পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র • মূল্যবোধ, আইন, স্বাধীনতা ও সাম্য • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা • আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ঢাকা টেস্ট পরীক্ষা ২০২৫
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র প্রশ্ন
রিতা ও সালাম দুইজনই ইট ভাঙা শ্রমিক। তাদের কাজের ধরন এক হলেও দিন শেষে পারিশ্রমিকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। রিতা সালামের থেকে ৫০ টাকা কম পায়। এতে করে তার কাজের প্রতি অনীহা সৃষ্টি হচ্ছে।
- ক)(1)
নৈতিকতা কী?
- খ)(2)
ইতিবাচক অর্থে লাঙ্কি প্রদত্ত স্বাধীনতার সংজ্ঞা দাও।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিতা কোন ধরনের সাম্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
"উল্লিখিত সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন"- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নৈতিকতা হলো মানুষের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিতের বোধ বা অভ্যন্তরীণ বিবেকপ্রসূত মানদণ্ড।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অধ্যাপক হ্যারল্ড জে. লাস্কির মতে ইতিবাচক অর্থে স্বাধীনতা বলতে বোঝায়—"এমন একটি অনুকূল পরিবেশের সযত্ন সংরক্ষণ, যেখানে ব্যক্তি তার ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ ঘটানোর সুযোগ লাভ করতে পারে।" অর্থাৎ, কেবল বাধার অনুপস্থিতি নয়, বরং মানুষের সার্বিক বিকাশের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার উপস্থিতিই হলো ইতিবাচক স্বাধীনতা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার প্রেক্ষিতে রিতা 'অর্থনৈতিক সাম্য' থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায় এমন একটি অবস্থা যেখানে যোগ্যতানুযায়ী প্রত্যেকের কাজ পাওয়ার অধিকার, কাজের উপযুক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার নিশ্চয়তা এবং অর্থনৈতিক শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে। একই কাজ বা শ্রমের বিনিময়ে সমপরিমাণ পারিশ্রমিক পাওয়া অর্থনৈতিক সাম্যের অন্যতম মূল নীতি। উদ্দীপকে রিতা এবং সালাম একই ধরনের ইট ভাঙার কাজ করলেও রিতাকে দিন শেষে সালামের চেয়ে ৫০ টাকা কম পারিশ্রমিক দেওয়া হয়। একই শ্রমে শুধু নারী হওয়ার কারণে বা বৈষম্যমূলকভাবে কম মজুরি প্রদান করায় রিতা স্পষ্টভাবে অর্থনৈতিক সাম্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
"অর্থনৈতিক সাম্য ব্যতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অর্থহীন"—উক্তিটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও যথার্থ।
নাগরিকের সুষ্ঠু জীবনযাপনের জন্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সাম্য অপরিহার্য হলেও অর্থনৈতিক সাম্য ছাড়া এগুলোর কোনো বাস্তব কার্যকারিতা থাকে না। ক্ষুধার্ত বা অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত মানুষের কাছে ভোটাধিকার প্রয়োগ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কিংবা সামাজিক সম্মানের কোনো অর্থ থাকে না। অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল ব্যক্তি সহজে ধনী ও প্রভাবশালীদের দ্বারা প্রভাবিত বা শোষিত হয়। একজন শ্রমিক যদি ন্যায্য পারিশ্রমিক না পায় এবং অনাহারে দিন কাটায়, তবে সে সমাজে সম্মানের সাথে বাঁচতে পারে না কিংবা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সচেতনভাবে অংশ নিতে পারে না। তাই সামাজিক মর্যাদা রক্ষা এবং রাজনৈতিক অধিকারের সুষ্ঠু ব্যবহারের মূল ভিত্তিই হলো অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সাম্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও