অর্থনীতি ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০১৯
অর্থনীতি ১ম পত্র প্রশ্ন
একটি ফার্মের শ্রমিকের মজুরি ও যোগান সম্পর্কিত তথ্য নিম্নরূপ:
মজুরি (টাকা) | শ্রমের যোগান
২০০ | ৫ জন
৪০০ | ৮ জন
৬০০ | ১০ জন
৮০০ | ৭ জন
- ক)(1)
মজুরি কী?
- খ)(2)
শ্রম ও শ্রমিককে অবিচ্ছেদ্য বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে শ্রমের যোগান রেখা অঙ্কন করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে ব্যবহৃত উপাত্ত কি বাস্তবসম্মত বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ। করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উৎপাদন কাজে শারীরিক বা মানসিক শ্রমের বিনিময়ে শ্রমিক যে পারিশ্রমিক বা অর্থ লাভ করে, তাকে মজুরি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
শ্রমিকের শরীর ও মানসিক শক্তি থেকে শ্রম নিঃসৃত হয়, তাই শ্রমিক ছাড়া শ্রমের কোনো অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।
শ্রম হলো একটি মানবিক উপাদান। অন্যান্য উৎপাদনের উপাদানের মতো শ্রমকে তার উৎস অর্থাৎ শ্রমিক থেকে আলাদা করে ক্রয়-বিক্রয় বা সংরক্ষণ করা যায় না। শ্রমিক যেখানে যায়, তার শ্রমও সেখানেই ব্যয়িত হয়। শ্রমিক উপস্থিত না থাকলে শ্রম পাওয়া সম্ভব নয়। তাই অর্থনীতিতে শ্রম ও শ্রমিককে পরস্পর অবিচ্ছেদ্য বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী শ্রমের যোগান রেখা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
অঙ্কন পদ্ধতি:
ভূমি অক্ষে (OX) শ্রমের যোগান (জন) এবং লম্ব অক্ষে (OY) মজুরি (টাকা) ধরা হলো।
১. মজুরি যখন ২০০ টাকা, তখন শ্রমের যোগান ৫ জন (বিন্দু a)।
২. মজুরি বৃদ্ধি পেয়ে ৪০০ টাকা হলে শ্রমের যোগান বেড়ে হয় ৮ জন (বিন্দু b)।
৩. মজুরি আরও বেড়ে ৬০০ টাকা হলে শ্রমের যোগান সর্বোচ্চ ১০ জন হয় (বিন্দু c)।
৪. মজুরি আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ টাকা হলে শ্রমের যোগান হ্রাস পেয়ে ৭ জন হয় (বিন্দু d)।এখন a, b, c এবং d বিন্দুগুলো যোগ করলে যে রেখা পাওয়া যায়, তা-ই হলো শ্রমের যোগান রেখা (SS)।
বৈশিষ্ট্য: রেখাটি প্রাথমিক অবস্থায় (২০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত) ডানদিকে উর্ধ্বগামী, কিন্তু মজুরি ৬০০ টাকা অতিক্রম করে ৮০০ টাকায় পৌঁছালে রেখাটি বাম দিকে বেঁকে যায়। এটি হলো পশ্চাৎমুখী শ্রমের যোগান রেখা (Backward Bending Supply Curve of Labour)।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে ব্যবহৃত উপাত্তটি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত। নিচে এর সপক্ষে যুক্তি বিশ্লেষণ করা হলো:
সাধারণত মজুরি বাড়লে শ্রমের যোগান বাড়ে, কারণ শ্রমিক বেশি উপার্জনের আশায় বেশি সময় বা বেশি সংখ্যক শ্রমিক কাজে যোগ দেয়। উদ্দীপকেও দেখা যায়, মজুরি ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ ও ৬০০ টাকা হলে শ্রমের যোগান ক্রমান্বয়ে ৫ জন থেকে ৮ জন ও ১০ জনে বৃদ্ধি পায়।
কিন্তু মজুরি যখন আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৮০০ টাকা হয়, তখন শ্রমের যোগান কমে ৭ জন হয়। এটি অর্থনীতির একটি বাস্তব ও স্বাভাবিক আচরণ। অর্থনীতিতে একে 'পশ্চাৎমুখী শ্রম যোগান' তত্ত্ব বলে। মজুরি যখন একটি নির্দিষ্ট উচ্চ স্তরে পৌঁছায়, তখন শ্রমিকের আয়ের প্রান্তিক উপযোগিতা কমে যায় এবং শ্রমিক কাজের চেয়ে বিশ্রাম ও অবসর (leisure) বেশি পছন্দ করে। একে আয়ের প্রভাব (Income effect) বলা হয়, যা বিকল্প প্রভাবকে (Substitution effect) ছাড়িয়ে যায়। ফলে উচ্চ মজুরিতে শ্রমিক কাজ কমিয়ে দিয়ে অবসর উপভোগ করতে চায়।
সুতরাং, উচ্চ মজুরিতে শ্রমিকের কাজ কমিয়ে বিশ্রামের প্রবণতা মানব চরিত্রের এক স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হওয়ায় উদ্দীপকের তথ্যগুলো সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও