অর্থনীতি ২য় পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০১৬
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার পদ্মা নদীর উপরে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। উক্ত সেতু নির্মাণের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান করতে নিজস্ব অর্থায়নের পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে অর্থসংস্থানের মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে 'পদ্মা সেতু' নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারের এ সিদ্ধান্তে দেশের জনগণ গর্ববোধ করে।
- ক)(1)
পুঁজিবাজার বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
শেয়ার ও বন্ডের পার্থক্য কী
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে প্রাথমিক অবস্থায় পদ্মা সেতুর জন্য অর্থসংস্থানের উৎসসমূহ চিহ্নিত করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের আলোকে পরবর্তী অবস্থার প্রেক্ষিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থসংস্থানের সম্ভাব্য উৎসসমূহের বিশদ বিবরণ দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে আর্থিক বাজারে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ তহবিল এবং সিকিউরিটিজ (যেমন- শেয়ার, ডিবেঞ্চার, বন্ড ইত্যাদি) কেনাবেচা বা লেনদেন করা হয়, তাকে পুঁজিবাজার (Capital Market) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শেয়ার ও বন্ডের মূল পার্থক্যগুলো নিম্নরূপ:
১. মালিকানা বনাম ঋণ: শেয়ার হলো কোনো যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধনের ক্ষুদ্রতম একক, যা ক্রয় করলে কোম্পানির আংশিক মালিকানা অর্জিত হয়। অন্যদিকে, বন্ড হলো দীর্ঘমেয়াদি ঋণের একটি দলিল, যার মাধ্যমে কোম্পানি বা সরকার সাধারণ জনগণের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করে।
২. আয়ের প্রকৃতি: শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানির অর্জিত মুনাফা থেকে লভ্যাংশ (Dividend) পেয়ে থাকেন, যা অনির্দিষ্ট বা পরিবর্তনশীল হতে পারে। কিন্তু বন্ডধারীরা নির্দিষ্ট হারে নিয়মিত সুদ পেয়ে থাকেন, যা কোম্পানির মুনাফা বা ক্ষতির ওপর নির্ভর করে না। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে প্রাথমিক অবস্থায় পদ্মা সেতুর অর্থসংস্থানের জন্য দুটি প্রধান উৎস চিহ্নিত করা হয়েছিল:
১. অভ্যন্তরীণ বা নিজস্ব উৎস: সরকার প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের একটি অংশ জাতীয় বাজেট থেকে নিজস্ব তহবিলের মাধ্যমে জোগান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি ছিল অভ্যন্তরীণ অর্থসংস্থানের রূপ।
২. বৈদেশিক বা আন্তর্জাতিক উৎস: বিশাল এই উন্নয়ন প্রকল্পের বড় অংশের অর্থসংস্থানের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের ওপর নির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে প্রধান ছিল বিশ্বব্যাংক (World Bank)। এ ছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB), জাইকা (JICA) এবং ইসলামিক উন্নয়ন ব্যাংক (IDB)-এর মতো আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে ঋণ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
সুতরাং, প্রাথমিক অবস্থায় অর্থসংস্থানের উৎস ছিল অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সাহায্য/ঋণের একটি সমন্বিত রূপ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের পরবর্তী অবস্থায় সরকার কোনো প্রকার বৈদেশিক ঋণ সহায়তা ছাড়া সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে 'পদ্মা সেতু' নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এ প্রেক্ষিতে পদ্মা সেতু নির্মাণের অর্থসংস্থানের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ উৎসসমূহ নিচে বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:
১. কর রাজস্ব (Tax Revenue): সরকারের আয়ের প্রধানতম উৎস হলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর। আয়কর, কর্পোরেট কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক/VAT), শুল্ক ইত্যাদি থেকে অর্জিত রাজস্ব উদ্বৃত্ত অর্থ উন্নয়ন বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়।
২. কর-বহির্ভূত রাজস্ব (Non-tax Revenue): সরকারের বিভিন্ন সেবা থেকে প্রাপ্ত ফি, জরিমানা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের লভ্যাংশ এবং মুনাফা থেকে প্রাপ্ত অর্থও পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
৩. বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) থেকে বরাদ্দ: সরকার প্রতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় পদ্মা সেতু প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় বাজেট থেকে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রদান করে।
৪. অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক বাজার: সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ থেকে ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে এ প্রকল্পের ব্যয় নির্বাহ করতে পারে।
৫. জাতীয় সঞ্চয়পত্র ও বিশেষ তহবিল: সাধারণ জনগণের সঞ্চিত অর্থ সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় ও নির্মাণ সামগ্রীর অর্থায়ন নিশ্চিত করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা কাজে লাগিয়েই সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে এ বৃহৎ অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও