পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • সরকার কাঠামো ও সরকারের অঙ্গসমূহ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ • ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ টেস্ট পরীক্ষা ২০২৩
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
বিলাশ একটি বই পড়ে জানতে পারল বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই ধরনের সরকারব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে। ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুসারে এই দুই দেশের সরকার পরিচালনা পদ্ধতি ভিন্ন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান ভিন্ন ব্যক্তি এবং আইন বিভাগ শক্তিশালী। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একই ব্যক্তি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রপতি ক্ষমতাশালী।
- ক)(1)
একনায়কতন্ত্র কী?
- খ)(2)
যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত সরকারগুলো একই পদ্ধতির সরকারের ভিন্নরূপ- ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকারের পার্থক্য বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
একনায়কতন্ত্র হলো এমন এক ধরনের শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের সার্বিক ক্ষমতা কোনো ব্যক্তি বা একটিমাত্র রাজনৈতিক দলের হাতে কেন্দ্রীভূত থাকে এবং সেখানে জনগণের মতামতের কোনো মূল্য থাকে না।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সংবিধানের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রাদেশিক বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে ক্ষমতা বণ্টন করে যে শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার বলে। এ ব্যবস্থায় প্রদেশগুলো স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে এবং একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান বিদ্যমান থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সরকারব্যবস্থা মূলত একই পদ্ধতি তথা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার দুটি ভিন্ন রূপ।
গণতন্ত্র হলো জনগণের সম্মতির ওপর প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা। শাসন বিভাগ ও আইন বিভাগের সম্পর্কের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকারকে প্রধানত দুটি রূপে ভাগ করা যায়: সংসদীয় বা মন্ত্রিপরিষদ শাসিত সরকার এবং রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার। উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের সরকার হলো সংসদীয় পদ্ধতির এবং যুক্তরাষ্ট্রের সরকার হলো রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতির।
উভয় দেশের সরকারব্যবস্থাই মৌলিক দিক থেকে গণতান্ত্রিক, যেখানে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ শাসিত হয় এবং সংবিধানে মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা থাকে। তবে সরকার পরিচালনার অভ্যন্তরীণ পদ্ধতি এবং আইন ও শাসন বিভাগের সম্পর্ক ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ভিন্নতার কারণে একটি সংসদীয় রূপ ধারণ করেছে এবং অন্যটি রাষ্ট্রপতি শাসিত রূপ পেয়েছে। তাই বলা যায়, এগুলো একই গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ভিন্ন রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে বর্ণিত দুটি সরকার হলো বাংলাদেশের 'সংসদীয় পদ্ধতির সরকার' এবং যুক্তরাষ্ট্রের 'রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার'। এদের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
১. রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের পদমর্যাদা: সংসদীয় ব্যবস্থায় (বাংলাদেশ) রাষ্ট্রপ্রধান (রাষ্ট্রপতি) এবং সরকারপ্রধান (প্রধানমন্ত্রী) ভিন্ন ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী প্রকৃত শাসন ক্ষমতার অধিকারী। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় (যুক্তরাষ্ট্র) একই ব্যক্তি (রাষ্ট্রপতি) একাধারে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধান।
২. শাসন বিভাগের জবাবদিহিতা: বাংলাদেশের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভা আইনসভার (সংসদ) কাছে প্রত্যক্ষভাবে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহি করতে বাধ্য। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি ও তাঁর ক্যাবিনেট আইনসভার (কংগ্রেস) কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নন।
৩. আইন বিভাগের প্রভাব: সংসদীয় সরকারে আইন বিভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী। অনাস্থা প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে সংসদ মন্ত্রিসভার পতন ঘটাতে পারে। বিপরীতে, রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থায় আইন বিভাগ কর্তৃক সহজে রাষ্ট্রপতিকে অপসারন করা যায় না; সেখানে নির্দিষ্ট মেয়াদভিত্তিক স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা থাকে।
৪. ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ: সংসদীয় ব্যবস্থায় আইন বিভাগ ও শাসন বিভাগের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ক্ষমতার সংমিশ্রণ ঘটে। অপরদিকে, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে কঠোরভাবে 'ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' ও 'ভারসাম্য নীতি' অনুসৃত হয়।
উপরিউক্ত তুলনামূলক পর্যালোচনায় দেখা যায়, উদ্দীপকে আলোচিত দুই দেশের সরকার ব্যবস্থা যথাক্রমে সংসদীয় ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ধারার প্রতিনিধিত্ব করে, যাদের মধ্যে পরিচালনা পদ্ধতি ও ক্ষমতার প্রয়োগে সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও