জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • Jashore Board • যশোর বোর্ড ২০২১
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
নমুনা উদ্ভিদ-১ ধান, গম ও সয়াবিন।নমুনা উদ্ভিদ-২: আখ, ভুট্টা ও মুথা ঘাস
- ক)(1)
লিমিটিং ফ্যাক্টর কী?
- খ)(2)
পুষ্পসংকেত বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকের নমুনা উদ্ভিদ-১ এর কার্বন আত্তীকরণ এর ধাপসমূহ বর্ণনা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের নমুনা উদ্ভিদ-২ এর কার্বন আত্তীকরণের গতিপথের গুরুত্ব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া একাধিক প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হলে, যে প্রভাবকটির পরিমাণ সবচেয়ে কম বা সর্বনিম্ন থাকে এবং প্রক্রিয়াটির হারকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে, তাকে লিমিটিং ফ্যাক্টর (Limiting factor) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
যে সংকেতের সাহায্যে উদ্ভিদের ফুলের বিভিন্ন স্তবকের সংখ্যা, বিন্যাস, পুং ও স্ত্রী বৈশিষ্ট্য, প্রতিসাম্যতা, স্তবকগুলোর সংযুক্তি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রতীক চিহ্নের মাধ্যমে সংক্ষেপে প্রকাশ করা হয়, তাকে পুষ্পসংকেত (Floral formula) বলে। যেমন: জবা ফুলের পুষ্পসংকেত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা উদ্ভিদ-১ (ধান, গম, সয়াবিন) হলো C3 উদ্ভিদ। এদের কার্বন আত্তীকরণ ক্যালভিন চক্র বা C3 গতিপথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এর প্রধান ধাপগুলো নিচে বর্ণিত হলো:
১. কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ও স্থিতিকরণ: পাতার মেসোফিল কোষে অবস্থিত ৫-কার্বনযুক্ত রাইবুলোজ ১,৫-বিসফসফেট (RuBP) পরিবেশের CO2-এর সাথে রুবিক্লো (RuBisCO) এনজাইমের উপস্থিতিতে যুক্ত হয়ে একটি অস্থায়ী ৬-কার্বনবিশিষ্ট কিটো এসিড গঠন করে। এটি ভেঙে তাৎক্ষণিকভাবে ২ অণু ৩-কার্বনবিশিষ্ট ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড (3-PGA) উৎপন্ন করে। এটিই ক্যালভিন চক্রের প্রথম স্থায়ী পদার্থ।
২. ফসফোগ্লিসারিক এসিডের বিজারণ: এটিপি এবং NADPH+H+ এর সহায়তায় ৩-ফসফোগ্লিসারিক এসিড বিজারিত হয়ে ৩-ফসফোগ্লিসারালডিহাইড (3-PGAL) এবং ডাইহাইড্রক্সি অ্যাসিটোন ফসফেট (DHAP) উৎপন্ন করে।
৩. শর্করা উৎপাদন ও RuBP পুনরুৎপাদন: উৎপাদিত ট্রায়োজ ফসফেটের কিছু অংশ পরস্পর মিলিত হয়ে ফ্রুক্টোজ ১,৬-বিসফসফেট এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্লুকোজ তৈরি করে। বাকি অংশ জটিল কতগুলো চক্রীয় বিক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় রাইবুলোজ ১,৫-বিসফসফেট (RuBP)-এ রূপান্তরিত হয়, যাতে চক্রটি সচল থাকতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের নমুনা উদ্ভিদ-২ (আখ, ভুট্টা, মুথা ঘাস) হলো C4 উদ্ভিদ, যাতে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্রের মাধ্যমে কার্বন আত্তীকরণ ঘটে। এই গতিপথটির পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
১. উচ্চ সালোকসংশ্লেষণ হার: C4 উদ্ভিদের মেসোফিল কোষে PEP কার্বক্সিলেজ এনজাইমের CO2-এর প্রতি তীব্র আসক্তি থাকে। ফলে বায়ুমণ্ডলে CO2-এর ঘনমাত্রা খুব কম থাকা সত্ত্বেও এরা দ্রুত এবং দক্ষতার সাথে কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করতে পারে।
২. আলোকশ্বসন (Photorespiration) অনুপস্থিতি: C4 উদ্ভিদে আলোকশ্বসন হয় না বললেই চলে। ফলে C3 উদ্ভিদের মতো এদের অর্জিত শক্তির কোনো অপচয় হয় না এবং খাদ্য উৎপাদনের হার বেশি হয়।
৩. প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীলতা: C4 গতিপথের কারণে এই উদ্ভিদগুলো উচ্চ তাপমাত্রা, তীব্র সূর্যালোক এবং শুষ্ক বা খরা পরিস্থিতিতেও স্টোমাটা আংশিক বন্ধ রেখে সালোকসংশ্লেষণ চালু রাখতে পারে।
৪. ক্র্যাঞ্জ অ্যানাটমি: বান্ডল সিথ কোষ ও মেসোফিল কোষের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ অ্যানাটমির জন্য খাদ্য পরিবহন দ্রুত ও সহজ হয়।
৫. উচ্চ ফলনশীলতা: শক্তি অপচয় কম হওয়ায় আখ ও ভুট্টার মতো C4 ফসলগুলোতে অধিক বায়োমাস ও ফলন পাওয়া যায়, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং, উল্লিখিত গতিপথটি C4 উদ্ভিদের উচ্চ উৎপাদনশীলতা ও পরিবেশীয় অভিযোজনের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও