গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
- ক)(1)
Yarn dying কী?
- খ)(2)
কাপড় থেকে দাগ দূর করার সাধারণ নিয়ম কী? লেখো।
- গ)(3)
চিত্রে 'A' ও 'B' অংশে কোন ধরনের ডিজাইন প্রকাশ পায়—ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
ডিজাইনের মাধ্যমে পোশাকের সৌন্দর্য বাড়ানো যায়—বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সুতা তৈরি করার পর কাপড় বোনার পূর্বেই সুতায় যে রঙের প্রয়োগ বা রঙ করা হয়, তাকে Yarn dyeing বা সুতা রঙকরণ বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কাপড় থেকে দাগ দূর করার সাধারণ নিয়মগুলো হলো:
১. দাগ লাগার সাথে সাথে তা দূর করার ব্যবস্থা নেওয়া, কারণ তাজা দাগ সহজে ওঠে কিন্তু পুরাতন দাগ শুকিয়ে কাপড়ে স্থায়ী হয়ে যায়।
২. দাগের প্রকৃতি (যেমন- উদ্ভিজ্জ, প্রাণীজ, খনিজ বা তৈলাক্ত) এবং কাপড়ের তন্তুর ধরন (তুলা, রেশম, পশম বা কৃত্রিম) জেনে উপযুক্ত দ্রাবক বা ব্লিচিং উপাদান নির্বাচন করা।
৩. প্রথমে মৃদু ও লঘু উপাদান দিয়ে চেষ্টা করে প্রয়োজন অনুযায়ী শক্তিশালী দ্রাবক ব্যবহার করা এবং দাগ তোলার পর কাপড়টি প্রচুর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলা। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
চিত্রে 'A' অংশে কাঠামোগত ডিজাইন (Structural Design) এবং 'B' অংশে আলংকারিক ডিজাইন (Decorative Design) প্রকাশ পেয়েছে।
কাঠামোগত ডিজাইন (চিত্র-A):
কোনো পোশাকের মূল আকার, গঠন বা কাটিংকে কাঠামোগত ডিজাইন বলে। এটি পোশাকের মূল ভিত্তি, যা পোশাকের সেলাই, কাটছাঁট, গলার কাটিং, হাতার গড়ন ইত্যাদির মাধ্যমে তৈরি হয়। চিত্র-A-তে কোনো অতিরিক্ত অলঙ্করণ ছাড়া পোশাকটির সাধারণ রূপরেখা বা গড়নটি প্রদর্শিত হয়েছে, যা এর কাঠামোগত ডিজাইনকে নির্দেশ করে।আলংকারিক ডিজাইন (চিত্র-B):
পোশাকের কাঠামোগত রূপের ওপর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য যেসব নকশা বা কারুকার্য যোগ করা হয়, তাকে আলংকারিক বা সজ্জামূলক ডিজাইন বলে। চিত্র-B-তে পোশাকটির মূল কাঠামোর ওপর ফুলের মোটিফ এবং কুঁচি বা বর্ডার দ্বারা অলঙ্করণ করা হয়েছে। এটি মূলত পোশাকটির সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলার জন্য করা হয়েছে, যা আলংকারিক ডিজাইনের বৈশিষ্ট্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ডিজাইনের মাধ্যমে পোশাকের সৌন্দর্য বহুগুণে বাড়ানো যায়—উক্তিটি যথার্থ। নিম্নে এর বিশদ বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:
১. ডিজাইনের মূল উপাদান ও নীতির সমন্বয়: ডিজাইন মূলত রেখা, আকার, রঙ, জমিন (Texture) ইত্যাদি উপাদানের সুষ্ঠু বিন্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এগুলোকে অনুপাত, ভারসাম্য, ছন্দ, প্রাধান্য এবং ঐক্যের মতো নকশার নীতির মাধ্যমে সাজিয়ে পোশাকে অনন্য সৌন্দর্য সৃষ্টি করা হয়।
২. কাঠামোগত ও আলংকারিক ডিজাইনের মেলবন্ধন: একটি পোশাকে শুধু কাঠামোগত ডিজাইন থাকলে তা সাধারণ দেখায় (যেমন চিত্র-A)। কিন্তু যখন তার সাথে সঠিক সামঞ্জস্য রেখে এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট, লেস, পাইপিং বা অ্যাপ্লিকের মতো আলংকারিক নকশা (যেমন চিত্র-B) যুক্ত করা হয়, তখন পোশাকটির নান্দনিক মান বৃদ্ধি পায়।
৩. শারীরিক ত্রুটি দূরীকরণ ও আকর্ষণীয়তা সৃষ্টি: সঠিক নকশা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তির শারীরিক গঠনের ত্রুটি অনেকাংশে ঢেকে রাখা যায় এবং আকর্ষণীয় দিকগুলো ফুটিয়ে তোলা যায়। যেমন—লম্বা রেখার ডিজাইন খাটো মানুষকে লম্বা দেখাতে এবং আড়াআড়ি রেখা রোগা মানুষকে কিছুটা চওড়া দেখাতে সাহায্য করে।
৪. রঙ ও টেক্সচারের নান্দনিক প্রভাব: বৈচিত্র্যময় রঙের ব্যবহার এবং কাপড়ের মসৃণ বা খসখসে জমিন ডিজাইনের সাথে যুক্ত হয়ে পোশাককে দৃষ্টিনন্দন ও পরিশীলিত করে তোলে।
সুতরাং, উপযুক্ত ডিজাইন সাধারণ কাপড়কে শুধু ব্যবহারযোগ্যই করে না, বরং এর মাধ্যমে পোশাক হয়ে ওঠে আকর্ষণীয়, রুচিশীল এবং দৃষ্টিনন্দন।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও