অর্থনীতি ২য় পত্র • Mymensingh Board • ময়মনসিংহ বোর্ড ২০২২
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
মিসেস ফারজানা একজন নারী উদ্যোক্ত্যা। তিনি স্ব- অর্থায়নে ঘরোয়া পরিবেশে বাঁশ ও বেতের দ্বারা বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রী তৈরি করেন। তাকে এ কাজে তার স্বামী সহযোগিতা করেন। ইদানিং তার উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু তার পুঁজি স্বল্প। ঋণের জন্য তিনি একটি ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেন। প্রতিষ্ঠানটি তাকে সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ঋণের অর্থ দ্বারা উৎপাদন বাড়িয়ে তিনি বেশ ভালো মুনাফা অর্জন করছেন।
- ক)(1)
শিল্প কী?
- খ)(2)
ফার্ম কি শিল্প হতে পারে?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসেস ফারজানার উৎপাদনকে কোন ধরনের শিল্প বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উদ্দীপকে উল্লিখিত শিল্পের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
অর্থনীতিতে সমজাতীয় বা একই ধরনের দ্রব্য বা সেবা উৎপাদনে নিয়োজিত সকল ফার্মের সমষ্টিকে একত্রে শিল্প বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
সাধারণত একটি একক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম এবং সমজাতীয় পণ্য উৎপাদনে নিয়োজিত সকল ফার্মের সমষ্টিকে শিল্প বলা হয়। তবে কোনো বাজারে যদি একটিমাত্র ফার্মই সম্পূর্ণ পণ্যের একক যোগানদাতা বা উৎপাদক হয় (যেমন—একচেটিয়া বাজারে), তবে সেই ফার্মটি নিজেই সমগ্র শিল্প হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ, একচেটিয়া প্রতিযোগিতাহীন বাজারে কোনো পৃথক প্রতিযোগী ফার্ম না থাকায় একটি ফার্মই শিল্প রূপ ধারণ করতে পারে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত মিসেস ফারজানার উৎপাদন কর্মকাণ্ডটি 'কুটির শিল্প' (Cottage Industry)-এর অন্তর্ভুক্ত।
যে শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রধানত পারিবারিক সদস্যদের শ্রমের ওপর ভিত্তি করে স্বল্প পুঁজিতে ঘরোয়া পরিবেশে স্থানীয় কাঁচামাল ও সনাতন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পরিচালিত হয়, তাকে কুটির শিল্প বলে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী, সাধারণত পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য থাকে এবং মূলধন ও জনবল অত্যন্ত সীমিত হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিসেস ফারজানা স্ব-অর্থায়নে ঘরোয়া পরিবেশে স্থানীয় কাঁচামাল (বাঁশ ও বেত) দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করেন এবং এ কাজে তার স্বামী সহযোগিতা করেন। এখানে কারখানার কোনো আনুষ্ঠানিক বা বড় পরিকাঠামো নেই এবং পারিবারিক শ্রমেই পণ্য প্রস্তুত হচ্ছে। সুতরাং, মিসেস ফারজানার উৎপাদনটি সুস্পষ্টভাবে কুটির শিল্পের বৈশিষ্ট্য বহন করে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল ও ঘনবসতিপূর্ণ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে মিসেস ফারজানার মতো কুটির শিল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
১. কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেকারত্ব দূরীকরণ: কুটির শিল্প শ্রমঘন হওয়ায় অল্প পুঁজিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের, বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও যুব সমাজের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে।
২. নারীর ক্ষমতায়ন: উদ্দীপকে যেমন মিসেস ফারজানা স্বাবলম্বী হয়েছেন, তেমনি কুটির শিল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীরা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ পায়, যা নারীর সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষমতায়ন ঘটায়।
৩. স্থানীয় কাঁচামালের সঠিক ব্যবহার: বাঁশ, বেত, পাট ও মাটির মতো স্থানীয় প্রাকৃতিক কাঁচামাল ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি তৈরি করা যায়, ফলে অপচয় রোধ হয়।
৪. স্বল্প পুঁজি ও সহজ ব্যবস্থাপনা: এ ধরনের শিল্পে বড় অঙ্কের মূলধনের প্রয়োজন হয় না; সহজ শর্তে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে সাধারণ মানুষ উৎপাদন কাজ চালু রাখতে পারে।
৫. ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও রফতানি সম্ভাবনা: দেশের লোকশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব এসব পণ্য বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
অতএব, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাসে কুটির শিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও