়, যা মূলত পরোক্ষ কর।
উদ্দীপকের ছকে উল্লিখিত পণ্য করসমূহ হলো:
১. আমদানি শুল্ক = ২৩,৬৪৩.৫৮ কোটি টাকা
২. রপ্তানি শুল্ক = ১.০৮ কোটি টাকা
৩. আবগারি শুল্ক = ২,২৭৯.৪৮ কোটি টাকা
৪. মূল্য সংযোজন কর (মূসক) = ৭৩,০০৪.২১ কোটি টাকা(উল্লেখ্য, আয়কর একটি প্রত্যক্ষ কর এবং তা ব্যক্তির আয়ের ওপর ধার্য হয়, তাই এটি পণ্য করের অন্তর্ভুক্ত নয়।)
অতএব, ২০১৯-২০ অর্থবছরে 'ক' দেশের সরকারের মোট পণ্য করের পরিমাণ:
= আমদানি শুল্ক + রপ্তানি শুল্ক + আবগারি শুল্ক + মূল্য সংযোজন কর
= ২৩,৬৪৩.৫৮ + ১.০৮ + ২,২৭৯.৪৮ + ৭৩,০০৪.২১ কোটি টাকা
= ৯৮,৯২৮.৩৫ কোটি টাকা।সুতরাং, ২০১৯-২০ অর্থবছরে 'ক' দেশের সরকারের মোট পণ্য করের পরিমাণ ৯৮,৯২৮.৩৫ কোটি টাকা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত করগুলোর মধ্যে 'আয়কর' সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও আয় বৈষম্য হ্রাসে সর্বাধিক অবদান রাখে। নিম্নে এর সপক্ষে বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো:
১. প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা: আয়কর সাধারণত প্রগতিশীল হারে (Progressive Tax) ধার্য করা হয়। এর অর্থ হলো, যার আয় বেশি তাকে বেশি হারে কর দিতে হয় এবং যার আয় কম তাকে কম হারে কর দিতে হয়। একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে আয়করের আওতামুক্ত রাখা হয়। ফলে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর সংগ্রহ করে সমাজে সাম্য আনা সম্ভব হয়।
২. ন্যায্যতা ও সামর্থ্যের নীতি: অ্যাডাম স্মিথের কর নীতির অন্যতম হলো সামর্থ্যের নীতি (Ability to Pay Principle)। প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর ব্যক্তির কর প্রদানের সামর্থ্য বিবেচনা করে ধার্য করা হয়, যা অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
৩. আয় বৈষম্য হ্রাস ও পুনর্বণ্টন: সরকার ধনীদের ওপর উচ্চহারে আয়কর আরোপ করে প্রাপ্ত রাজস্ব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী ও অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করে। এর ফলে সমাজে সম্পদের পুনর্বণ্টন ঘটে এবং ধনী-দরিদ্রের আয়ের ব্যবধান হ্রাস পায়।
৪. পণ্য করের সীমাবদ্ধতা: উদ্দীপকের অন্য করগুলো (আমদানি শুল্ক, আবগারি শুল্ক ও মূসক) হলো পরোক্ষ বা পণ্য কর। এগুলো ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার ওপর সমহারে আরোপিত হয়, যা প্রায়শই প্রগ্রেসিভ না হয়ে রিগ্রেসিভ বা অধোগতিশীল রূপ নেয়। এতে গরিবের ওপর করের আপেক্ষিক চাপ বেশি পড়ে এবং আয় বৈষম্য বৃদ্ধি পেতে পারে।
অতএব, তুলনামূলক বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত করগুলোর মধ্যে আয়করই সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও আয় বৈষম্য দূরীকরণে সবচেয়ে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও