সমাজকর্ম ১ম পত্র • Combined Board • সমন্বিত বোর্ড ২০১৯
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
'ক' দেশের সমাজসেবা কর্মসূচির সংস্কার সাধনের জন্য সিহাব উদ্দীন মাহমুদের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সামাজিক অগ্রগতির প্রতিবন্ধক হিসেবে পাঁচটি বিষয়কে চিহ্নিত করে। এসব সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য পাঁচটি সুপারিশও পেশ করে।
- ক)(1)
অক্ষম দরিদ্র কারা?
- খ)(2)
১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে 'ক' দেশের রিপোর্টটির সাথে ঐতিহাসিক কোন রিপোর্টের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো। এর সুপারিশমালা লেখো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত রিপোর্টটি ইংল্যান্ডের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো সৃষ্টিতে কীভাবে ভূমিকা রাখে আলোচনা করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শারীরিক বা মানসিকভাবে কাজ করতে অক্ষম যেমন—অন্ধ, বধির, পঙ্গু, বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ এবং শিশু সন্তানসহ বিধবাদের অক্ষম দরিদ্র (The Impotent Poor) বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইংল্যান্ডের পূর্ববর্তী দরিদ্র আইনগুলোর ত্রুটি দূর করে ১৬০১ সালে রানি প্রথম এলিজাবেথের শাসনামলে যে দরিদ্র আইন প্রণয়ন করা হয়, তাকে '১৬০১ সালের এলিজাবেথীয় দরিদ্র আইন' (Elizabethan Poor Law of 1601) বা ৪৩তম এলিজাবেথ বলা হয়।
এ আইনে দরিদ্রদের মূলত তিনটি শ্রেণিতে (সক্ষম দরিদ্র, অক্ষম দরিদ্র ও নির্ভরশীল বালক-বালিকা) বিভক্ত করে সহায়তা ও পুনর্বাসনের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্র ও প্যারিশের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এটি ইংল্যান্ডে সরকারি পর্যায়ে সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে 'ক' দেশের রিপোর্টটির সাথে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক 'উইলিয়াম বিভারিজ রিপোর্ট' (১৯৪২)-এর গভীর মিল রয়েছে।
১৯৪২ সালে স্যার উইলিয়াম বিভারিজের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডে সামাজিক অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় হিসেবে পাঁচটি দৈত্যকে (Five Giants) চিহ্নিত করা হয়—অভাব (Want), রোগ (Disease), অজ্ঞতা (Ignorance), মলিনতা (Squalor) এবং অলসতা বা বেকারত্ব (Idleness)।
এ সমস্যাগুলো দূরীকরণে বিভারিজ রিপোর্টে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ পেশ করা হয়, যা নিম্নরূপ:
১. সার্বজনীন সামাজিক বীমা কর্মসূচি চালু করা;
২. জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি প্রবর্তন;
৩. পারিবারিক ভাতা বা সন্তান ভাতা প্রদান;
৪. পূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বজায় রাখা; এবং
৫. বিশেষ প্রয়োজনে সরকারি বা জাতীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা।উদ্দীপকের সিহাব উদ্দীন মাহমুদের কমিটি যেভাবে পাঁচটি প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে পাঁচটি সুপারিশ দেয়, তা ঐতিহাসিক বিভারিজ রিপোর্টেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত উইলিয়াম বিভারিজ রিপোর্ট (১৯৪২) ইংল্যান্ডের আধুনিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এবং কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
বিভারিজ রিপোর্টের মাধ্যমে 'দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত' (Cradle to Grave) প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বৈপ্লবিক ধারণা বাস্তবায়িত হয়। এর সুপারিশমালার ভিত্তিতে পরবর্তীকালে ইংল্যান্ডে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গৃহীত হয়:
১. আইন প্রণয়ন: রিপোর্টের সুপারিশ অনুসারে ইংল্যান্ড সরকার ১৯৪৫ সালে পারিবারিক ভাতা আইন (Family Allowance Act), ১৯৪৬ সালে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা আইন (National Health Service Act) এবং জাতীয় বীমা আইন (National Insurance Act), এবং ১৯৪৮ সালে জাতীয় সাহায্য আইন (National Assistance Act) প্রণয়ন করে।
২. দারিদ্র্য দূরীকরণ: বিভারিজ রিপোর্টের মাধ্যমে দরিদ্রতার সনাতন সাহায্য ব্যবস্থার পরিবর্তে নাগরিক অধিকার হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। অসুস্থতা, বেকারত্ব, বার্ধক্য ও পঙ্গুত্বকালীন নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নিশ্চিত করা হয়।
৩. কল্যাণ রাষ্ট্রের উন্মেষ: সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ও অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটিয়ে ইংল্যান্ড আধুনিক কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়।সুতরাং, বিভারিজ রিপোর্ট কেবল তাত্ত্বিক সুপারিশ ছিল না, বরং এটি আধুনিক ইংল্যান্ডের সামগ্রিক সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর দিকনির্দেশক ও মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও