Combined Board কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
19টি প্রশ্ন
- 1.
কেরামত আলী দীর্ঘদিন পর সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এলাকার লোকদেরকে গাথে নিয়ে প্রচুর রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ এবং সংস্কারের কাজ করেন। বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য গাড়া-মহল্লায় অনেক নলকূপ স্থাপন করেন। এছাড়াও তিনি এলাকার কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠানও তৈরি করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে ছোট ছেলে-মেয়েরা কুরআন শিক্ষা লাভ করে, আদব-কায়দা শিখে, নামাজের মাসলা-মাসায়েল সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে।
- 2.
মনিরা ও সাবিহা দুই বান্ধবী। মনিরা মনে করে বৈধ/অবৈধ যেকোনো পন্থায় প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়াতেই সফলতা। তার মতে সত্য ও সঠিক পন্থায় চলা বোকামী। অপরদিকে, তার বান্ধবী সাবিহা সম্পূর্ণ বিপরীত। সে মনে করে, আল্লাহর নির্দেশিত পদ্ধতিতে উপার্জন করলে তাতে বরকত থাকে। সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করা সে পছন্দ করে।
- 3.
রোহান এইচ, এস, সি পরীক্ষার্থী। আর কিছুদিন পরেই তার ফাইনাল পরীক্ষা। পরীক্ষায় ভাল ফলাফলের আশায় রোহান নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে। রোহানের এক বন্ধু তার কার্যকলাপ দেখে রোহানকে বলে, 'এত পড়াশুনা করে কী লাভ হবে? আল্লাহর উপর ছেড়ে দাও। তিনিই আমাদের ফলাফল ভাল করে দেবেন'। তাদের কথা-বার্তা শুনে রোহানের বাবা বললেন, 'চেষ্টা না করে হাত-পা গুটিয়ে থাকা বা ভালো ফলাফলের আশায় বসে থাকা ইসলামের আদর্শ নয়'।
- 4.
মিসেস আবিদা সরকারি অফিসের একজন বড় কর্মকর্তা। কথা-কাজে তিনি খুবই স্মার্ট এবং দায়িত্বশীল। সবসময় ঝকঝকে তক্তকে পোশাক পরেন। তার পোশাক নিয়ে অফিসের অনেকেই বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একদিন একজন ঠিকাদার তার টেবিলে একটা ফাইল রেখে বললেন, 'ম্যাডাম আপনি কোন দোকান থেকে কাপড় কিনেন? আমি আপনার এক বছরের কাপড় পাঠিয়ে দিব'। মিসেস আবিদা ঠিকাদারের ফাইলটি ফিরিয়ে দিয়ে বললেন, 'আমি পোশাক এবং আদর্শে কোনো দাগ লাগতে দেই না। আপনার কাগজপত্র ঠিক থাকলে অর্ডারটি এমনিতেই পেয়ে যাবেন'।
- 5.
মাসুদ এবং সেলিম প্রতিবেশী। সেলিম গরিব হলেও মাসুদ তাকে ভালবাসেন। তার সন্তানদের স্নেহ করেন। অসুস্থ হলে খোঁজ-খবর নেন। প্রয়োজনে টাকা-পয়সাও ধার দেন। একদিন রাতের বেলায় হৈ চৈ শুনে মাসুদ সেলিমের বাড়ি গিয়ে দেখতে পান, সেলিমের ছেলে মনসুর এইচ. এস. সি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় নিজের জীবন শেষ করে দিতে উদ্যত হয়েছে।
- 6.
স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে আজগর আলীর পরিবার। পরিবারের সদস্যরা সকল কাজে একে অপরকে সহযোগিতা করেন এবং সবাই ধর্মীয় অনুশাসন পরিপূর্ণভাবে মেনে চলেন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে নিয়ে আমেরিকা থাকেন। নিয়মিত বাড়ি না এসে বাবা-মার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা পাঠান। এ বছর তার বাবা প্রচণ্ড অসুস্থ হলে তিনি দেশে না এসে বাবার দেখাশুনার জন্য একজন সেবিকা নিয়োগ দেন। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন রোগ ভোগের পর তার বাবা মারা যান।
- 7.
জনাব আব্দুর রহমান একজন মুত্তাকি ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি সকলের নিকট খুবই বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও পদ এবং অর্থের প্রতি লোড না থাকায় কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হন না। অন্যদিকে ড. নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক দাঙ্গা নিরসনে এলাকার মুসলিম, ফিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি চুক্তি করেন। যেখানে ভিন্ন ধর্মের ও ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারীর উপর আক্রমণ না করার এবং স্ব-স্ব ধর্ম পালনের সুযোগদানের অঙ্গীকার করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- 8.
হাসান একজন কৃষক। তিনি এ বছর সেচ প্রকল্পের আওতায় তার জমিতে উৎপাদিত ৮০০০ কেজি ধানের মধ্যে ৪০০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। সংসারের খরচ শেষে প্রায় ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা তিনি ইমাম সাহেবের পরামর্শে জেলা সদরে অবস্থিত ইসলামি ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু তার প্রতিবেশী মন্টু তাকে বলেন, তোমার টাকা কাছের যে কোনো ব্যাংকে রাখলেই পারতে, কারণ সব ব্যাংকই এক। কেউ লাভ এবংকেউ সুদ বলে গ্রাহককে সুবিধা দেয়।
- 9.
ছলেমান মিয়া একজন মুদি দোকানদার। তিনি বিক্রয়ের মাল পরিমাণে কম দেন। এ নিয়ে প্রায়ই তার সাথে মহল্লার লোকজনের বাকবিতণ্ডা হয়। জনাব আরাফাত একদিন তাকে বুঝিয়ে বললেন-এ ধরনের কাজ ইসলামের বহির্ভূত। অতএব, ব্যবসায় পরিশুদ্ধতার জন্য এগুলো পরিহার করা দরকার। কেননা রাসুল (স) বলেছেন, 'সত্যবাদী ব্যবসায়ীদের হাশরে স্থান হবে শহিদদের সাথে'।
- 10.
শীতের রাতে রফিক বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় ড্রেনের পাশে জটলা দেখে এগিয়ে গেল। দেখলো ড্রেনে একটি কুকুরের বাচ্চা পড়ে হাবুডুবু খাচ্ছে। বাচ্চাটি উপরে ওঠার চেষ্টা করছে, আর ছেলেগুলো লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে নিচে ফেলে দিচ্ছে। রফিক ড্রেনে নেমে কুকুর ছানাটিকে তুলে রাস্তায় ছেড়ে দিল এবং ছেলেগুলোকে এরূপ কাজ করতে বারণ করল।
- 11.
তালিব সাহেব দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে মারা যান। তালিব সাহেরেব একমাত্র পুত্রসন্তান মনির। মনির পিতার রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পদ একাই ভোগ করতে থাকে। কিছুদিন পর দুইবোন আবিদা ও জবেদা বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের ভাগ চাইলে মনির তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। দু'বোন এলাকার চেয়ারম্যান ইসহাক সাহেবের কাছে অভিযোগ দেয়। চেয়ারম্যান সাহেব মনিরকে ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বোনদের প্রাপ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন। বাধ্য হয়ে মনির দু'বোনের প্রাপ্য সম্পদ তাদের বুঝিয়ে দেয়।
- 12.
নাবিলার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু সে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পায়নি। তার বাবা তাকে বলল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি ভালো বিষয়ে ভর্তি হতে পারো, এজন্য পড়াশোনায় মনোযোগী হও। এ কথায় নাবিলার মন খারাপ হলো। মন খারাপ দেখে বাবা বললেন, অবস্থার প্রেক্ষিতে লক্ষ্যকে পরিবর্তন করতে হয়।
- 13.
- 14.
অলক তার বন্ধু রিফাতের বাসায় বেড়াতে গেল। রিফাতের বাসায় কাঠের অত্যাধুনিক সব আসবাবপত্র দেখে সে মুগ্ধ হলো এবং বলল আসবাবপত্র যেমন গৃহের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে তেমনি এসবের রক্ষণাবেক্ষণে আসবাব টেকসই, মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- 15.
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর আমাদের জান ও মালের অনেক ক্ষতিসাধন হয়। মূলত পরিবেশ দূষণই এর প্রধান কারণ। মানুষ বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ করছে। শুধু সরকার নয় জনগণকেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।
- 16.
সেলাই প্রশিক্ষণ নেয়ার পর আনিকা ছোট বোনের সালোয়ার কামিজ তৈরি করার জন্য বাজার থেকে কাপড় কিনে আনে। দেহের মাপ নিয়ে কাপড় কেটে মেশিনে সেলাই করে সালোয়ার কামিজ তৈরি করে। আনিকা মনে করে সেলাইয়ের ক্ষেত্রে সেলাই মেশিনের যত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণ খুবই জরুরি।
- 17.
ঈদে মনা নিজের হাতে জামা নকশা করে পরার জন্য কাপড় কিনে আনে। কাপড়ের উপর প্রথমে সে নকশা এঁকে নেয়। এরপর পর্যায়ক্রমে দিয়াশলাইয়ের কাঠি কাপড়ের ভিতরে দিয়ে সুতা দিয়ে বেঁধে নেয়। বাঁধা কাপড়টি রঙের মিশ্রণে ডুবিয়ে তার কাজ শেষ করে।
- 18.
- 19.