জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২১

জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন

আম গাছ ও কচু গাছের পাতা জালিকা শিরাবিন্যাস হলেও এরা পৃথক পরিবারের বাসিন্দা।

  1. ক)

    পুষ্পপত্র বিন্যাস কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    Cycas কে হেটারোস্পোরিক উদ্ভিদ বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    দ্বিতীয় উদ্ভিদটির মূলের অন্তর্গঠন চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম উদ্ভিদটির ক্ষেত্রে অবস্থান অনুসারে কাণ্ডে বিভিন্ন রকম ভাজক কলা পরিলক্ষিত হয়-বিশ্লেষণ কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    মুকুল অবস্থায় বৃতি ও দলমণ্ডলের দল বা পাপড়িগুলো পরস্পরের সাথে কীভাবে সজ্জিত থাকে, তাকে পুষ্পপত্র বিন্যাস বা এস্টিভেশন (Aestivation) বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    Cycas উদ্ভিদে দুই ধরনের স্পোর বা রেণু উৎপন্ন হয়— ক্ষুদ্রাকৃতির পুংরেণু বা মাইক্রোস্পোর (microspore) এবং অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির স্ত্রীরেণু বা মেগাস্পোর (megaspore)। পুং উদ্ভিদের পুংরেণুপত্রে মাইক্রোস্পোর এবং স্ত্রী উদ্ভিদের স্ত্রীরেণুপত্রে মেগাস্পোর তৈরি হয়। এভাবে দুটি ভিন্ন আকৃতি ও প্রকৃতির স্পোর উৎপন্ন করার কারণেই Cycas-কে হেটারোস্পোরিক বা অসমরেণুপ্রসূ উদ্ভিদ বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত দ্বিতীয় উদ্ভিদটি হলো কচু গাছ। কচু একটি একবীজপত্রী উদ্ভিদ (জালিকা শিরাবিন্যাস বিশিষ্ট ব্যতিক্রমী একবীজপত্রী)। অতএব, কচুর মূলের অন্তর্গঠন হলো একবীজপত্রী মূলের অন্তর্গঠন।

    একবীজপত্রী মূলের (কচুর মূল) অন্তর্গঠনগত বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
    ১. মূলত্বক (এপিব্লেমা): একসারি প্যারেনকাইমা কোষ দ্বারা গঠিত, এতে কোনো কিউটিকল থাকে না এবং এককোষী মূলরোম বিদ্যমান।
    ২. অধস্ত্বক: একবীজপত্রী মূলে সাধারণত অধস্ত্বক (হাইপোডার্মিস) অনুপস্থিত থাকে।
    ৩. কর্টেক্স: এপিব্লেমার নিচে বহুস্তরবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত কর্টেক্স বিদ্যমান। কোষগুলোর মাঝে আন্তঃকোষীয় ফাঁক থাকে।
    ৪. অন্তঃত্বক (এন্ডোডার্মিস): কর্টেক্সের নিচে একসারি পিপাকৃতির কোষ দ্বারা গঠিত অন্তঃত্বক অবস্থিত। কোষপ্রাচীরে ক্যাসপেরিয়ান স্ট্রিপ থাকতে পারে।
    ৫. পরিচক্র (পেরিসাইকেল): অন্তঃত্বকের ঠিক নিচে সাধারণত একসারি কোষ দ্বারা গঠিত পরিচক্র বিদ্যমান।
    ৬. ভাস্কুলার বান্ডল: ভাস্কুলার বান্ডলগুলো অরীয় (radial) প্রকৃতির, অর্থাৎ জাইলেম ও ফ্লোয়েম ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধে পৃথকভাবে সজ্জিত। জাইলেম এক্সার্ক (exarch) প্রকৃতির (প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে)। ভাস্কুলার বান্ডলের সংখ্যা সাধারণত ছয়ের অধিক (বহুসংখ্যক)।
    ৭. মজ্জা (মেডুলা): মূলের কেন্দ্রস্থলে একটি সুগঠিত ও তুলনামূলকভাবে বড় প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে গঠিত মজ্জা উপস্থিত থাকে।

    [পরীক্ষায় চিহ্নিত চিত্র: একবীজপত্রী মূলের প্রস্থচ্ছেদের চিহ্নিত চিত্র—এপিব্লেমা, মূলরোম, কর্টেক্স, অন্তঃত্বক, পেরিসাইকেল, প্রোটোজাইলেম, মেটাজাইলেম, ফ্লোয়েম এবং মজ্জা প্রদর্শন করতে হবে।]

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকের প্রথম উদ্ভিদটি হলো আম গাছ, যা একটি দ্বিবীজপত্রী কাষ্ঠল উদ্ভিদ। অবস্থান অনুসারে আম গাছের কাণ্ডে প্রধানত তিন ধরনের ভাজক কলা (Meristematic tissue) পরিলক্ষিত হয়:

    ১. শীর্ষস্থ ভাজক কলা (Apical meristem):
    এটি কাণ্ড ও এর শাখা-প্রশাখার একেবারে শীর্ষে অবস্থান করে। এই কলার কোষগুলোর ক্রমাগত বিভাজনের ফলে কাণ্ড দৈর্ঘ্যে বৃদ্ধি পায় এবং প্রাথমিক টিস্যু সৃষ্টি হয়।

    ২. নিবেশিত বা ইন্টারক্যালারি ভাজক কলা (Intercalary meristem):
    দুটি স্থায়ী কলার মধ্যবর্তী স্থানে এই ভাজক কলা অবস্থান করে। প্রাথমিক অবস্থায় এটি শীর্ষস্থ ভাজক কলারই অংশ থাকে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী কলা দ্বারা পৃথক হয়ে পড়ে। কাণ্ডের পর্ব ও পর্বমধ্যের গোড়ায় এটি অবস্থান করে পর্বমধ্যের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।

    ৩. পার্শ্বীয় ভাজক কলা (Lateral meristem):
    আম গাছের কাণ্ডের পার্শ্ব বরাবর সমান্তরালভাবে এটি অবস্থান করে। যেমন—ভাস্কুলার ক্যাম্বিয়াম এবং কর্ক ক্যাম্বিয়াম। এই ভাজক কলার কোষ বিভাজনের মাধ্যমে কাণ্ডে গৌণ বৃদ্ধি (secondary growth) ঘটে, যার ফলে দ্বিবীজপত্রী কাষ্ঠল আম গাছের কাণ্ড ধীরে ধীরে মোটা বা পরিধিতে বৃদ্ধি পায়।

    অতএব, দেখা যায় যে আম গাছের বৃদ্ধি, দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি এবং কাণ্ডের স্থূলতা বৃদ্ধিতে অবস্থান অনুযায়ী শীর্ষস্থ, নিবেশিত এবং পার্শ্বীয় ভাজক কলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন