বাংলা ১ম পত্র • Chattogram Board • চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৭
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
বহুদিন ধরে বহুক্রোশ দূরে বহু ব্যয় করি বহু দেশ ঘুরে দেখিতে গিয়াছি পর্বতমালা দেখিতে গিয়াছি সিন্ধু। দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শীষের উপরএকটি শিশির বিন্দু।
- ক)(1)
ঐকতান' কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
কবির অগোচরে কী রয়ে গেছে? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপক এবং 'ঐকতান' কবিতার মধ্যে বৈসাদৃশ্যগুলো আলোচনা করো
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে এবং 'ঐকতান' কবিতার মূলভাবে আপাত বৈপরীত্য থাকলেও দুটোতেই দূর ও নিকটকে জানার আগ্রহ প্রাধান্য পেয়েছে- উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'ঐকতান' কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিশ্বপ্রকৃতি ও মানবসমাজের এক বিশাল অংশ কবির অজানা বা অগোচরে রয়ে গেছে।
'ঐকতান' কবিতায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর উপলব্ধি করেছেন যে বিপুলা এই পৃথিবীর নানা দেশ, জনপদ, দুর্গম পর্বত ও সমুদ্রের রূপ যেমন তিনি প্রত্যক্ষ করতে পারেননি, তেমনি সমাজের অবহেলিত ও খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার বহু খবর তাঁর জানার পরিধির বাইরে রয়ে গেছে। নিজের সীমাবদ্ধতার কারণেই এই বৈচিত্র্যময় জীবনের বিস্তৃত জগৎ কবির অগোচরে রয়ে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং 'ঐকতান' কবিতার মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গি ও আত্মোপলব্ধির প্রকাশের ক্ষেত্রে স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।
উদ্দীপকের মূল ভাব হলো দূরকে জানার মোহে মানুষ ঘরের কোণের সামান্য কিন্তু পরম সুন্দর সৌন্দর্যকে অবহেলা করে। মানুষ পর্বতমালা ও সমুদ্র দেখার জন্য বহু ব্যয় করে দূরদেশে ভ্রমণ করে, কিন্তু ঘরের কাছে একটি ধানের শীষের ওপর থাকা শিশিরবিন্দুর অমূল্য সৌন্দর্য তার দৃষ্টি এড়িয়ে যায়। এখানে অতি পরিচিত নিকট-সৌন্দর্যকে এড়িয়ে দূরের প্রতি মোহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, 'ঐকতান' কবিতায় কবি বিপুলা পৃথিবীর বিস্তৃতিকে উপলব্ধি করে নিজের জ্ঞানের অপূর্ণতা ও সীমাবদ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। কবি স্বীকার করেছেন যে তিনি দূর-দূরান্তের বহু রহস্য জানতে পারেননি এবং সমাজের খেটে-খাওয়া নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনের গভীর প্রদেশে তাঁর কাব্য পৌঁছাতে পারেনি। উদ্দীপকে যেখানে নিজের কাছের জিনিস না দেখার অতৃপ্তি ও অন্ধত্ব প্রকাশ পেয়েছে, সেখানে 'ঐকতান' কবিতায় প্রকাশিত হয়েছে কবির বিশাল পৃথিবীর বিচিত্র রূপ ও মানবজীবনের সামগ্রিকতাকে ধারণ করতে না পারার উদার আত্মস্বীকৃতি। এই দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণেই উভয়টির মধ্যে বৈসাদৃশ্য তৈরি হয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপক এবং 'ঐকতান' কবিতার মূলভাবে আপাত বৈপরীত্য বিদ্যমান থাকলেও দূর ও নিকটকে জানার আন্তরিক আগ্রহের দিক দিয়ে উক্তিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও যথার্থ।
উদ্দীপকে দূর ও নিকটের একটি বৈপরীত্য দেখানো হয়েছে—মানুষ অজানাকে জানতে বহু ব্যয় করে দূরদেশে যায়, কিন্তু ঘরের কোণের ধানের শীষের শিশিরবিন্দুর মতো সহজলভ্য সৌন্দর্য দেখতে ভুলে যায়। অর্থাৎ দূরকে পাওয়ার আগ্রহে নিকট উপেক্ষিত হয়েছে।
অপরদিকে, 'ঐকতান' কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নিজেকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের এক অনুসন্ধিৎসু পথিক হিসেবে চিত্রিত করেছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে এই সুবিশাল পৃথিবীর বহু দূরবর্তী স্থান যেমন তাঁর অদেখা রয়ে গেছে, তেমনি তাঁর অতি নিকটে থাকা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষদের অন্তরের কাছাকাছি গিয়েও তিনি পৌঁছাতে পারেননি। অর্থাৎ দূরদেশ ও নিকটের মানবসমাজ—উভয়কেই সম্পূর্ণরূপে জানার এক প্রবল তৃষ্ণা তাঁর মধ্যে বিদ্যমান ছিল।
সুতরাং আপাতভাবে উদ্দীপকে দূরকে প্রাধান্য দিয়ে নিকটকে অবহেলার কথা এবং 'ঐকতান' কবিতায় দূর-নিকট উভয়ের প্রতি সমান অতৃপ্তির কথা তুলে ধরা হলেও, উভয় রচনার অন্তর্নিহিত সুর এক—তা হলো জগতের অজানা রূপকে জানার ব্যাকুলতা। তাই বলা যায়, উভয় ক্ষেত্রে দূর ও নিকটকে জানার তীব্র আগ্রহ প্রাধান্য পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও