পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Sylhet Board • সিলেট বোর্ড ২০১৭
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন

- ক)(1)
প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল কাকে বলে?
- খ)(2)
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
'?' চিহ্নিত বিভাগটির কার্যাবলি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নির্দেশিত ছকে (?) চিহ্নিত বিভাগটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?- বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, বরখাস্ত ও চাকরির অন্যান্য শর্তাবলি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সংবিধানের ১১৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গঠিত বিশেষ আদালতকে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ছিল বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ এবং মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রেরণা।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্স ময়দানে এ ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি শোষক ও দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা দেন। ভাষণে তিনি সামরিক আইন প্রত্যাহার, সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। তাঁর উদাত্ত আহ্বানে—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। তাই এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে এক অনন্য ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে '?' চিহ্নিত বিভাগটি হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের 'হাইকোর্ট বিভাগ'।
হাইকোর্ট বিভাগের প্রধান কার্যাবলি নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. আদি এখতিয়ার: কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে হাইকোর্ট সরাসরি মামলা গ্রহণ ও বিচার করতে পারে; যেমন—কোম্পানি আইন, নৌ-বাণিজ্য, পেটেন্ট ও কপিরাইট সংক্রান্ত মামলা।
২. আপিল এখতিয়ার: অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট আপিল ও রিভিশন গ্রহণ করে এবং শুনানি সম্পন্ন করে।
৩. রিট এখতিয়ার: নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বলবৎ করার জন্য সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগ উপযুক্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে নিষেধাজ্ঞা, পরমাদেশ (Mandamus), বন্দি প্রদর্শন (Habeas Corpus), কারণ দর্শাও (Quo-Warranto) এবং উৎপ্রেষণ (Certiorari) ইত্যাদি রিট বা আদেশ জারি করতে পারে।
৪. অধস্তন আদালত তত্ত্বাবধান: হাইকোর্ট বিভাগের অধস্তন সকল আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করে।
৫. সংবিধানের ব্যাখ্যা: সংবিধানের কোনো ধারার অস্পষ্টতা দেখা দিলে বা আইনগত ব্যাখ্যা সংক্রান্ত কোনো প্রশ্ন অধস্তন আদালতে উত্থাপিত হলে হাইকোর্ট তা নিজের কাছে নিয়ে নিষ্পত্তি করতে পারে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের ছকে নির্দেশিত '?' চিহ্নিত বিভাগটি হলো বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের 'হাইকোর্ট বিভাগ'। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
আইনের শাসনের মূল কথা হলো আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা, সকলের জন্য আইনের সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ। এ ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের ভূমিকা নিম্নরূপ:
১. মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ: সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় হাইকোর্ট বিভাগ রিট জারি করতে পারে। কোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হলে হাইকোর্ট তা পুনর্বহাল করে আইনের শাসন সুরক্ষিত করে।
২. নির্বাহী বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধ: সরকারের যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বা আইন যদি সংবিধান পরিপন্থী হয়, তবে হাইকোর্ট বিভাগ তা বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারে। বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার (Judicial Review) মাধ্যমে নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে আইনের সীমার মধ্যে আবদ্ধ রাখা হয়।
৩. অধস্তন আদালতের তদারকি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ: হাইকোর্ট বিভাগ জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সকল অধস্তন আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করে, যা নিম্ন আদালতে বিচারপ্রার্থীদের জন্য সুষ্ঠু ও পক্ষপাতহীন বিচার নিশ্চিত করে।
৪. স্বপ্রণোদিত উদ্যোগ (Suo Motu): সাধারণ মানুষের অধিকার খর্ব হলে বা জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে সংবাদমাধ্যমের খবরের ভিত্তিতে বা আদালতের নজরে এলে হাইকোর্ট স্বপ্রণোদিত আদেশ (Suo Motu Rule) প্রদান করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।
সুতরাং, হাইকোর্ট বিভাগ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে, আইনের সঠিক প্রয়োগ ঘটিয়ে এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিহত করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও