ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র • Combined Board • কুমিল্লা, চট্টগ্রাম বোর্ড ২০১৯
ইসলাম শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
জনাব আব্দুর রহমান একজন মুত্তাকি ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। তিনি সকলের নিকট খুবই বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও পদ এবং অর্থের প্রতি লোড না থাকায় কোনো নির্বাচনে প্রার্থী হন না। অন্যদিকে ড. নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে চলমান রাজনৈতিক ও সামাজিক দাঙ্গা নিরসনে এলাকার মুসলিম, ফিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের নেতাদের নিয়ে একটি চুক্তি করেন। যেখানে ভিন্ন ধর্মের ও ভিন্ন রাজনৈতিক দলের অনুসারীর উপর আক্রমণ না করার এবং স্ব-স্ব ধর্ম পালনের সুযোগদানের অঙ্গীকার করেন। এ চুক্তির মাধ্যমে সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
- ক)(1)
'খলিফা' কাকে বলে?
- খ)(2)
'অমুসলিম নাগরিকরা ইসলামি রাষ্ট্রে নিরাপদ' ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
জনাব আব্দুর রহমান ইসলামি রাষ্ট্রের কোন পদের যোগ্য এবং কেন? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
ড. নাজমুলের কর্মকান্ড ইসলামের কোন লিখিত সংবিধানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? বর্তমানে ইহার উপযোগিতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি পরিভাষায় মহানবী (সা.)-এর প্রতিনিধি হিসেবে ইসলামি রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনাকারী রাষ্ট্রপ্রধানকে 'খলিফা' বলা হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ইসলামি রাষ্ট্রে অমুসলিম নাগরিকদের জিম্মি বা চুক্তিবদ্ধ নাগরিক হিসেবে গণ্য করে তাদের জান, মাল ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
ইসলাম অমুসলিমদের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেছেন, "যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিম নাগরিককে হত্যা করবে, সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না" (সহিহ বুখারি)। ইসলামি রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কোনো ধরনের বৈষম্য ছাড়া অমুসলিমদের জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনাব আব্দুর রহমান ইসলামি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ অর্থাৎ রাষ্ট্রপ্রধান বা 'খলিফা' পদের যোগ্য।
ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো পদপ্রার্থী বা পদের লোভী ব্যক্তিকে দায়িত্ব অর্পণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। মহানবী (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, "আমরা এমন ব্যক্তিকে কোনো পদের দায়িত্ব দিই না, যে তা চায় বা তার প্রতি লোভ রাখে" (সহিহ বুখারি)। উদ্দীপকে জনাব আব্দুর রহমান একজন মুত্তাকি, ন্যায়পরায়ণ, অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও জনপ্রিয় ব্যক্তি। তিনি ক্ষমতার বা অর্থের লোভে কোনো পদের জন্য নিজে প্রার্থী হন না। ইসলামের দৃষ্টিতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাকওয়া, সততা, জনগণের আস্থা এবং পদলিপ্সা না থাকা অন্যতম প্রধান গুণাবলী। তাই তিনি ইসলামি রাষ্ট্রের খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধান পদের জন্য সম্পূর্ণ যোগ্য।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
ড. নাজমুলের কর্মকাণ্ড ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান 'মদিনা সনদ'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
হিজরতের পর মহানবী (সা.) মদিনায় বসবাসরত মুসলিম, ইহুদি, পৌত্তলিকসহ বিভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সামাজিক শান্তি ও রাজনৈতিক সংহতি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদন করেন, যা মদিনা সনদ নামে খ্যাত। এই সনদে সকল নাগরিকের পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং পরমতসহিষ্ণুতার নীতি নির্ধারিত হয়েছিল। উদ্দীপকে ড. নাজমুলও বিভিন্ন ধর্মের ও রাজনৈতিক মতের মানুষের মধ্যে আক্রমণ বন্ধ এবং নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়ে চুক্তি করে সামাজিক শান্তি স্থাপন করেছেন।
বর্তমান বিশ্বে এর উপযোগিতা:
১. সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা: বর্তমান বিশ্বের বহুধর্মীয় ও বহুসংস্কৃতির সমাজে মদিনা সনদের নীতি অনুসরণের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রতিরোধ এবং পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব।
২. রাজনৈতিক সহনশীলতা বৃদ্ধি: রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বার্থে পারস্পরিক সহনশীলতা ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের চুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।
৩. মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ: সবার জন্য সমান নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে মদিনা সনদের আদর্শ এক অনন্য দিকনির্দেশনা।অতএব, ড. নাজমুলের কর্মকাণ্ড মদিনা সনদের মূল চেতনার প্রতিফলন এবং বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পৃথিবীতে মদিনা সনদের উপযোগিতা অনস্বীকার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও