‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০২৫

‍পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

জনাব 'X' এর দেশটি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার পর অতি স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক দলিল প্রণয়ন করে যা গণপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়। এই দলিলটি মূলনীতি ও মৌলিক অধিকার সম্বলিতএবং দুম্পরিবর্তনীয়।

  1. ক)

    গণপরিষদ কী

    (1)
  2. খ)

    খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি কেন গঠন করা হয়েছিল? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'X' এর দেশের সংবিধানটি তোমার পঠিত কোন দেশের সংবিধানের সাথে মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'X' এর দেশের সংবিধানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংবিধানের মূলনীতিসমূহের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    গণপরিষদ হলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত এমন একটি বিশেষ পরিষদ বা সভা, যার প্রধান কাজ কোনো দেশের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন ও কার্যকর করা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    একটি স্বাধীন দেশের জন্য শাসনব্যবস্থার মৌলিক বিধি-বিধান সংবলিত সংবিধানের প্রাথমিক রূপ বা খসড়া তৈরি করার উদ্দেশ্যে খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

    ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি করে ৩৪ সদস্যবিশিষ্ট খসড়া সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির মূল কাজ ছিল বিভিন্ন দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি সর্বজনীন ও গণতান্ত্রিক খসড়া সংবিধান রচনা করা, যা পরবর্তীতে গণপরিষদে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত অনুমোদনের পথ সুগম করে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব 'X' এর দেশের সংবিধানটির সাথে বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের মিল রয়েছে।

    বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে। স্বাধীনতার পর মাত্র দশ মাসের মধ্যে গণপরিষদ একটি লিখিত ও দুষ্পরিবর্তনীয় সংবিধান প্রণয়ন করে, যা ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গৃহীত এবং ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। এতে মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সন্নিবেশিত করা হয়েছিল।

    উদ্দীপকে বলা হয়েছে, জনাব 'X' এর দেশটি যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করে এবং অতি স্বল্প সময়ে গণপরিষদের মাধ্যমে মৌলিক দলিল প্রণয়ন করে, যা দুষ্পরিবর্তনীয় ও অধিকার সংবলিত। এই বৈশিষ্ট্যগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর

    উদ্দীপকে নির্দেশিত বাংলাদেশের ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূলনীতিসমূহ ছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা; যার তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী।

    ১. জাতীয়তাবাদ: বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ এবং ঐক্য বজায় রাখার অঙ্গীকার এই নীতির ভিত্তি। এটি সকল নাগরিককে একই জাতিসত্তার অনুভূতিতে আবদ্ধ করে।
    ২. সমাজতন্ত্র: শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও সাম্যবাদী সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে সমাজতন্ত্রকে অর্থনৈতিক মুক্তি হিসেবে মূলনীতি করা হয়।
    ৩. গণতন্ত্র: জনগণের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং সর্বস্তরে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে শাসন প্রতিষ্ঠা করাই এর মূল লক্ষ্য।
    ৪. ধর্মনিরপেক্ষতা: ধর্ম নিয়ে কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং সকল ধর্মের মানুষ সমান স্বাধীনতায় ধর্ম পালন করতে পারবে, এই নীতি রাষ্ট্রে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করে।

    পরিশেষে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনাকে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়িত করার জন্যই এই মূলনীতিগুলো সন্নিবেশিত করা হয়েছিল, যা দেশকে একটি আধুনিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্রে রূপান্তরের পথনির্দেশ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও

সম্পর্কিত প্রশ্ন