অর্থনীতি ২য় পত্র • Dhaka Board • ঢাকা বোর্ড ২০১৭
অর্থনীতি ২য় পত্র প্রশ্ন
সুজন ও সুমন বাল্যবন্ধু। ছাত্রজীবন শেষে সুজন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে এবং সুমন অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। বাংলাদেশের জনসংখ্যা সমস্যা নিয়ে একদিন তাদের মধ্যে তর্ক হয়। সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত দিয়ে বলেন জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ, কৃষি জমির পরিমাণ এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত জনসংখ্যা অভিশাপস্বরূপ। অন্যদিকে, সুমন মনে করেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়, বরং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাকে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আশির্বাদে পরিণত করা যায়।
- ক)(1)
আত্মকর্মসংস্থান বলতে কী বোঝায়?
- খ)(2)
'কোনো কোনো দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার (০)'- কীভাবে সম্ভব?
- গ)(3)
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামত ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশির্বাদে পরিণত করা যায়? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
নিজস্ব অর্থ, মেধা, শ্রম ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেই নিজের উপার্জনের ব্যবস্থা করাকে আত্মকর্মসংস্থান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
কোনো দেশে একটি নির্দিষ্ট সময়ে মোট জন্মহার ও মৃত্যুহার যদি সমান হয় এবং বহিরাগমন ও বহির্গমনের পার্থক্যও শূন্য হয়, তবে সে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য (০) হতে পারে। অর্থাৎ, নিট জনসংখ্যা বৃদ্ধি না হলে এবং জন্ম ও অভিবাসনের ফলে জনসংখ্যা যতটুকু বৃদ্ধি পায়, মৃত্যু ও প্রবাসের ফলে ঠিক সমপরিমাণ জনসংখ্যা হ্রাস পেলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য (০) হয়। সাধারণত উন্নত দেশসমূহে সচেতনতা ও পরিকল্পিত জীবনযাপনের কারণে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই খুব কম ও প্রায় সমান থাকে, যার ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার শূন্য হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
জনসংখ্যা সম্পর্কিত সুজনের মতামতটি ম্যালথাসের জনসংখ্যা তত্ত্ব এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। উদ্দীপকে সুজন পরিসংখ্যানিক উপাত্ত তুলে ধরে বলেন যে, জনসংখ্যার ঘনত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং সীমিত কৃষিজমির বিবেচনায় অতিরিক্ত জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য একটি অভিশাপ।
বাংলাদেশে ভৌগোলিক আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যধিক বেশি। সীমিত আবাদি জমিতে বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা মেটাতে গিয়ে কৃষিতে প্রান্তিক উৎপাদনশীলতা হ্রাস পাচ্ছে এবং ছদ্মবেশী বেকারত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া শিল্প ও সেবা খাতে চাহিদানুযায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় বিপুল জনগোষ্ঠী বেকার থাকছে, যা দারিদ্র্য, পুষ্টিহীনতা, বাসস্থান ও স্বাস্থ্য সমস্যার মতো বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক সংকট তৈরি করছে। সুজনের মতে, সীমিত সম্পদের তুলনায় জনসংখ্যা অতিরিক্ত হলে তা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতিকে মন্থর করে দেয় এবং জাতীয় জীবনে অভিশাপ হিসেবে দেখা দেয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর
উদ্দীপকে সুমনের মতানুযায়ী, অতিরিক্ত জনসংখ্যা সবসময় অভিশাপ নয়; বরং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এই জনসংখ্যাকে মানবসম্পদে রূপান্তর করে আশির্বাদে পরিণত করা সম্ভব।
অতিরিক্ত জনসংখ্যাকে অভিশাপ থেকে আশির্বাদে পরিণত করার জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা আবশ্যক:
১. শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও মানোন্নয়ন: সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।
২. স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি উন্নয়ন: একটি সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে সবার জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি, কারণ অসুস্থ ও দুর্বল জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল হতে পারে না।
৩. প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান: চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের সাথে তাল মিলিয়ে যুবসমাজকে তথ্যপ্রযুক্তি ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া।
৪. নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশ, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।
৫. দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি: আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও আধাদক্ষ শ্রমিক বিদেশে পাঠিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধি করা।পরিশেষে বলা যায়, উপযুক্ত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা গেলে অতিরিক্ত জনসংখ্যা আর দেশের জন্য বোঝা বা অভিশাপ থাকবে না, বরং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের মূল আশির্বাদে পরিণত হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও