পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র • Cumilla Board • কুমিল্লা বোর্ড ২০১৯
পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র প্রশ্ন
মালিহার দেশটি স্বাধীনতার আট বছর পরে একটি সংবিধান প্রণয়ন করতে সক্ষম হয়। সংবিধানে নাগরিকদের কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলেও জনগণের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই । বিনা কারণেই জনগণকে গ্রেফতার করা হয়। জনগণের ভোটাধিকারসহ সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।
- ক)(1)
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি কয়টি?
- খ)(2)
ছয়দফার দুটি কর্মসূচি সম্পর্কে লেখ।
- গ)(3)
উদ্দীপকের আলোকে সংবিধান স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাকে কী বলে? বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির জনগণের সাথে তোমার দেশের জনগণের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধার তুলনামূলক আলোচনা কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ৪টি (জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা)।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ছয়দফা কর্মসূচির দুটি মূল দাবি হলো:
১. লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে সংবিধান রচনা করে পাকিস্তানকে একটি সত্যিকার ফেডারেশন বা যুক্তরাষ্ট হিসেবে গঠন করা এবং সেখানে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার থাকবে, যার আইনসভা হবে সার্বভৌম।
২. ফেডারেল সরকারের হাতে কেবল দুটি বিষয় থাকবে— দেশরক্ষা এবং পররাষ্ট্র নীতি; বাকি সব বিষয় অঙ্গরাজ্যগুলোর হাতে ন্যস্ত থাকবে। - গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের আলোকে সংবিধানে স্বীকৃত সুযোগ-সুবিধাকে 'মৌলিক অধিকার' (Fundamental Rights) বলা হয়।
নাগরিকের ব্যক্তিত্বের পূর্ণ বিকাশ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত ও সংরক্ষিত অপরিহার্য সুযোগ-সুবিধাগুলোকে মৌলিক অধিকার বলে। এগুলো নাগরিকের ব্যক্তিস্বাধীনতা ও সমতা রক্ষা করে এবং রাষ্ট্রের স্বেচ্ছাচারিতা থেকে ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেয়। সাধারণত বাকস্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা, ধর্ম পালনের স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা ইত্যাদিকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। উদ্দীপকে মালিহার দেশের সংবিধানে এসব অধিকারের স্বীকৃতি থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর না হওয়ায় জনগণ তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকের রাষ্ট্রটির পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সেখানে নাগরিকরা চরম অধিকারহীনতায় ভুগছে; পক্ষান্তরে, আমার দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের জনগণ সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারগুলো বাস্তবিকভাবে ভোগ করছে। নিম্নে এদের তুলনামূলক আলোচনা করা হলো:
১. জীবনের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা: উদ্দীপকের দেশে বিনা কারণে নাগরিকদের গ্রেফতার করা হয় এবং জীবনের নিরাপত্তা নেই। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধানের ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো নাগরিককে আইনসংগত কারণ ছাড়া জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা বা বিনা বিচারে আটক রাখা যায় না।
২. ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার: উদ্দীপকের রাষ্ট্রে ভোটাধিকার এবং সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা নেই। কিন্তু বাংলাদেশে নাগরিকরা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে এবং সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশের অধিকার ভোগ করে।
৩. ধর্মীয় স্বাধীনতা: উদ্দীপকের দেশে ধর্ম পালনে বাধা দেওয়া হয়। বিপরীতে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের পূর্ণ অধিকার ভোগ করে।সুতরাং, উদ্দীপকের দেশের নাগরিকরা যখন মৌলিক ও রাজনৈতিক অধিকার বঞ্চিত হয়ে দমন-পীড়নের মধ্যে বসবাস করছে, সেখানে বাংলাদেশের নাগরিকগণ একটি গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সুরক্ষার মধ্য দিয়ে তাদের অধিকার ভোগ করছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও