অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
জনাব মাহবুব স্যার শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, জনসংখ্যা সম্পর্কে অনেক তত্ত্ব প্রচলিত রয়েছে। তার মধ্যে একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায় ১, ২, ৪. ৮. ১৬..... হারে এবং খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি পায় ১, ২, ৩, ৪, ৫..... হারে। অপর তত্ত্বে দেশে জনসংখ্যার এমন একটি স্তর নির্দেশ করা হয়, যেখানে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় অর্জিত হয়।on
- ক)(1)
নিট অভিবাসন কী?
- খ)(2)
প্রশিক্ষণ কীভাবে মানবসম্পদ উন্নয়ন করে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে প্রথমে জনসংখ্যার যে তত্ত্বটি উল্লেখ করা হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনসংখ্যার তত্ত্ব দুটির মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোন তত্ত্বটিকে তুমি অধিকতর কার্যকর বলে মনে করো? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশে মোট যে পরিমাণ লোক অভিবাসী হয়ে আগমন করে এবং যে পরিমাণ লোক প্রবাসে গমন করে—এ দুয়ের পার্থক্যকে নিট অভিবাসন (Net Migration) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একজন মানুষের কর্মদক্ষতা, জ্ঞান এবং পেশাগত যোগ্যতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে। সাধারণ ও অপ্রশিক্ষিত জনশক্তিকে আধুনিক কর্মপদ্ধতি, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষা দিয়ে বাস্তবমুখী কাজের উপযোগী করে গড়ে তোলা যায়। এতে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং তারা সাধারণ জনসংখ্যা থেকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের প্রথম অংশে অর্থনীতিবিদ টমাস রবার্ট ম্যালথাসের 'জনসংখ্যা তত্ত্ব' (Malthusian Theory of Population) নির্দেশ করা হয়েছে।
১৭৯৮ সালে প্রকাশিত তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থে ম্যালথাস উল্লেখ করেন যে, প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষ বৃদ্ধির প্রবণতা খাদ্য উৎপাদনের সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। তাঁর তত্ত্বের মূল বক্তব্য হলো:
১. জনসংখ্যা বৃদ্ধি: অনিয়ন্ত্রিত থাকলে জনসংখ্যা বাড়ে জ্যামিতিক হারে (Geometric progression), যেমন— ১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২, ৬৪...। প্রতি ২৫ বছরে কোনো দেশের জনসংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার প্রবণতা থাকে।
২. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি: জমিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি কার্যকর থাকায় খাদ্যোৎপাদন বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে (Arithmetic progression), যেমন— ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬...।এর ফলে প্রতি ২৫ বছর পর পর জনসংখ্যা ও খাদ্যোৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। খাদ্য ঘাটতি দূর করার জন্য ম্যালথাস দুটি উপায়ের কথা বলেছেন: ক. প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (বিলম্বিত বিবাহ, সংযম ইত্যাদি) এবং খ. প্রাকৃতিক নিরোধ (যুদ্ধ, মহামারী, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত তত্ত্ব দুটি হলো— (১) ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব এবং (২) কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব (Optimum Theory of Population)। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে 'কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্ব' অধিকতর বাস্তবসম্মত ও কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
ম্যালথাসের তত্ত্বে বলা হয়েছিল খাদ্য উৎপাদন গাণিতিক হারে বাড়ে এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান, উচ্চফলনশীল জাত ও কৃষিপ্রযুক্তির বিপ্লবের কারণে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বাড়লেও খাদ্যোৎপাদন জ্যামিতিক হারের থেকেও দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ফলে ম্যালথাসের নৈরাশ্যবাদী তত্ত্বটি এখানে হুবহু প্রযোজ্য হয়নি।
অন্যদিকে, অধ্যাপক এডউইন ক্যানান এবং পরবর্তীতে ডাল্টন ও রবিন্স কর্তৃক প্রবর্তিত কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বে জনসংখ্যার আকার ও লভ্য প্রাকৃতিক সম্পদের ভারসাম্য বিবেচনায় মাথাপিছু আয় সর্বোচ্চকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি কার্যকর হওয়ার কারণ:
১. অর্থনৈতিক লক্ষ্য: দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো মাথাপিছু প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান সর্বোচ্চ করা, যা কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বের কেন্দ্রীয় ধারণা।
২. মানবসম্পদ উন্নয়ন: জনসংখ্যাকে কেবল ভোক্তা বা দায় মনে না করে যদি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানবসম্পদে পরিণত করা যায়, তবে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত সম্পদ ব্যবহার করে জাতীয় আয় বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।
৩. গতিশীলতা: এ তত্ত্বটি গতিশীল; প্রযুক্তি ও পুঁজি বৃদ্ধির সাথে সাথে কাম্য জনসংখ্যার স্তর বৃদ্ধি পায়, যা উন্নয়নশীল বাংলাদেশের রূপান্তরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অতএব, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানবসম্পদ হিসেবে জনশক্তিকে সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতায় ব্যবহারের লক্ষ্যে বাংলাদেশের জন্য কাম্য জনসংখ্যা তত্ত্বটিই অধিক কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও