বাংলা ১ম পত্র • Barishal Board • বরিশাল বোর্ড ২০২৪
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা ছিলেন টিপু সুলতান। তিনি তাঁর শৌর্যবীর্যের কারণে 'শের-ই-মহীশূর' নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতে, "ভেড়া বা শেয়ালের মতো দু'শ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুদিন বেঁচে থাকাও ভালো।" এই মহান শাসক নিজের দেশের স্বাধীনতার জন্য ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে নিহত হন ১৭৯৯ সালে। কিন্তু তাঁর এই পরাজয়ের মূল কারণ ছিলো তাঁরই সেনাপতি মির সাদিক। মির সাদিক লোভে পড়ে ব্রিটিশদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল।
- ক)(1)
'জগৎশেঠ' কার উপাধি?
- খ)(2)
"দেশপ্রেমিকের রক্ত যেন আবর্জনার স্তুপে চাপা না পড়ে।"-ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের টিপু সুলতানের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাদৃশ্য বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
"উদ্দীপকের মির সাদিক যেন বিশ্বাসঘাতক মির জাফরেরই প্রতিচ্ছবি" উদ্দীপক ও 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের আলোকে মূল্যায়ন কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
'জগৎশেঠ' হলো ফতেহচাঁদের উপাধি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উক্তিটি দ্বারা দেশপ্রেমে আত্মোৎসর্গকারী বীর সেনানীদের সম্মান ও স্মৃতি রক্ষা করার উদাত্ত আহ্বান প্রকাশ করা হয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে পলাশীর যুদ্ধে কামানের গোলার আঘাতে দেশপ্রেমিক সেনাপতি মীর মদন মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই শাহাদাত ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সিরাজউদ্দৌলা নির্দেশ দেন যাতে মীর মদনকে পরম শ্রদ্ধার সাথে সমাহিত করা হয়। দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যাঁরা প্রাণ বিসর্জন দেন, তাঁদের আত্মদান যেন বিস্মৃত হয়ে অযত্ন-অবহেলায় বা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে হারিয়ে না যায়—সেই গভীর অনুভূতি থেকেই নবাব এ কথা ব্যক্ত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের টিপু সুলতানের সাথে 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের নবাব সিরাজউদ্দৌলার স্বদেশের স্বাধীনতা রক্ষা, ইংরেজদের বিরুদ্ধে আপসহীন প্রতিরোধ এবং শেষ পর্যন্ত দেশপ্রেমের জন্য আত্মাহুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গভীর সাদৃশ্য রয়েছে।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে নবাব সিরাজউদ্দৌলা বাংলার স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে ইংরেজ বেনিয়া শক্তির বিরুদ্ধে আমৃত্যু সংগ্রাম করেছেন। তিনি ইংরেজদের চক্রান্ত নস্যাৎ করতে যুদ্ধ করেছেন এবং স্বজাতির বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হয়েও কখনো ইংরেজদের কাছে মাথা নত করেননি।
উদ্দীপকে মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে আজীবন বীরবিক্রমে লড়াই করেছেন। তাঁর নীতি ছিল শিয়ালের মতো দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার চেয়ে বাঘের মতো স্বল্প সময়ের জন্য সম্মানের সাথে বাঁচা শ্রেয়। তিনি স্বদেশের স্বাধীনতার জন্য ১৭৯৯ সালে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে মৃত্যুবরণ করেন। নাটকের সিরাজউদ্দৌলাও একইভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে গিয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করেছেন। অতএব, ব্রিটিশবিরোধী মনোভাব ও বীরোচিত দেশপ্রেমের দিক থেকে টিপু সুলতান ও নবাব সিরাজউদ্দৌলা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের মির সাদিক এবং 'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকের মির জাফর উভয়েই ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার মোহে নিজের দেশ ও শাসকের বিরুদ্ধে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে—এ দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ ও তাৎপর্যপূর্ণ।
'সিরাজউদ্দৌলা' নাটকে প্রধান সেনাপতি মির জাফর নবাবের সঙ্গে পবিত্র কুরআন স্পর্শ করে আনুগত্যের শপথ নিয়েছিল। কিন্তু নওয়াবি মসনদের লোভে সে গোপনে ব্রিটিশ সেনাপতি লর্ড ক্লাইভের সাথে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। পলাশীর প্রান্তরে তাঁর পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তার কারণে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতন ঘটে এবং বাংলা তার স্বাধীনতা হারায়। ফলে ইতিহাসে মির জাফর বিশ্বাসঘাতকতার মূর্ত প্রতীকে পরিণত হয়।
উদ্দীপকের মহীশূরের শাসক টিপু সুলতানের সেনাপতি মির সাদিকও একই ধরনের হীন চরিত্রের অধিকারী ছিল। টিপু সুলতান যখন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করছিলেন, তখন মির সাদিক ব্যক্তিগত স্বার্থ ও লোভে পড়ে গোপনে ব্রিটিশদের সহায়তা করে এবং নিজের প্রভুর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এর ফলেই টিপু সুলতানের পরাজয় ও মহীশূরের পতন ঘটে।
সুতরাং দেখা যায়, মির সাদিক ও মির জাফর উভয়েই দেশের স্বাধীনতা বিসর্জন দিয়ে ইংরেজদের দোসর হয়েছিল এবং স্বদেশের পিঠে ছুরিকাঘাত করেছিল। চরিত্র, কর্ম এবং বিশ্বাসঘাতকতার প্রকৃতির দিক থেকে উদ্দীপকের মির সাদিক যেন নাটকের মির জাফরেরই সার্থক প্রতিচ্ছবি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও