ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
হাসান একজন কৃষক। তিনি এ বছর সেচ প্রকল্পের আওতায় তার জমিতে উৎপাদিত ৮০০০ কেজি ধানের মধ্যে ৪০০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। সংসারের খরচ শেষে প্রায় ৪০,০০০ (চল্লিশ হাজার) টাকা তিনি ইমাম সাহেবের পরামর্শে জেলা সদরে অবস্থিত ইসলামি ব্যাংকে রাখেন। কিন্তু তার প্রতিবেশী মন্টু তাকে বলেন, তোমার টাকা কাছের যে কোনো ব্যাংকে রাখলেই পারতে, কারণ সব ব্যাংকই এক। কেউ লাভ এবংকেউ সুদ বলে গ্রাহককে সুবিধা দেয়।
- ক)(1)
'যৌতুক' কাকে বলে?
- খ)(2)
'জাকাত সম্পদ পবিত্র করে।' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জনাব হাসানের ধান বণ্টনের পদ্ধতিটি ইসলামের কোন বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
হাসানের প্রতিবেশীর বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বিবাহের শর্ত হিসেবে বরপক্ষ কনেপক্ষের নিকট হতে কিংবা কনেপক্ষ বরপক্ষের নিকট হতে যে অর্থ, সম্পদ বা উপঢৌকন দাবি বা গ্রহণ করে, তাকে 'যৌতুক' বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জাকাত প্রদান করলে ধনীর সম্পদে গরিবের যে হক থাকে তা আদায় হয়, ফলে অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র ও হালাল হয়। মহান আল্লাহ বলেন, "তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ করুন, যা দিয়ে আপনি তাদেরকে পবিত্র করবেন" (সুরা আত-তাওবা: ১০৩)। জাকাত না দিলে সম্পদ অপবিত্র থেকে যায় এবং তা আখিরাতে শাস্তির কারণ হয়; তাই জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সম্পদ পরিশুদ্ধ ও বরকতময় হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে জনাব হাসানের ধান বণ্টনের পদ্ধতিটি ইসলামের 'উশর' (কৃষিজাত ফসলের জাকাত) বিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ইসলামি শরিয়তের নিয়মানুযায়ী, যেসব জমি সেচযন্ত্র বা মানুষের কৃত্রিম শ্রমে সেচ দিয়ে চাষাবাদ করা হয়, সেখানে উৎপাদিত ফসলের বিশ ভাগের এক ভাগ (১/২০ অংশ বা ৫%) উশর হিসেবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার বা গরিবদের প্রদান করা ওয়াজিব বা ফরজ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, কৃষক হাসান সেচ প্রকল্পের আওতায় কৃত্রিম সেচ দিয়ে জমিতে মোট ৮০০০ কেজি ধান উৎপাদন করেছেন। তিনি এর মধ্য থেকে ৪০০ কেজি ধান রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেন। এখানে ৮০০০ কেজির ৫% বা বিশ ভাগের এক ভাগ হলো ৪০০ কেজি (৮০০০ ÷ ২০ = ৪০০)। অতএব, কৃত্রিম সেচে উৎপাদিত ফসলের ৫% প্রদান করার কারণে হাসানের কাজটি ইসলামের 'উশর' বিধানের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
না, আমি হাসানের প্রতিবেশী মন্টুর বক্তব্যের সাথে একমত নই। কারণ সব ব্যাংক এক নয় এবং ইসলামে 'লাভ' ও 'সুদ' সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিপরীতমুখী দুটি বিষয়।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, "আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম" (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)। প্রচলিত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে মূলধনের ওপর নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া ও দেওয়া হয়, যাতে কোনো ব্যবসায়িক ঝুঁকি বা লোকসানের ভাগীদারিত্ব থাকে না। এটি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম ও কবিরা গুনাহ।
পক্ষান্তরে, ইসলামি ব্যাংক শরিয়াহর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে মুনাফা ও লোকসান বণ্টন (মুদারাবা ও মুশারাকা) পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে গ্রাহকের আমানত উৎপাদনশীল ও হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয় এবং অর্জিত লাভ বা লোকসান চুক্তি অনুযায়ী বণ্টন করা হয়। অতএব, লাভ বা মুনাফাকে সুদের সমতুল্য মনে করা ইসলামি অর্থনীতির অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাই মন্টুর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও অগ্রহণযোগ্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও